ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আমানঃ খালেদার কামানে গোলা নেই?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৯:০০ পিএম
আমানঃ খালেদার কামানে গোলা নেই?

 

বাংলাদেশে ৯০ এর রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় চমক ছিলেন আমান উল্লাহ আমান। ৯০ ডাকসু নির্বাচনে আমান-খোকন পরিষদ গঠনের ঘোষনা দেন খালেদা জিয়া। সে সময় জালাল-দুদু-নীরুর মতো জনপ্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে ডাকসুর সহ সভাপতি পদে আমান উল্লাহ আমানকে মনোনয়ন দেয়া ছিলো খালেদা জিয়ার এক বিরাট সারপ্রাইজ। এই চমক এতোই প্রবল ছিলো যে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের জন্যও এটা ছিলো একটা বড় ধাক্কা।

খালেদার সিদ্ধান্ত প্রথমে মেনে নেয়নি ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। মধুর কেন্টিনে প্রায় দীগম্বর করা হয়েছিল আমান উল্লাহ আমান এবং খায়রুল কবির খোকন কে। এই অবস্থাতেই দুই ঘন্টা মধুর কেন্টিনের সামনে বিধ্বস্ত অবস্থায় বসে ছিলেন আমান। বলা হয় এটাই ছিলো তার রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। এরপর ডাকসুর ভিপি। এরশাদের পতনের পটভূমি তৈরী করেছিল সর্বদলীয় ছাত্র জোট। তার নেতা ছিলেন আমান। এরশাদের পতনের পর আমান কেরানীগঞ্জ থেকে নির্বাচন করেন এবং বিজয়ী হন। সে সময় মনে করা হয়েছিল, আমানই হলো বিএনপির ভবিষ্যত। বিএনপির মহাসচিব কবে হবেন এনিয়ে ছিলো জল্পনা, কল্পনা।

কিন্তু সততা না থাকলে একজন রাজনীতিবীদ যে হারিয়ে যান তার বড় প্রমাণ হলেন আমান উল্লাহ আমান। ৯০ এ এরশাদের পতনের পর থেকেই চাঁদাবাজি শুরু করেন আমান। বড় বড় ব্যবসায়ীদের এরশাদের দালাল বানিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার খেলায় নামেন আমান। ৯১ বিএনপি নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় এলে আমান হয়ে ওঠেন টাকা বানানোর মেশিন। রাজনীতি এমন এক পেশা, যেখানে সুনামের চেয়ে দুর্নাম ছড়ায় দ্রুত। আমানও একজন রাজনৈতিক নেতা থেকে রাজনৈতিক দালালে পরিণত হন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এলে আমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজের জন্য নয় বরং দুর্নীতির কারণে আলোচিত হন। ওয়ান ইলেভেনে দূর্নীতির দায়ে দন্ডিতদের মধ্যে অন্যতম আমান।

এরপরই আমানের সম্ভাবনার দুয়ার অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যায়। আস্তে আস্তে বিএনপিতে আমানের গুরুত্ব কমতে থাকে। স্ত্রীর অসুস্থতাও তাকে কিছুটা পিছিয়ে দেয়। সব মিলিয়ে আমানের রাজনীতি হয়ে পড়েছে গতিহীন, ছন্দহীন। ৯০ এ আমান যখন ডাকসুর ভিপি প্রার্থী তখন শ্লোগানে বলা হতো ‘আমানউল্লাহ আমান-খালেদা জিয়ার কামান।’ কিন্তু এখন সেই কামান আর গর্জায় না। কামানে গোলা নেই। জং ধরা কামান যেন আস্তাকুড়ে পরে থাকা এক পথহারা রাজনীতিক।