ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সিনহা হত্যা: ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২০ বুধবার, ০৫:৫৯ পিএম
সিনহা হত্যা: ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়

ঈদের আগের রাতে গত ৩১ জুলাই কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এই ঘটনা নিয়ে এখন সারাদেশে তোলপাড় চলছে। প্রথমেই বলে নেওয়া ভালো যে ঘটনাটি দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দূর্ভাগ্যজনক। এরকম ঘটনা ঘটা উচিত নয়। একজন সাধারণ মানুষকে কোন কারণেই গুলি করে হত্যা করা উচিত নয় এবং পুলিশ কি পরিস্থিতিতে এবং কেন গুলি করেছে সেটা তদন্তের বিষয় এবং তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তবে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, কোন পরিস্থিতিতেই এই ঘটনা কাম্য নয়। আজ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ দুই জনই কক্সবাজারে গিয়েছিলেন এবং কক্সবাজারে গিয়ে পুলিশ এবং সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সেখানে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন এবং তারপরে দুইজনই যে বক্তব্য রেখেছেন সেই বক্তব্যের নির্যাস হচ্ছে পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সম্পর্ক মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে গড়া। দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর যাবত পুলিশ-সেনাবাহিনী কাঁধে কাধ মিলিয়ে কাজ করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক অটুট বন্ধনে তৈরি। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে পুঁজি করে কেউ যেন পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা না করে- সেই সম্পর্কে মূলত দুই বাহিনীর প্রধান সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রেখেছেন। এই দুই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং যুগান্তকারী। এই প্রথম বাংলাদেশে দুটি বাহিনীর প্রধান যৌথভাবে সংবাদ সম্মেলন করলেন। সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের মৃত্যুর ঘটনার মধ্যে দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনেক ইতিবাচক এবং তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে একটি জিনিস স্পষ্ট হলো যে, এই ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহ করা, এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, এই ঘটনাকে অজুহাত দেখিয়ে দেশে সরকারবিরোধী একটা ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের নীলনকশা দৃশ্যমান। ৩১ জুলাই রাশেদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে যে কোন কোন মহল এই ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, নানারকম উষ্কানি দিচ্ছে। বাংলাদেশে এই ধরণের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এটাই প্রথম নয় এবং এই ধরণের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কাম্য নয়। এই ঘটনাটি সেনাবাহিনী এবং পুলিশের মধ্যে কোন বিরোধেরও ঘটনা নয়, বরং একটি বিচ্ছিন্ন-অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যারা এই ঘটনাকে অন্য খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং এটাকে সেনা-পুলিশের বিরোধ হিসেবে প্রমাণের জন্যে গুজব ছড়াচ্ছে, তাঁদের লক্ষ্য একটাই তা হলো সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলা।

দেখা যায় যে, বাংলাদেশে যখনই কোন ঘটনা ঘটে, তখন সেই ঘটনাকে ফুলিয়ে ফাপিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয় যেন তা সরকারের বিরুদ্ধে যায়, যেন তাঁতে সরকার চাপে পড়ে। হোক তা করোনা, হোক তা গণমাধ্যম কর্মী গ্রেপ্তারের ঘটনা কিংবা এরকম একটি হত্যাকাণ্ড। একটি মহল যেন সবসময় ওঁত পেতে থাকে যে, কখন একটি ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা যাবে এবং এইরকম প্রবণতা সব ঘটনাগুলোতে যেভাবে দেখা যায়, এবারও সেভাবে দেখা গেছে।

তবে অন্যসময়ে ঘটনাটি যেমন ঘটে অন্যরকম ভাবে, এইবার একটি মহল দূর্ভাগ্যজনকভাবে দুই বাহিনীকে মুখোমুখি করার জন্যে এক অকল্পনীয়-দূর্ভাগ্যজনক গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং এই ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময় এই ধরণের অজুহাতকে কাজে লাগিয়ে ‘একটা কিছু করার’ অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

কাজেই সিনহা হত্যা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা কাম্য নয় এবং এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষে সুষ্ঠ তদন্ত এবং বিচার হওয়া দরকার। এর বাইরে যারাই এটাকে নিয়ে অন্য কিছু করতে চাইছে তাঁদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে এবং এই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। তা না হলে যে সমস্যাটি হবে, তা হলো সিনহা হত্যার বিচারও একটা জটিলতার মধ্যে পড়বে। এটারও একটি নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে সমস্যা তৈরি হবে। তাই নিরপেক্ষ বিচার এবং তদন্তের স্বার্থে আমাদেরকে এই ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে।