ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার স্মৃতিশক্তিতেই আস্থা তৃণমুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
শেখ হাসিনার স্মৃতিশক্তিতেই আস্থা তৃণমুলের

 

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস। আওয়ামী লীগে মহিলা সংসদ সদস্য মনোনয়ন নিয়ে তোড়জোর চলছে। ধানমন্ডি ৩ নম্বর, আওয়ামী লীগ সভাপতি কার্যালয় উৎসব মুখর। তারকাদের মনোনয়ন ফরম কেনার ভিড়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, দলের একজন তরুন নেতা, যিনি তার সঙ্গে কাজও করেন, তাকে ডাকলেন, একটি এলাকার নাম ধরে বললেন, যেখানে একজন সালমা আছে তাকো ডাকো। তরুন নেতা, ঐ এলাকায় যোগাযোগ করলেন। পেলেন তিনজন সালমাকে। কোন সালমাকে ডেকেছেন সভাপতি? এই প্রশ্নের উত্তর না খুঁজে, প্রধানমন্ত্রীর ঐ বিশেষ সহকারি ঐ এলাকায় যে ক’জন সালমা আছেন, তাদের সবাইকে ডাকালেন। তিন সালমাকে হাজির করা হলো গণভবনে। প্রধানমন্ত্রী তিনজনের সঙ্গেই কুশল বিনিময় করলেন। তাদের খোঁজ খবর নিয়ে বিদায় দিলেন।

এরপর আওয়ামী লীগের ঐ তরুণ নেতাকে এক সালমাকে চিনিয়ে দিয়ে বললেন, তাকে একটা মনোনয়ন ফরম দাও। গণভবন থেকেই তরুণ নেতা ফোন করলেন, সেই কাঙ্ক্ষিত সালমাকে। সালমাকে তার বাসায় যেতে বললেন। সেখানেই, নারী সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন ফরম দেয়া হলো সালমাকে। সালমা বিস্ময়ে হতবাক। তিনি স্বপ্ন দেখছেন কিনা, এ নিয়ে বিভ্রমে ছিলেন খানিকক্ষন। এরপর কেঁদে ফেললেন। সেই সালমা এখন মহিলা সংসদ সদস্য। সালমা নিজে কখনো ভাবেন নি, তিনি মহিলা সংসদ সদস্য হবেন। কিন্তু দলের জন্য তার অবদান, শেখ হাসিনা মনে রেখেছেন। সালমার অবদানের স্বীকৃতি দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

এটাই হলো শেখ হাসিনার বৈশিষ্ট্য। প্রখর স্মৃতিশক্তি তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অন্যতম বাহন বলে মনে করেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রখর স্মৃতিশক্তি ছিলো। যে কোন মানুষের সঙ্গে একবার পরিচয় হলে, তাকে মনে রাখতে পারতেন। বহু বছর পর তার সঙ্গে দেখা হলে, তাকে নাম ধরে ডেকে, তাকে চিনতে পারতেন। ঘটনার দিন তারিখ মনে রাখতেন বিস্ময়কর ভাবে। এসব অসাধারণ গুনের জন্যই মানুষকে সহজে আপন করে নিতে পারতেন বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা পিতার এই গুনটি পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা হলেন আওয়ামী লীগের এনসাইক্লোপিডিয়া। কে, কখন কি করেছে- তা হুবহু মনে রাখার এক বিরল গুণ রয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতির। এ কারণেই কে পরীক্ষিত, কে ভেজাল- তা বিচার করতে গিয়ে অন্যের উপর নির্ভর করতে হয় না তার। ভালো কাজ করলে পুরস্কৃত হবেনই- এই রীতি চালু করেছেন। আর এখন ফরিদপুর অপারেশন, চট্টগ্রামের সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং পাবনা-৪ আসনের মনোনয়নের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন, তিনি দলের আসল কর্মীদের মূল্যায়ন করবেনই।

এ জন্যই কমিটি নিয়ে ব্যস্ত আওয়ামী লীগের তৃণমূল এখনো আশ্বস্ত। তারা জানে, শেখ হাসিনার কাছে সব খবর আছে। শেখ হাসিনা সব মনে রাখেন।