ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘অনুপ্রবেশকারীরা ক্ষতিকর হলেও হাইব্রিডরা নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২০ রবিবার, ০৫:৫৯ পিএম
‘অনুপ্রবেশকারীরা ক্ষতিকর হলেও হাইব্রিডরা নয়’

‘এমপি আবদুল খালেক সাহেব একটা কথা বলেছিলেন যে, আমি তো বদলাই না, সরকার বদলে যায়। অনেকে আছেন প্রেজেন্ট গভর্নেন্ট পার্টি। তাঁরা কোন না কোনভাবে আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতী-গোষ্ঠী, বন্ধু-বান্ধব বা বিভিন্নভাবে দলে ঢুকে পড়ে।’ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বিষয়টি আরেকটু বিস্তারিত বলেন, ‘বিষয়টি হচ্ছে আমরা যারা রাজনীতি করি তখন আমরা যখন দেখি যে আমাদের পেছনে কেউ নেই তখন আমরা অনেক হালকা ভাবি। আর আমাদের দেশের মানুষও সেরকম। যখন তাঁরা কারো পেছনে অনেক মানুষ হাঁটতে দেখে তখন ভাবেন যে সেই বড় নেতা। এই যে পেছনে মানুষ হাঁটানোর সংস্কৃতি, ভেতরে কিছু থাক বা না থাক পেছনে মানুষ হাঁটলেই জননেতা- আমাদের রাজনীতির এই দূর্বল চর্চার কারণেই দলে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকতে পারে। হাইব্রিডরা কিন্তু কখনো এভাবে ঢোকে না। কারণ হাইব্রিডরা জানে যে, তাঁরা উন্নত জাতের ফসল। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীরা খুব ভয়ংকর।’

আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রে আওয়ামী লীগে ঢোকার সুনির্দিষ্ট নিয়ম উল্লেখ থাকার পরেও এই অনুপ্রবেশকারীদের দলে কিভাবে ঢোকে এমন প্রশ্নের উত্তরে দলটির সাবেক এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন যে, ‘আমাদের জেলা আওয়ামী লীগ, উপজেলা আওয়ামী লীগ বা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় যে, স্থানীয় পর্যায়ে যারা চেয়ারম্যান বা এমপি হয়ে যায় তাঁরা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাউকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেন। ব্যক্তিগত বলয়কে শক্তিশালী করার জন্যে এরা দলে অনুপ্রবেশ ঘটায়। কিন্তু আমাদের দলের গঠনতন্ত্র যদি আমরা সঠিকভাবে পালন করতাম তাহলে এই অনুপ্রবেশ ঢালাওভাবে ঘটতে পারতো না। এখানে আমাদের দূর্বলতা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই।’

এই নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। দীর্ঘদিন যাবত দলে থাকার কারণে দলে এসব অনুপ্রবেশকারীদের দৌরাত্ম বেড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের সঙ্গে একমত নন এই অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে নিজের জনপ্রিয়তা বাড়াতে পারেন তাহলে আমরা কেন পারবো না? আমরা যদি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ করতাম তাহলে তো বিষয়টা এই জায়গায় আসতো না। এই যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী টানা সাড়ে ১১ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও তাঁর জনপ্রিয়তা দিনদিন বাড়ছে। কারণ তিনি পরিপূর্ণভাবে এসব প্রতিপালন করছেন। যা আমরা করতে পারছি না। আমরা হয়তো মুখে মুখে বলছি, তবে বাস্তবের চিত্রটা ভিন্ন।’

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আদর্শিক চর্চা কমে গেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে খালেদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন যে, ‘সবার মধ্যে এমন একটি ধারণা হয়ে গেছে যে, যা কিছুই করিনা কেন তিনি দেখবেন, তিনি আছেন এবং তিনিই পার করে নিয়ে যাবেন। সেজন্য আমরা গা ছেড়ে দিয়েছি। দলের উচ্চপর্যায়ে যদি এসব নিয়ে খুব কঠোর থাকা যেত তাহলে নিম্ন পর্যায়ে এগুলো করার সাহস পেতো না। উচ্চপর্যায়ের শিথিলতার কারণে নিম্ন পর্যায়ে এগুলো অবারিত হয়ে গেছে।’

বর্তমানে আওয়ামী লীগের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ অনুপ্রবেশকারী এবং হাইব্রিড নেতারা। অনুপ্রবেশকারীরা দলের জন্য ক্ষতিকর হলেও হাইব্রিড নেতাদের ক্ষতিকর বলে মনে করেন না খালেদ মাহমুদ চৌধুরী। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন যে, ‘ডা. এইচবিএম ইকবাল যখন আওয়ামী লীগে এসেছিলেন তখন একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়ে গিয়েছিল। সাবের হোসেন চৌধুরী যখন আওয়ামী লীগে এসেছেন তখন আওয়ামী লীগে অনেক এনলাইটেড হয়েছে। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর মতো একজন ইন্টারন্যাশনাল ব্যক্তিত্ব যখন আওয়ামী লীগে আসলেন তখন তাঁকে স্পিকার পর্যন্ত বানানো হলো। আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতো ব্যক্তিও আওয়ামী লীগকে আলোকিত করেছেন, এছাড়া নুরুল ইসলাম নাহিদ, যিনি কমিউনিস্ট পার্টি করতেন কিন্তু পরে আওয়ামী লীগে এসেছেন এবং অনেক অবদান রেখেছেন - এরকম অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু অনুপ্রবেশকারীদের দৃষ্টিভঙ্গি খারাপ।’

ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে তৃণমূলের রাজনীতি করে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন এই নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই উড়ে এসে এমপি বা মন্ত্রী হয়ে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারটাকে বাঁকা চোখে দেখেন না বর্তমান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন যে, অনেক আসন রয়েছে যেখানে মানুষের গ্রহণযোগ্যতা, ব্যক্তিগত ইমেজ দিয়ে মানুষের মনে জায়গা করে নেয়। যেহেতু এটা নির্বাচন এবং সরকার গঠনের বিষয় রয়েছে এবং নির্বাচিত না হলে সরকার গঠন করা যাবেনা সেহেতু এইগুলো তখন বিবেচনায় আসে। আবার কেবিনেট যখন গঠন হয় তখন সরকারকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেককিছু বিবেচনায় আসে। কাজেই মন্ত্রী-এমপি হওয়া আর দলের নেতা হওয়া এক বিষয় নয়। দলের নেতৃত্বে আসতে হলে তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে আসতে হবে, দলের আদর্শ এবং নীতির প্রতি পরিশুদ্ধ হতে হবে পুরোপুরি। এই চর্চাটা থাকতে হবে।’