ঢাকা, রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ নেতাদের আরো সক্রিয় চান কর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ০৮:৫৯ পিএম
আওয়ামী লীগ নেতাদের আরো সক্রিয় চান কর্মীরা

করোনা নিয়ে এক কঠিন পরিস্থিতি পার করছে আওয়ামী লীগ সরকার। সাড়ে ১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এই প্রথম ক্ষমতাসীন দলটি এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি। আর এই পরিস্থিতি একাই সামলাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

করোনা সঙ্কট মোকাবেলার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগ সরকার আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাধানের পথ খুঁজেছে। আমলাদেরকেই গুরুত্বপর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমলাদেরকে নিয়ে সঙ্কট মোকাবেলা সফল হয়নি বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। আর এর ফলে আরেকটা সমস্যা হয়েছে তা হলো আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নিজেদের গুটিয়ে রেখেছেন, সরকারের নীতিনির্ধারনী কর্মকাণ্ডে তাঁদের উপস্থিতি অনেক কম। আর একারণেই আমলারা ঘাড়ে চেপে বসেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। আর এই পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতারা চান কেন্দ্রীয় নেতাদের আরো সক্রিয় অংশগ্রহণ। আওয়ামী লীগের নেতারা চান যে, সভাপতি শেখ হাসিনার পাশে যেন নেতারা দাঁড়ান।

অনেকের মনেই প্রশ্ন যে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শেখ হাসিনার কি কোন দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছে? এমনটা মনে করেন না আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন যে কাজ তাঁদেরকে দিচ্ছেন সেই কাজ তাঁরা করছেন। করোনা মোকাবেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই কাজ করছেন এবং সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই করোনা পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয়। তাঁদেরকে উদ্যোগী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলা উচিত এবং প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করা উচিত বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের বেশকিছু নেতা আছেন যারা বিচক্ষণ, এরকম কঠিন সময় পার করতে তাঁদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে। যেমন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ কিংবা বেগম মতিয়া চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং অভিজ্ঞতা করোনা সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এই ৩ নেতাই নিজেদেরকে গুটিয়ে রেখেছেন। তোফায়েল আহমেদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা ভোলায় ত্রাণ তৎপরতা এবং করোনা সঙ্কট মোকাবেলার জন্যে ঢাকা থেকে নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ভোলা অন্যান্য এলাকাগুলো থেকে ভালো অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু জাতীয় ক্ষেত্রেও তাঁর অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা।

একই কথা আমির হোসেন আমুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আমির হোসেন আমু বা তোফায়েল আহমেদকে এই সময়ে আরো সক্রিয় দেখতে চান আওয়ামী লীগের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। বেগম মতিয়া চৌধুরী কিছুটা সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় অনেক কর্মকাণ্ডে তাঁকে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই কর্মকাণ্ড প্রকৃত মতিয়া চৌধুরীর ছায়ামাত্র বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা। তাঁরা মনে করেন যে, মতিয়া চৌধুরীকে আরো সক্রিয় হওয়া দরকার। বিভিন্ন সঙ্কটের সময়, বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সময় বেগম মতিয়া চৌধুরীকে যেরকম উদ্যোমী এবং উদ্যোগী দেখা গিয়েছিল, এখন সেরকম উদ্যোম এবং উদ্যোগ দেখা যায় না বললেই চলে। সুতরাং তাকেও এই সঙ্কটে আরো বেশি সক্রিয় দেখতে চান আওয়ামী লীগের কর্মীরা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শারীরিক অসুস্থতার জন্যে বাড়িতে থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন। তবে তাঁকেও আরো বেশি সক্রিয় দেখতে চান নেতাকর্মীরা। তিনি ঘরে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যেন বিভিন্ন জেলার সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে যুক্ত থাকেন, বিভিন্ন পরামর্শ দেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের মন্ত্রীদের বিভিন্ন খোঁজখবর রাখা উচিত বলে মনে করেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির আগে ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। যখন পেঁয়াজ সঙ্কট দেখা দিয়েছিল তখন তিনি বাণিজ্য মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন, গত বছর ডেঙ্গু প্রকোপের সময়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছিলেন। আওয়ামী লীগের এই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে সেভাবেই সক্রিয় দেখতে চান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের কর্মীরা মনে করেন যে, ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে জনগণের মনে যদি কোন প্রকারের হতাশা তৈরি হয় বা সরকারের ব্যাপারে কোন প্রকার অস্বস্তি তৈরি হয় সেটার দায় আওয়ামী লীগের উপরেই আসবে, আমলাদের উপরে নয়। কাজেই এখন রাগ-অভিমান এবং কাকে মর্যাদা দেওয়া হলো, কাকে দেওয়া হলোনা- এসব বিচার-বিশ্লেষণ করার সময় নয়। এখন সময় আওয়ামী লীগ সভাপতির পাশে দাঁড়ানো। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি সক্রিয় থাকে, সজাগ থাকে তাহলে যেকোন প্রকারের সঙ্কট থেকে সরকারকে মুক্ত করা সম্ভব হবে। আর এইজন্যেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সক্রিয় ভূমিকার দাবিতে ক্রমশ সরব হচ্ছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা।