ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সরকারে সমন্বয়হীনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২০ বুধবার, ০৬:৫৮ পিএম
সরকারে সমন্বয়হীনতা

করোনাকালের শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই সমন্বয়হীনতা অব্যাহত রয়েছে। সমন্বয়হীনতার সর্বশেষ নজির হল আজ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকে এবং সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরস্পরবিরোধী অবস্থান। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, করোনা সংক্রান্ত যে লাইভ বুলেটিন প্রচারিত হয় সেই লাইভ বুলেটিন প্রচারিত হবে না। বরং একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে করোনার সর্বশেষ তথ্য হালনাগাদ করা হবে এবং গণমাধ্যমে দেওয়া হবে।

বিষয়টি হচ্ছে, করোনার বুলেটিনের নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যেভাবে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতেন তা বন্ধ করে তথ্য উপাত্তগুলো গণমাধ্যমে সরবরাহ করা। অনেকগুলো কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এটি কোন কোন মহল না বুঝেই তথ্য বন্ধ, অবাধ তথ্য প্রবাহে হুমকি, তথ্য বিভ্রান্তি হবে, গুজব হবে ইত্যাদি নানা রকম কথা বলছে। বাস্তবতা হলো এই যে, করোনার প্রতিদিনের যে হালনাগাদ তথ্য দেয়া তা বন্ধ হয়নি। সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে একজন যে ভাষণ দিতেন তা বন্ধ করা হয়েছে।

তথ্যপ্রাপ্তি হল সবচেয়ে বড় কথা। এইজন্য ক্যামেরার সামনে এসে জাতির উদ্দেশ্যে তথ্য প্রদান করতেই হবে কেন? সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে। আমরা তথ্য পাচ্ছি কিনা সেটি হল ব্যাপার। কোন কোন মহল এটি না বুঝেই তথ্য প্রাপ্তি বন্ধ হয়েছে বলে প্রচার করেছে। সেই প্রচারের ফাঁদে পা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও। ওবায়দুল কাদের আজ ভিডিও ব্রিফিং এ বলেছেন এই ধরণের তথ্য সম্প্রচার বন্ধ হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে গুজব এবং বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। ওবায়দুল কাদের যদি পুরো ব্যাপারটা জানতেন বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতেন, তাহলে নিশ্চয় তিনি এই ধরণের মন্তব্য করতেন না। এই ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও যদি সরকারকে বা জনগণকে সঠিকভাবে ব্রিফ করতেন তাহলে বিষয়টি এই রকম দাঁড়াত না। কোনভাবেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর প্রতিদিনের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ তা বন্ধ করে নাই। বরং তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি পাল্টে দিয়েছে।

এখন যদি কেউ মনে করেন টেলিভিশনে এসে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে এই তথ্য দিতে হবে। তাহলে তারমধ্যেই বিভ্রান্তি আছে বা অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে বলে মনে করতে হবে। আর এই ধরণের সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর দ্বৈত অবস্থান, সরকারের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত। এই রকম সমন্বয়হীনতা নতুন নয়। করোনা সংকটের শুরু থেকেই এই সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। যখন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে তখন মন্ত্রীপরিষদ সচিব বলেছেন, করোনার কারণে এটা সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হল। তারপর দেখা গেছে, গণপরিবহন বন্ধ করা হয় নাই। মানুষ গণপরিবহণে চলে যাচ্ছে। সেই সময় সড়ক পরিবহণ, রেলপথ ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল সঙ্গে সঙ্গে গণপরিবহণ ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করে দেওয়া। কিন্তু সেখানে সেটি করা হয় নাই।

আবার যখন গার্মেন্টস খুলে দেওয়া হল, তখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজেই বলেছেন জাতীয় কমিটি এই সম্পর্কে অবহিত নয়। হোটেল, রেস্টুরেন্ট খোলা নিয়েও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অবহিত ছিল না। প্রতি ধাপে ধাপে এই ধরণের সমন্বয়হীনতার কারণে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আবার এটি নিয়ে নতুন করে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে এই সমন্বয়হীনতা দূর করার জন্য যে কোন মন্ত্রণালয় সম্পর্কে অন্য মন্ত্রণালয় যদি কোন বক্তব্য রাখে তাহলে প্রথমে সেই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে নেওয়া উচিত। কারণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মতো একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি যখন এই কথা বলেন তখন জনগণের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয় এবং সেটি সরকারের উপরই বর্তায়। তাই অন্য কোন মন্ত্রণালয় সম্পর্কে কোন মন্তব্য করার আগে ওই মন্ত্রণালয় কেন, কি কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সম্পর্কে সঠিক ও বাস্তবসম্মত তথ্য নিয়েই মন্তব্য করা উচিত।