ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্যেই, রাজনীতি ব্যবসায়ী বা আমলাদের জন্যে নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার, ০৫:৫৯ পিএম
‘রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্যেই, রাজনীতি ব্যবসায়ী বা আমলাদের জন্যে নয়’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্যেই, রাজনীতি ব্যবসায়ী বা আমলাদের জন্যে নয়। বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই বছর আগেই অনুপ্রবেশকারীদের দল থেকে বিতাড়িত করার নির্দেশনা দেওয়ার পরেও কেন সাহেদদের মতো ঘটনাগুলো ঘটছে এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘সাহেদরা মূলত প্রতারক। প্রতারণা করাই এদের স্বভাব। এরা আশকারা পেয়ে পেয়েই এই অবস্থানে আসে। কেউ না কেউ তো এদের আশকারা দেয়, কেউ না কেউ তো এদের পৃষ্ঠপোষকতা করে। ধারাবাহিকভাবেই এদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে আসা হচ্ছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবেও এদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হয়। সাহেদের সঙ্গে যে বিভিন্ন নেতাদের ছবি এটাও সাহেদদের একটা অপকৌশল। কেউ কেউ জেনে করে এবং কেউ কেউ যে না জেনে করে এটাও সত্য।’

অনুপ্রবেশকারীদের অপকর্মের জন্য বদনামটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের। এই বদনাম ঠেকানোর জন্য অনুপ্রবেশকারীদের দলে প্রবেশ বন্ধ করার জন্য আওয়ামী লীগ কি ভাবছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এই অনুপ্রবেশ যেন না ঘটে এজন্য আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেই তালিকায় থাকা অনুপ্রবেশকারীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও তিনি আমাদের সবসময়ের জন্যে সতর্ক থাকতে বলেছেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘যে অসামাজিক, প্রতারক, খুনী, স্বাধীনতা বিরোধী, দুর্নীতিবাজ জামাত-বিএনপিদের কোন লোক যেন অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দলের সুনাম, ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন না করতে পারে এজন্য আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক- যারা বিভিন্ন পর্যায়ে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থেকে দলের নেতৃত্ব দেয় তাঁদেরকে সচেতন থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিজেও দৃষ্টি রাখেন, আমাদেরকেও দৃষ্টি রাখার দায়িত্ব দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের দায় তো কিছু কিছু আছেই যে, এখনো আমরা দলকে সম্পূর্ণভাবে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করতে পারিনি।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুর্দিনেও কাজ করেছে, এখন এই করোনা সংকটেও কাজ করছেন। এই অবস্থাতেও যে সকল প্রতারকরা আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় তাঁদের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছেন বলে তিনি বলেন,‘ আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের যে পবিত্র দল আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং এই ধরণের অপকর্ম এবং অসামাজিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে দলের ভেতরে-বাইরে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো, আন্দোলন করবো, আমরা মানুষের প্রিয় রাজনীতি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠা করবো। যারা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের হয়ে কাজ করেছে তাঁদেরকে ঐক্যবদ্ধ করে সাবেক ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ, সাবেক তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ, যারা ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ করেছে। ছাত্রলীগ করেছে, যুবলীগ করেছে, কৃষক লীগ করেছে, শ্রমিক লীগ করেছে, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ সহ সবাইকে নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করার আন্দোলন চলবে।

আওয়ামী লীগ এখন আমলা আর ব্যবসায়ীদের দখলে চলে যাচ্ছে কিনা এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আসলে কারো দখলে যায়নি। আওয়ামী লীগ এখনো সাধারণ মানুষের প্রিয় সংগঠন, তাঁদের দখলেই রয়েছে। এদেশের জনগণের সংগঠন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সংগঠন এবং তৃণমূলই হচ্ছে আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। নেতাকর্মীরাই আওয়ামী লীগের ঝড়ঝাপটা এবং বিপদের মুহুর্তে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, তারাই আওয়ামী লীগকে জনগণের সামনে তুলে ধরে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে ব্যবসায়ীরা দখল করতে সক্ষম হয়নি। তবে হ্যা, ব্যবসায়ী, প্রাক্তন আমলা এবং সুবিধাবাদীদের প্রবণতা সবসময়ই ছিল। বাংলাদেশের সামরিক জান্তা, স্বৈরাচারের রাজনীতিকে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে নষ্ট করার কারণে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে আমাদের জাতির পিতাকে অকালে হারানোর কারণে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী, সুবিধাবাদীদের, চরিত্রহীনদের এবং দেশবিরোধী শক্তিদের পাকিস্তানের আইএসআই-এর নীলনকশা অনুযায়ী দেশের রাজনীতিকে নষ্ট করেছে, গণতান্ত্রিক চিন্তাচেতনাকে ধ্বংস করেছে এটা সত্য। এই ধরণের সুবিধাবাদী ব্যবসায়ীরা ব্যবসাও করবে এবং সেখান থেকে টাকা কামাই করে রাজনীতিতে ঢোকার অপচেষ্টা শুরু করেছে। এদের প্রবণতা সবসময়ই সরকারি দলে ঢোকা থাকে, এদের চরিত্রটাই এরকম। এরা চাকরি করবে, সকল ধরনের সরকারি সুযোগসুবিধা নেবে এবং চাকরি শেষে এরা রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার চেষ্টা করবে এবং যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছে তাঁদের পদকে বাঁধাগ্রস্ত করা, তাঁদেরকে নিরুৎসাহিত করা- এটাই হচ্ছে তাঁদের কর্মকাণ্ড। এটা একটা দেশের জন্য, একটা জাতির জন্য এবং আওয়ামী লীগের মতো একটি জনপ্রিয় সংগঠনের জন্য কোন ভাল লক্ষণ নয়। এটা আওয়ামী লীগকে এখনো দখল করতে না পারলেও একটি অপচেষ্টা চলছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে এরা কিছুটা সফল হওয়ার চেষ্টা করছে। যা হতাশাজনক। আওয়ামী লীগে এমন সুবিধাবাদীদের পাকাপোক্ত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন,‘আমি মনে করি, যতদিন শেখ হাসিনা নেতৃত্বে আছেন, আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করবেন ততদিন পর্যন্ত আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এদেরকে দেশের স্বার্থবিরোধী কোন কাজ করা থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হবো এবং এদেরকে মাথাচড়া দিয়ে ওঠার কোন সুযোগ দিবোনা। এরা আগাও খাবে, গোড়াও খাবে- তা তো হতে পারেনা। রাজনীতির নামে ব্যবসায়ীরা টাকা কামাইয়ের চেষ্টা করবে-ধান্দা করবে তা আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা খুব ভাল করেই জানি। তাই তাঁদের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সতর্ক। এদেরকে নিরুতসাহিত করতে হবে এবং সত্যিকারের রাজনীতিবিদ যারা দেশকে ভালোবাসে, মানুষকে ভালোবাসে তাঁদেরকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা মেধাবী, যারা দীর্ঘদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করছে, পরীক্ষিত, মানুষ যাঁদের উপর ভরসা করতে পারে তাঁদেরকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে। আমি মনে করি, রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্যেই, রাজনীতি ব্যবসায়ীদের জন্যে নয়। চাকরীজীবি যারা সারাজীবন জনগণের টাকায় চাকরি করে সেখান থেকে পেনশন নিয়ে এসে হঠাত করে আবার রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়াটা আশাব্যঞ্জক কিছু নয়। তাই আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি এবং চেষ্টা করছি যে, এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে রাজনীতিকে রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে যে জগাখিচুড়ী রাজনীতি শুরু হয়েছিল, নীতিহীনদের-আদর্শহীনদের একটা জোট বা ক্লাব গঠনের মাধ্যমে দল গঠন, দেশ শাসন, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’