ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঘরে ফিরতে মরিয়া তারা, আওয়ামী লীগের ‘না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
ঘরে ফিরতে মরিয়া তারা, আওয়ামী লীগের ‘না’

 

গণফোরামের ‘বিদ্রোহী’রা আওয়ামী লীগে ফিরতে চান। আর এ নিয়েই দলটি ভাঙনের চুড়ান্ত ধাপে। আগামী রোববার দলের একাংশ জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ধিত সভা ডেকেছেন। এই বর্ধিত সভা আহ্বান কারীদের মূল উদ্যোক্তরা হলেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, মোস্তফা মোহসীন মন্টু এবং এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। এরা সকলেই এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ড. কামাল হোসেন এবং রেজা কিবরিয়ার ‘কতৃত্ববাদী’ আচরণ এবং সংগঠন বিরোধি আচরণের কারণেই এই বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছে, বলে সুব্রত চৌধুরী জানিয়েছেন। অবশ্য ড. কামাল হোসেন এবং রেজা কিবরিয়া দু’জনই বর্ধিত সভাকে গঠনতন্ত্র বিরোধি বলে অভিহিত করেছেন। তারা এটাও বলেছেন, এ ধরনের বৈঠক ডাকার কোন এখতিয়ার তাদের নেই। গণফোরামের একাধিক নেতা বলেছেন, এই বর্ধিত সভার মাধ্যমে গণফোরামের ভাঙ্গন প্রক্রিয়া চুড়ান্ত হবে। তবে, পদ ভাগাভাগি এবং নেতৃত্বের লড়াইয়ের আড়ালে এই বিভক্তির পেছনে অন্য কারণ রয়েছে, বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৯১ সালে আওয়ামী লীগ ভেঙ্গে গণফোরাম গঠিত হয়েছিল। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই দলটিতে আওয়ামী লীগের কিছু কামালপন্থীরাই যোগ দিয়েছিলো। কিন্তু গণফোরাম একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে কখনোই সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি। বরং ড. কামাল হোসেনের ‘ব্রিফকেস সংগঠন’ হিসেবেই এটি পরিচিতি পায়।

২০১৮ ‘র ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের মাধ্যমে প্রথম আলোচনায় আসে গণফোরাম। ড. কামাল হোসেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক হলে এবং বিএনপি তাতে যোগ দিলে গণফোরামের পালে বাতাস লাগে। এ সময় অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, ড: রেজা কিবরিয়া সহ কয়েক জন গণফোরামে যোগদেন।

কিন্তু নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ‘পর্বতের মূষিক প্রসবে’ মোহ ভঙ্গ ঘটে অনেক গণফোরাম নেতার। এ সময় গণফোরামের একাংশের আওয়ামী লীগে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে। এখান থেকেই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানিয়েছেন, গণফোরামের বেশ ক’জন নেতা। এ সময় সুব্রত চৌধুরী এবং অধ্যাপক আবু সাইয়িদ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বলেও জানা গেছে। এই অংশ মনে করেন গণফোরামে কিছু হবে না। তাই আওয়ামী লীগের ফেরত যাওয়াই শ্রেয় এ রকম চিন্তা দলে ছড়াতে থাকেন।

এ রকম প্রেক্ষাপটেই, ড. কামাল, এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এর মোস্তফা মোহসীন মন্টুর বদলে রেজা কিবরিয়াকে নেতৃত্বে আনেন। এর ফলে গণফোরামে বিভক্তি চুড়ান্ত হয়। তবে, গণফোরামের এই নেতাদের ব্যাপারে আগ্রহ নেই আওয়ামী লীগের। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ‘এরা নেত্রীকে অনেক জ্বালিয়েছে, আর নয়। দুষ্ট গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’।