ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনায় আওয়ামী লীগে দৃষ্টান্ত যারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ জুলাই ২০২০ বুধবার, ০৯:০০ এএম
করোনায় আওয়ামী লীগে দৃষ্টান্ত যারা

করোনাকালে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন রাজনীতিবিদরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ত্রাণের জিনিসপত্র আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। আর স্থানীয় এমপিদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যারা ব্যবসায়ী, কোটিপতি, ধনী এমপিরা রয়েছেন, তারা ঢাকায় বসে আছেন। এলাকার কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। এই রকম অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে সমালোচনার মধ্যেও আওয়ামী লিগের অনেক নেতা এলাকায় নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের অভাব অনটন দুঃখ দুর্দশা দূর করার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন এবং জনগণের ভালবাসায় তারা সিক্ত হয়েছেন। এ রকম কয়েকজনকে নিয়েই এই প্রতিবেদন-

শামীম ওসমান  

এক বৃদ্ধ দম্পতির শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে সরকারী বেসরকারী কোন হাসপাতালই তাদের ভর্তি নিচ্ছিলনা। পরে বিষয়টি জানতে পেরে শামীম ওসমান মোবাইল ফোনে কথা বলে তাদের ভর্তির ব্যবস্থা করেন। বিএনপির কাউন্সিলর খোরশেদ মানুষের জন্য কাজ করছিলেন। করোনা আক্রান্ত খোরশেদ ও তার স্ত্রীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা শামীম ওসমান নিজে করে দেন। শামীম ওসমানের এমন জনবান্ধব কাজের খবর প্রায় প্রতিদিনই পাওয়া যায়। নারায়ণগঞ্জের এমপি শামীম ওসমান করোনা সংকটের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিকটতম বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রথমত, তিনি দুর্গতদের ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, তার এলাকার করোনায় আক্রান্তরা যাতে চিকিৎসা পায় তা নিশ্চিত করছেন। তার উদ্যোগে করোনা পরীক্ষার ল্যাব প্রতিষ্ঠা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। শুধু তা-ই নয়, নারায়ণগঞ্জে করোনায় যারা মারা যাচ্ছে তাদের দাফন যাতে ঠিকমতো হয় সেই ব্যাপারেও তিনি তদারকি করছেন। নারায়ণগঞ্জে আইসিইউর জন্য তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে ধর্ণা দিয়েছেন, শেষমেষ আল্টিমেটাম দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে নিজ এলাকায় দুটি হসপিটালে আইসিইউর ব্যবস্থা করেন। তবে শামীম ওসমান এ সময় আরো এক কারণে আলোচিত হন। মানুষের সেবায় কমতি থাকায় হাতজোড় করে ক্ষমা চান। নিজ দলের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অক্ষমতাকেও তিনি তুলোধুনো করেন।  

আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম

মানুষের জন্য কাজ করতে হলে যে কোনো পদ পদবীর দরকার পড়ে না, সেটা প্রমাণ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার ও ফেনী ইউনিভার্সিটি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্য্যান আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম। সরকারের কোনো পদে না থেকেও তিনি তার এলাকাবাসীর জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। ফেনীতে ঘরে থাকা কর্মহীনদের জন্য ৭০ মেট্টিক টন চাল দিয়েছেন। আলাউদ্দিন নাসিম পরিচালিত সালেহউদ্দিন-হোসনে আরা চৌধুরী ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিটে ৪০ শয্যা হাই ফ্লো অক্সিজেন সেবা নিশ্চিতে ১০টি ম্যানিফোল্ড অক্সিজেন সিলিন্ডার, ৪৫টি অক্সি-মিটার এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য ১০টি বেড সাইড অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়েছে। ফেনীর পাঁচ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেম স্থাপনেও অর্থায়ন করেন আলাউদ্দিন নাসিম।

নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন

বিতর্কিত এমপি নুরুন্নবী শাওন করোনা সংকটের সময় যেন অন্য আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছেন। তিনি তার নির্বাচনী এলাকায় পড়ে আছেন। তিনি তার এলাকার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সারাক্ষণ ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রেখে তিনি মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

একরামুল করিম চৌধুরী

নোয়াখালীর ‘মাটি ও মানুষের নেতা’ বলে খ্যাত এমপি একরাম। নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এমরামুল করিম চৌধুরী। তিনি একদিকে যেমন মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন, তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলিষ্ট কন্ঠস্বর। কি নিজ দল কে কত ক্ষমতাবান, দেশের স্বার্থে কাউকে ছেড়ে কথা বলছেন না। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে মাফিয়া ডন মিঠু, সবার দুর্নীতি অক্ষমতা নিয়ে কথা বলেছেন। এই জনদরদি মানুষটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিতে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে স্থানীয় জেলা প্রশাসককে (ডিসি) ৫০ লাখ টাকা দেন। পাশাপাশি নোয়াখালীর ৬০-৭০ হাজার পরিবারের মধ্যে নিজ কর্মী বাহিনী দিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। নিজ এলাকার মানুষ যাতে না খেয়ে না থাকে সে জন্য গঠন করেন ‘একরামুল করিম চৌধুরী ফাউন্ডেশন’। সেখানে দ্বিতীয় দফায় হতদরিদ্রদের খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জাম বাবদ দেন আরও ৩৮ লাখ টাকা।

একরাম চৌধুরী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গঠন করেন ‘ইমার্জেন্সি ফুড ক্রাইসিস রেসপন্স টিম’। এরপর নোয়াখালীতে করোনা পরীক্ষা করার জন্য ল্যাব কার্যক্রম শুরু করা বাবদ দেন ৫ লাখ টাকার অনুদান। শুধু নিজ এলাকায় নয়, করোনায় মৃত্যুবরণকারী সম্মুখযোদ্ধাদের পরিবারের প্রতিও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে যান এমপি একরাম। করোনায় মৃত্যুবরণকারী প্রথম ডা. মহিনের পরিবারকে ২ লাখ টাকা দেন তিনি। পাশাপাশি মৃত ৫ সাংবাদিক ও ১৪ পুলিশ সদস্যের প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেন তিনি। এমনিভাবে প্রতিনিয়তই তিনি থাকছেন করোনা আক্রান্ত ও করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে।

মাশরাফি বিন মর্তুজা

করোনা সংকটের শুরু থেকেই মাশরাফি বিন মর্তুজা নড়াইলের জন্য অন্যরকম ভাবে কাজ করছেন। তিনি এলাকায় যেমন ত্রাণ তৎপরতা চালিয়েছেন, তেমনি মানুষকে সচেতন করা এবং অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার ব্যাপারেও তার উদ্যোগ প্রশংসা পেয়েছে। তিনি নিজে এবং তার স্ত্রীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যেও তিনি তার এলাকাবাসীর খোঁজ খবর রাখছেন এবং সাধ্যমতো তাদের সাহায্য করার চেষ্টা করছেন।