ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খায়রুজ্জামান লিটন: শেখ হাসিনার ‘কাছের মানুষ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট ২০২০ শুক্রবার, ০৮:৫৮ পিএম
খায়রুজ্জামান লিটন: শেখ হাসিনার ‘কাছের মানুষ’

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন। এই কলঙ্কের শেষ এখানেই হয়নি। ৩ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এই জাতীয় চার নেতার হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মুক্ত বুদ্ধির চিন্তা এবং প্রগতিশীল রাজনীতির কবর রচনা করার একটি হীন, ঘৃণ্য ও জঘন্য প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের চেষ্টা ছিল। কিন্তু ১৯৮১ সালে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে সেই ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেন। আস্তে আস্তে গনতন্ত্র, মানবাধিকার ও প্রগতিবাদী রাজনীতির ধারাকে মূল ধারায় পরিবর্তন করেন। এই কারণেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন আস্তে আস্তে প্রভাব ফেলতে শুরু করেন তখন জাতীয় চার নেতার সন্তানদের প্রতি তাঁর আলাদা আবেগ-ভালোবাসা কাজ করেছে সবসময়। যারা তার পিতার আদর্শের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি, তাদের প্রতি এক ধরণের বাড়তি স্নেহ থাকবে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু জাতীয় চার নেতার সন্তানদের মধ্যে যারা জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক তারকা হয়েছেন তাদের মধ্যে মোহাম্মদ নাসিম, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ইতোমধ্যে প্রয়াত হয়েছেন। আর তাজউদ্দীন আহমেদের পরিবারের সোহেল তাজকে নিয়ে অনেক চেষ্টা করা হলেও তিনি জাতীয় রাজনীতিতে একজন বড় তারকা হয়ে উঠতে পারেননি। তাজউদ্দীন আহমেদের কন্যাকে সংসদ সদস্য করেছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু তিনি রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত সম্ভাবনার চিহ্ন জাগাতে পারেননি।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামানের পুত্র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি কাজ করছেন নীরবে। যদিও জাতীয় রাজনীতির চেয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে (রাজশাহী) তাঁর আগ্রহ এবং মনোযোগ বেশি এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বর্তমানে তিনি রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র। এর আগেও তিনি মেয়র হয়েছিলেন। রাজশাহী শহরকে পাল্টে দেওয়ার ক্ষেত্রে নীরব বিপ্লব করছেন খায়রুজ্জামান লিটন। জাতীয় চার নেতার এই সন্তান হয়তো জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত নন। তবে তার নিজস্ব এলাকায় তিনি জনপ্রিয় এবং আলোচিত একজন তারকা। তাঁর একটি বৈশিষ্ট তাঁকে সকলের শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলেছে। আর তা হল শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর আবেগ, ভালোবাসা এবং আনুগত্য। পিতার মতোই তিনি তাঁর আদর্শের সঙ্গে কখনো বেইমানি করেননি। জাতীয় চার নেতার সন্তান এই প্রভাব দেখিয়ে দলের মধ্যে কর্তৃত্ব তৈরি করার প্রয়াসও তার রাজনৈতিক জীবনে দেখা যায়নি। বরং নীরবে নিভৃতে তিনি তাঁর এলাকার জনগনের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। যেভাবে তাঁর পিতা কাজ করতেন।

নীরবে কাজ করলেই শেখ হাসিনার তার প্রতি আবেগ ভালোবাসা বাড়তি রয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার কাছের মানুষ। আওয়ামী লীগের সকলেই জানেন যে রাজশাহীর মেয়রের প্রতি শেখ হাসিনার আলাদা স্নেহ রয়েছে। চার পরিবারের অন্যদের মতোই লিটনের জন্য আওয়ামীলীগ সভাপতির দরজা সবসময় খোলা। যে কোন সমস্যা নিয়ে লিটন সরাসরি চলে যেতে পারেন। কিন্তু শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ এই পরিচয় দিয়ে তিনি বাড়তি সুবিধা দলে বা সরকারে নেওয়ার চেষ্টাও করেন না। বরং তিনি নীরবে কাজ করে যান তাঁর এলাকার জন্য। শেখ হাসিনাও এটি জানেন যে, কখনো যদি সংকট আসে- যেমন সংকট এসেছিল ২০০১ সালে কিংবা ২০০৭ সালে। সেই সংকটে যারা তাঁর পাশে দাঁড়াবেন, প্রথম সারিতেই থাকবেন খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি যতটা আওয়ামীলীগের নেতা, তাঁর চেয়ে বড় শেখ হাসিনার কাছের মানুষ।