ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘কমিশন’ মানেই আমলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট ২০২০ বুধবার, ০৭:০০ পিএম
‘কমিশন’ মানেই আমলা

প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নিয়োগ থেকে শুরু করে তথ্য অধিকার, দুর্নীতি দমন, নির্বাচন ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫টি স্বাধীন কমিশন রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি কমিশন সাংবিধানিক ও অন্যগুলো আইন দ্বারা গঠিত। কমিশনগুলোতে সদস্য বা চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট বিধি বিধান। আর এক্ষেত্রে শিক্ষক, আমলা, বিচারপতি, সাংবাদিক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্ত পদে আমলাদের একচেটিয়া আধিপত্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাঁচটি কমিশনের সবগুলোতেই চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন প্রাক্তন আমলারা। এতে করে অন্যান্য পেশাজীবীরা বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি কমিশনগুলোর স্বাতন্ত্র্য ও স্বাধীন সত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সেইসাথে আমলাতান্ত্রিক এই প্রাধান্যের কারণে অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। তাছাড়া, তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের মতো জায়গাগুলোতে আমলাদের নিয়োগ নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেন। তারা মনে করেন, এই জায়গাগুলোতে একাডেমিকদের দায়িত্বে রাখলে খুব ভালো হয়। এতে করে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীন ও সাংবিধানিক ভাবমূর্তি যেমন সুরক্ষিত হয়। সেইসাথে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল বা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে একটা ভারসাম্য তৈরি হবে।

পাবলিক সার্ভিস কমিশন

সরকারী কর্ম কমিশন একটি স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা যার দায়িত্ব সরকারি চাকুরীতে নিয়োগ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭ থেকে ১৪১ পর্যন্ত অনুচ্ছেদে সরকারী কর্ম কমিশন গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বর্ণিত আছে। একজন চেয়ারম্যান এবং কয়েকজন সদস্য সমবায়ে পাঁচ বৎসর মেয়াদের জন্য কমিশন গঠিত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের নিয়োগ প্রদান করেন। বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। ইতোপূর্বে ড. সাদিক সরকারের শিক্ষা সচিব ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জানা যায়, চলতি বৎসরের সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আর এই পদে আসতে ইতোমধ্যে সাবেক বেশ কয়েকজন আমলা দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্থাপিত হয়েছে। কমিশনের দায়িত্ব হল রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা এবং আনুষঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কে এম নুরুল হুদা। জনাব হুদা ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। পরে ২০০৬ সালে সচিব হিসেবে তিনি অবসরে যান।
 
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মূল অধ্যাদেশ বিলোপ হওয়ার পর ২০০৯ সালের আইন দ্বারা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি সংবিধান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন ও চুক্তিগুলিতে সংবিধান অনুসারে প্রতিটি মানুষের মর্যাদাবোধ, মূল্য এবং স্বাধীনতাসহ বিস্তৃত অর্থে মানবাধিকার অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাছিমা বেগম। চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অবসরে যান। অথচ এই ধরণের পদে একাডেমিকদের প্রাধান্য দেওয়া হবে এই রকমটাই প্রত্যাশা করেন সকলে।

দুর্নীতি দমন কমিশন

দুদক বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন, নিয়ন্ত্রণ, ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গঠিত একটি কমিশন। এটি ২০০৪ সালের ৯ মে মাসের দুর্নীতি দমন আইন অনুসারে কার্যকর হয়েছে। এ সংস্থার লক্ষ্য হচ্ছে দেশে দুর্নীতি ও দুর্নীতিমূলক কাজ প্রতিরোধ করা। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইকবাল মাহমুদ। তিনি বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। ১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন।

তথ্য কমিশন

তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব মরতুজা আহমদ। জনাব মরতুজা আহমদ ১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ তারিখ তথ্য কমিশনে প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। প্রধান তথ্য কমিশনার হিসেবে যোগদানের আগে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।