ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পুলিশে বিএনপি-জামাত তোষণ: কাঠগড়ায় সাবেক আইজিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ০৭:৫৯ পিএম
পুলিশে বিএনপি-জামাত তোষণ: কাঠগড়ায় সাবেক আইজিপি

টেকনাফের ঘটনার পর আলোচনায় পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে যেমন দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠছে তেমনি সবথেকে বড় করে যে প্রশ্নটি উঠেছে তা হলো যে, এই ধরণের অপরাধগুলো যারা ঘটাচ্ছে তাঁরা জামাত-শিবিরের রাজনীতি করে কীভাবে পুলিশে যোগদান করেছে? এবং পুলিশে এসে তাঁরা কিভাবে এই ধরণের অপরাধ কর্মকাণ্ডগুলো করছে? একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে, এগুলো নিরেট একটি ক্রসফায়ার বা নিছক একটি অপরাধমূলক কাজ নয়, বরং এই অপরাধগুলো পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করার জন্যে এবং সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যে।

এটা ঠিক যে, পুলিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানারকম দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তবে সেটা ছিল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, ব্যক্তিগত লোভ এবং ব্যক্তি অপরাধ। কিন্তু এখন যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সেই ঘটনাগুলোর পেছনে পরিকল্পিত কোন ঘটনা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফের অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের ঘটনার পর দেখা যাচ্ছে যে, কক্সবাজার-টেকনাফে যারা পুলিশের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। ওসি প্রদীপ ছাত্রদলের ক্যাডার ছিলেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে পদক গ্রহণ করেন। পুলিশ কর্মকর্তা লিয়াকত পটিয়া কলেজ শিবিরের নেতা ছিলেন।এমনকি কক্সবাজারের এসপির বিরুদ্ধেও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। শুধু কক্সবাজার-টেকনাফ নয়, বংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গত ৩-৪ বছর জামায়াত-শিবিরপন্থি পুলিশের লোকজন ভালো পদবী পেয়েছে এবং তাঁদেরকে তোষণ করা হয়েছে- এরকম অভিযোগ উঠেছে পুলিশের পক্ষ থেকেই।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, ঢাকার কাছে একটা গুরুত্বপূর্ণ জেলার এসপি, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিবিরের নেতা ছিলেন। সেসময় শিবির সংশ্লিষ্টতার কারণে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং হাজতী হিসেবে গ্রেপ্তার অবস্থায় অনার্স ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা হয়। তিনি এখন ঢাকার কাছেই একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এসপির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের একটি জেলায় এসপির দায়িত্ব পালন করছেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যায় যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক ইতিহাসের ছাত্র ছিলেন। কলা অনুষদে ইসলামিক ছাত্রশিবিরের যুগ্ন আহ্বায়ক ছিলেন ২০০৪ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত। ২১-১২-২০০৪ থেকে ১৬-০৬-২০০৫ তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করেছিলেন। অনুসন্ধানে এটাও জানা যায় যে, তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেওয়ার পেছনে জামাতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অনুরোধপত্র দিয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় একজন এসপি সম্পর্কে অনুসন্ধান করে জানা গেছে যে, তিনি মাদ্রাসা বোর্ডে দাখিল-আলেম পাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি সাহিত্যে অনার্স-এমএ পাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন আবাসিক হলের ছাত্র ছিলেন। সেসময় তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে মেলামেশা করলেও দাখিল-আলিমের ছাত্রশিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।

এরকম অনেকগুলো তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে। যে তথ্যগুলোতে দেখা যায় যে, তাঁদের অতীত রাজনৈতিক জীবন জামাত-শিবির বা বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার পরেও তাঁদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে এবং পুলিশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, তাঁরা এই ব্যাপারে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন পুলিশের সাবেক আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে। ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশের আইজি হওয়ার পর নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করেছিলেন এবং রাজনৈতিক বিবেচনা বা আদর্শ বিবেচনা নয়, কেবলমাত্র যোগ্যতার বিবেচনায় পুলিশে পদোন্নতি এবং পোস্টিং নীতি তিনি চালু করেছিলেন। আর এই ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী বা জামাত-শিবির করা অনেক ব্যক্তি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয় তখন বিএনপি-জামাত পরিকল্পিতভাবে পুলিশে অনুপ্রবেশে সক্রিয় হয় এবং পুলিশে তাঁদের যে সমস্ত একই চিন্তাভাবনার লোকজন আছে তাঁদেরকে একত্রিত করে। তাঁদের মাধ্যমেই বিভিন্ন অপকর্ম ঘটানোর যে নীলনকশা, সেই নীলনকশার বাস্তবায়ন চলছে কিনা সেটাও দেখার বিষয়।

পুলিশের একজন সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, পুলিশের যোগ্যতা যেমন দরকার, তেমনি দরকার রাষ্ট্র-সরকারের প্রতি আনুগত্য এবং আদর্শিক অবস্থান। তা না হলে বিভক্ত রাজনীতির এই বাংলাদেশে একটি থানার একটি ওসি যেকোন ধরণের অঘটন ঘটাতে পারে। যার প্রমাণ টেকনাফ।