ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

৫ কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ০৭:৫৯ পিএম
৫ কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা

আওয়ামী লীগ সরকার টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে এবং তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার আমলাতন্ত্রের সঙ্গে একটি সখ্যতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে আমলাদের পদোন্নতি দেওয়া, নিয়মিতভাবে বিসিএস পরীক্ষা করা এবং বেতন বৃদ্ধির কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আওয়ামী লীগ সরকারের উপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট। একসময় যারা বিএনপিপন্থী আমলা হিসেবে পরিচিত তারাও এখন আওয়ামী লীগ বন্দনায় ব্যস্ত। গত কিছুদিন ধরে নানা কারণে প্রশাসনের মধ্যে অস্থিরতা দানা বেঁধে উঠেছে এবং বিএনপি-জামাতপন্থী যে সমস্ত প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা কর্মকর্তারা রয়েছে তারা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনে অসন্তোষ তৈরি করার চেষ্টা করছেন বলে একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে। পাঁচ কারণে প্রশাসনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই কারণগুলো হলো-

ওয়াহিদার উপর হামলা নিয়ে বিভ্রান্তি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের উপর হামলা করা হয়। তাঁর বাসভবনে গিয়ে দুর্বৃত্তরা তাকে মারার চেষ্টা করে। গুরুতরভাবে আহত হন তিনি এবং তাঁর পিতা। এই ঘটনার পরপরই এটাকে চুরির ঘটনা বলার চেষ্টা করা হয়েছিল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে। এটা নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে আবার বলা হয়েছে যে, একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত রাগ এবং ক্ষোভের কারণেই এই হত্যাচেষ্টা সংগঠিত করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তার কাছে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, তারা মনে করছেন যে, এটার পেছনে আরও বড় কারণ রয়েছে। কারণ শুধুমাত্র টাকা চুরির দায়ে একজন কর্মচারীকে স্বাভাবিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে তিনি রেগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপর হামলা করবেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ প্রশাসনে এই ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হরহামেশাই ঘটে, এটা একজন নিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীর কাছে উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা একটা বিরাট পদ। কাজেই তিনি এই ধরণের ঘটনা ঘটানোর সাহস পাবে তা মানতে নারাজ প্রশাসনের অনেকেই। তারা মনে করছেন, এর পেছনে আরও বড় ধরণের কারণ আছে। যেখানে অনেক ক্ষমতাবানদের হাত থাকতে পারে। এটি পুর্নাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আগে এ ধরণের মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলে তারা মনে করছেন। এটি নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরণের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ

বর্তমান সরকার তিন মেয়াদে যেভাবে প্রশাসনে পদোন্নতি দিয়েছেন তা নজিরবিহীন ও বিরল। এখন বাংলাদেশে অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা সর্বাধিক। নিয়মিতভাবেই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই পদোন্নতি নিয়ে আমলাদের একটি বড় অংশ সন্তুষ্ট থাকলেও, ইদানীং এই নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এই অসন্তোষ তৈরির প্রধান কারণ হল সচিব পর্যায়ে যাদেরকে দেওয়া হচ্ছে, তাদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হচ্ছে না বলে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন। রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হচ্ছে বলে সচিবালয়ে এখন বড় ধরণের আলোচনা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য পদোন্নতিগুলোর ক্ষেত্রেও মেধা যোগ্যতা যাচাই করা হচ্ছে না এ রকম কথা হরহামেশাই বলা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইকনোমিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আর এই সব নিয়ে প্রশাসনে নতুন করে অসন্তোষ এবং অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের নিরাপত্তা

দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইত্যাদি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছিলো। ওয়াহিদা খানমের আক্রান্ত হওয়ার পর এটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এটি নিয়েও এক ধরণের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে প্রশাসনে।

রাজনৈতিক চাপ

রাজনৈতিক চাপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের একটা ঠাণ্ডা লড়াই ছিল। এখন ওয়াহিদা খানমের ঘটনার পর তা নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশাসনের মধ্য থেকে রাজনৈতিক চাপ মুক্তভাবে প্রশাসন পরিচালনার দাবিটি সামনে চলে এসেছে।

পুলিশের উপর নিয়ন্ত্রণ

ওয়াহিদা খানমের ঘটনার পর সবচেয়ে বড় এবং বেশি করে যে বিষয়টি আলোচিত হয়েছে, সেটি হচ্ছে পুলিশ কার? একটা সময় ছিল যখন পুলিশ জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কর্তৃত্বে পরিচালিত হত। কিন্তু এখন পুলিশ আলাদা, স্বাতন্ত্র্যভাবে কাজ করে। এটির অবসান চান প্রশাসন কর্মকর্তারা। তারা মনে করে পুলিশ বাহিনীকে প্রশাসনের অধীনে আনা উচিত এবং এই নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কথাবার্তাও বলছেন।

আর এইসব কারণেই প্রশাসনে নতুন করে এক ধরণের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যেটির উপর অবিলম্বেই নজর দেওয়া দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।