ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জুলাই ২০২০ সোমবার, ০৩:২০ পিএম
‘ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে’

করোনা পরিস্থিতির কারণে এবারের কোরবানির ঈদ আসছে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। তাই কোরবানির ঈদ নিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় কিভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয় অধীনস্ত দপ্তর এবং সংস্থার প্রতি একটি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে এবারের কোরবানিতে যে সকল পশু ব্যবহার হবে সেটা গরু-মহিষ কিংবা ছাগল যাই হোক না কেন সরবরাহটাকে পর্যাপ্ত রাখার জন্য আমরা পরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে যেন কোরবানির পশুগুলো পাওয়া যায় সেজন্য আমাদের প্রতিটি উল্লেখযোগ্য পশু বিক্রয় কেন্দ্র, সেগুলো কোরবানির হাট হোক বা বিশেষভাবে বিক্রয় কেন্দ্র- যাই হোক না কেন সেখানে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পশু চিকিৎসকদের একটি টিম থাকবে যারা প্রতিটি প্রাণীকে পরীক্ষা করে দেখবেন যে প্রাণীটি রোগগ্রস্ত কিনা। কিংবা প্রাণীটির শরীরে এমন কোন ত্রুটি আছে কিনা যে ত্রুটির কারণে ইসলামী বিধান অনুযায়ী কোরবানি হয়না সেরকম কোন ত্রুটি আছে কিনা সেটা আমরা পরীক্ষা করে দেখবো এবং যারা চাইবে তাঁদেরকে আমরা প্রয়োজনে সার্টিফিকেট দিবো যে, এই পশুটি রোগমুক্ত, ত্রুটিমুক্ত।’বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে জুম অ্যাপে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এমন মন্তব্য করেন পিরোজপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গত কয়েকবছর যাবত কোরবানি এলেই যে বিতর্ক উঠছে তা হলো খামারিদের গরু আনা নিয়ে। অনেকেই বলছেন যে, এতে বাংলাদেশের খামারিদের ক্ষতি হয়। ভারতীয় গরু না এনে বাংলাদেশের কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় মন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশের খামারিরা কোরবানির পশু উৎপাদনে যে সক্ষমতায় পৌঁছেছে তাতে কোনভাবেই দেশের বাহিরে থেকে কোন পশু আনার প্রয়োজন নেই। বিগত ঈদে আমরা ভারত থেকে কোন পশু না আনা সত্ত্বেও বাজারে যে পরিমাণ পশু উপস্থিত করা হয়েছিল তাঁর এক-দশমাংশ পশুও বিক্রি হয়নি। অর্থাৎ দেশে কোরবানির পশু উৎপাদন এতটা ভাল পর্যায়ে যে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পরেও উদ্ধৃত রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করেছি যে, কোনভাবেই দেশের বাহির থেকে কোরবানির পশু আমদানি করার আবশ্যকতা নেই। আমরা আমদানি পরিকল্পনার সম্পূর্ণ বিমুখ।’

কোরবানি ঈদে দেশে মোট পশুর চাহিদা উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ জানান, ‘বিগত বছরে ১ কোটির সামান্য কিছু বেশি প্রাণী কোরবানির জন্য সারাদেশে ব্যবহৃত হয়েছে। এবছর আমাদের ধারণা বৈশ্বিক মহামারির কারণে সেই সংখ্যা কিছুটা কমে যাবে। বিগত বছরে কেউ ১০ টা বা ২০ টা প্রাণীও উৎসাহ-আনন্দের সঙ্গে কোরবানি করেছেন, এবার সেই পরিস্থিতি নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের ধারণা এবারের কোরবানিতে সংখ্যাটা ১ কোটিতে পৌঁছাবে না। অন্যদিকে আমাদের কোরবানির পশুর সরবরাহ এত বেশি যে, খামারিরা শঙ্কায় আছে সব প্রাণী বিক্রি হওয়া নিয়ে। আমাদের ধারণা এবারের ঈদে ১ কোটির নিচে প্রাণী ব্যবহৃত হবে, গতবারের সংখ্যাকে টপকে যাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।’

করোনার কারণে গত চার মাসের বেশি সময়ে ধরে দেশে স্থবিরতা চলতে থাকার কারণে এবারের ঈদে অনেকেই কোরবানি দিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে দেশের পশু খামারিরা। এই সকল খামারিদের জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সীমাবদ্ধতা থাকলেও মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ‘এবারের কোরবানিতে কোন মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন দেশের খামারিদের হয়রানি না করে, যাতে খামারিরা নির্বিঘ্নে পশু নিয়ে কোরবানির হাটে যেতে পারেন সেজন্য সকল প্রকার প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খামারিরা পশু বিক্রি করতে গেলে নানারকম যে চাঁদা বা হাসিল নেওয়া হতো সেটা এবার কেউ নিবে না। বাজারের পেরিফেরির মধ্যে এসে পশু বিক্রি করলেই কেবলমাত্র তা দিতে হবে। এমনকি রাস্তায় বসেও কোন খামারি পশু বিক্রি করলে বিক্রয় বাবদ যে চাঁদা বা ইজারাটা আদায় করা হতো সেটা এবার নেওয়া হবেনা।’

তিনি বলেন,‘আরেকটি বিষয় নিশ্চিত করেছি যে, অনেক সময় খামারিরা প্রতিকূল অবস্থায় পড়েন। যেমন কেউ কেউ বুকিং দিয়ে পুরো পশু না নিয়ে বিক্রি করার পরে টাকার একটা অংশ বুঝিয়ে দিতো। এবছর আমরা নির্দেশনা দিয়েছি যে, খামারিদের কাছ থেকে কেউ যদি একসাথে ৫০ টা গরু বা মহিষ কিনতে চায় তাহলে নগদ মূল্যেই কিনতে হবে। কোনরকম বুকিং দিয়ে বাড়তি দামে তিনি বিক্রি করবেন এবং বিক্রি না হলে খামারিদের বলবেন যে, বিক্রি করতে পারিনি, তোমার কাছ থেকে নিবোনা- এই মধ্যস্বত্ত্বপন্থাটাকে আমরা বিলোপ করার ব্যবস্থা নিয়েছি এবং সেক্ষেত্রে আমাদের উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় বা কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সর্বত্র প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সক্রিয়ভাবে মনিটর করছেন, সহায়তা করছেন।’

করোনার সময়ে বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। দেশের পশু খামারিরা সেক্ষেত্রে কোন ধরনের প্রণোদনা বা কোন ধরণের সাহায্য পেয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে শ ম রেজাউল করিম জানান, ‘আমরা সরাসরি খামারিদের নগদ টাকা না দিতে পারলেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে যে আমরা ছোট ছোট খামারি যারা, তাঁদের ক্ষতির উপর নির্ভর করে ছোট করে হলেও একটি আর্থিক প্রণোদনা দিবো, যে টাকাটা তাঁকে কখনোই ফেরত দিতে হবেনা। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মঞ্জুরীকৃত ঋণ থেকে সহজ শর্তে, স্বল্প সুদে তাঁদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করবো, যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তা কাটিয়ে উঠতে তাঁদের জন্য ভ্রাম্যমাণ পশু বিক্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করে দিয়েছি আমরা, ইলেকট্রনিক-প্রিন্টিং মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা প্রচার করেছি যে, করোনাকালীন সময়ে দুধ-ডিমের মতো পুষ্টিকর খাবার বেশি করে খেতে হবে। কারণ করোনা সঙ্কটের শুরু থেকে একটি ভ্রান্তিকর ধারণা ছিল যে, করোনা ডিম-দুধের মাধ্যমেও সংক্রমিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে মানুষের ভুল ধারণা ভাঙতে কাজ করেছি, মানুষকে আগ্রহী করেছি, ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য সহজ পথ তৈরি করে দিয়েছি এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে।’

এবারের কোরবানি নিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। অনেকেই দ্বিধায় ভুগছেন যে কোরবানির পশু থেকে করোনা ছড়ায় কিনা। মন্ত্রী হিসেবে এসব ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে শ ম রেজাউল করিম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিসরের সমস্ত সংস্থা, প্রাণী সংক্রান্ত সংস্থা, স্বাস্থ্য সংস্থা সকলেই বলেছেন যে প্রাণীর মাধ্যমে কোনভাবেই করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়না। আমি দেশের সকল মানুষকে আশ্বস্ত করবো যে, কোন মিথ্যা তথ্য দ্বারা বিভ্রান্ত হবেন না। প্রাণীর মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না। বরং প্রাণীর মাংশ করোনা প্রতিরোধে, রোগ প্রতিরোধে আপনার শরীরে শক্তি জোগাবে। আমিষের জন্য আপনারা মাছ, মাংস, ডিম, দুধ নিয়মিত খাবেন।’


সাক্ষাৎকারটি ভিডিওতে দেখুন:

সরাসরি লিংক: ভিডিও