ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কালজয়ী নেতৃত্বঃ সারা বিশ্বের বিস্ময়

ড. মো. আওলাদ হোসেন
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার, ০৯:০৪ এএম
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার কালজয়ী নেতৃত্বঃ সারা বিশ্বের বিস্ময়
২০২০ সালে এসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনা তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে এমন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছেন যে, শুধু বাংলাদেশ নয়-আন্তর্জাতিক মহল তার প্রতি খুবই শ্রদ্ধাশীল। আন্তর্জাতিক মহল সব সময় মনে করে তিনি একজন যোগ্য নেতা, যিনি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক নেতৃত্ব দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার কারণেই আওয়ামী লীগের ব্যাপারে এখনও দেশে-বিদেশে প্রভাবশালী সকল মহল আস্থাশীল।
 
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশের আপামর জনতার নেত্রী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকাবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময়ের সফল রাষ্ট্রনায়ক, মানবতার মা, দেশরত্ন শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিন। 
 
১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাবা-মা, ভাই-ভাবীসহ সকলকে হারিয়ে মৃত্যু যন্ত্রণার চেয়েও দুঃসহ যন্ত্রণা ও কষ্ট নিয়ে গত চারটি দশক ‘জীবনজয়ের’ যুদ্ধ চালিয়ে বার বার মৃত্যুকে জয় করে জীবনের ৭৩ টি বসন্ত পেরিয়ে আজ ৭৪ এ পা দিলেন তিনি। দুর্জয় সাহস এবং অঙ্গীকারের দৃঢ়তা না থাকলে এ রকম সর্বস্ব হারিয়ে কারও পক্ষে অতি আপনজনের রক্তভেজা মাটিতে ফিরে আসা এবং পিতার অসমাপ্ত কর্তব্যভার কাঁধে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না।
 
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতির দ্বায়িত্ব নিয়ে জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৯৮১-র ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই বাংলার মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া শুরু করেন। 
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণের ৩৬ বছরের ক্লান্তিহীন যাত্রাপথ কখনই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। কমপক্ষে ২০ বার তাঁকে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। জেল-জুলুম-অত্যাচার, দীর্ঘ কারা নির্যাতন ভোগ অসংখ্য মিথ্যা মামলা ও হয়রানি কোন কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি। অশুভ শক্তির সকল ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত মোকাবিলা করেই তিনি  অভিষ্ট লক্ষ্যের দিকে অবিচল পদক্ষেপে এগিয়ে গেছেন। অকুতোভয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এবং উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, বিশ্বের বিস্ময় হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার মানদণ্ড পূরণ করেছে বাংলাদেশ। অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪৩, আর ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় বিশ্বের ৩৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রাইসওয়াটার কুপার হাউস (পিডাব্লিউসি) বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৮তম বড় অর্থনীতির দেশ, ২০৫০ সালে আরো পাঁচ ধাপ এগিয়ে আসবে ২৩ নম্বরে। বাংলাদেশকে ‘ইমার্জিং টাইগার’ উল্লেখ করে বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার গত এপ্রিলে বলেছে, এশিয়ায় টাইগার বলতে এত দিন সবাই হংকং, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানকে বুঝত। এর বাইরেও এশিয়ায় একটি ইমার্জিং টাইগার রয়েছে, যেটি হলো বাংলাদেশ। গত জানুয়ারি মাসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম প্রকাশিত ‘ইনক্লুসিভ ইকোনমিক ইনডেক্স’-এ ভারত-পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের টিভি টকশো’তে আলোচকরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে ঐ দেশের সরকারকে বলেন, ‘পাকিস্থানকে বাংলাদেশের মত বানিয়ে দিন’।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রথম দফায় ক্ষমতায় এসে সব প্রতিকূলতাকে নিয়ন্ত্রণ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করে শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সুবিশাল প্রকাশ ঘটান। একই সময়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে। বাঙ্গালী জাতির আবেগ জড়ানো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গৌরব অর্জন করে। 
 
আমি দীর্ঘ সাত বছর মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত স্টাফ হিসাবে কর্মরত ছিলাম। তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার ও তাঁর সম্পর্কে জানার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বর্ণাঢ্য সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি অত্যন্ত পরহেজগার মুসলিম নারী, সৃজনশীল লেখক, মমতাময়ী মা, কর্মীবান্ধব অভিভাবক। তিনি কখনও ফরজ রোজা তরক করেন না ও পাঞ্জেগানা নামাজ কাজা করেন না। তিনি নিয়মিত  ‘তাহাজ্জত নামাজ’ আদায় করেন। ফজর নামাজ আদায় করে তিনি নিয়মিত পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন। তবে তাঁর তেলওয়াতের বিশেষত্ব হলো, তিনি পবিত্র কোরআনে বর্নিত মহান আল্লাহর নির্দেশনা ‘আমল’ করার জন্য প্রতিটি আয়াত বাংলা অর্থসহ তেলাওয়াত করেন।
তাঁর সৃজনশীল লেখালেখি তাঁকে আরও অনন্য আসনে বসিয়েছে। অসাধারন ধৈর্য্য সহকারে অধ্যাপক শামসুল হুদা, অধ্যাপক শামসুজ্জামান ও বেবী মওদুদ আপার সহযোগীতা নিয়ে দীর্ঘদিনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর লেখা ডাইরী থেকে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বই দুইটি প্রকাশ করে বাঙালি জাতিকে গৌরান্বিত করেছেন। সংগঠনের দুর্দিনে নিপীড়িত, নির্যাতিত, অসহায় নেতাকর্মীদের মাতৃস্নেহে আগলে রেখেছেন। অভিভাবকের সহযোগীতার হাত প্রসারিত করেছেন নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে। ২১ আগস্ট ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলায় মারাত্মক জখম হওয়া সত্বেও নিজের চিকিৎসার কথা চিন্তা না করে, নিহতদের দাফন ও আহতদের সুচিকিৎসার জন্য তিনি ছিলেন খুবই উদগ্রীব। এছাড়া নিহত ও আহতদের পরিবার-পরিজনের সাংসারিক ব্যয় মেটানোর জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠাতেও ভুল করেননি।
কেবল রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেই তিনি অনন্য নন, তাঁর রয়েছে অসাধারণ মানবিক গুণাবলি। বিলাস-বাহুল্যবর্জিত সাধাসিধে জীবনযাত্রা এবং পোশাকেআশাকে তাঁর অতুলনীয় বাঙালিয়ানা তাঁকে সাধারণ মানুষের ও দুঃখী মানুষের প্রিয় নেতা হিসেবে অসামান্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আসনে বসিয়েছে।
 
২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ জনসমর্থন নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে শক্ত হাতে বাংলাদেশের হাল ধরেন শেখ হাসিনা। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খান। অসীম সাহসিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে নারকীয় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মত পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন তিনি। এরপর বাংলাদেশকে টেনে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাওয়ার জন্য চলতে থাকে তাঁর প্রাণপণ চেষ্টা। খাদ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশ থেকে ‘মঙ্গা ও লোডশেডিং’ দূর করে দেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ঘরে ঘরে চিকিৎসা সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়।
 
২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী চিন্তা প্রসূত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার ঘোষনা দিয়ে আধুনিক বিশ্বের ন্যায় ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি সুবিধা’র স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন বাংলার মানুষকে। দুরদৃষ্টসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক (Visionary Stateman) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ আর স্বপ্ন নয়-এক মোহনীয় বাস্তব। বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ আজ ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধাভোগী।
 
শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় ২০১৫ সালের ৭ মে  বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির মধ্য দিয়ে  বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়  ছিল আরও একটি যুগান্তকারী ঘটনা।
বিশ্বের বড় বড় পরাশক্তির শত বাধার মুখে সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা নদীর বুকে পাঁচ কিঃমিঃ অধিক দীর্ঘ পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। এ অনন্য অর্জনের সময়ই হোলি আর্টিজানের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন তখন তিনি এ মানবতার শত্রুদের দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেন। 
 
মায়ানমারে নির্যাতিত ও বিতারিত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মুসলমানদের আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিক সমস্যায় মানবিক ও রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ নিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভুমিকা রেখেছেন। গণহত্যার শিকার মিয়ানমারের ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা বিশ্বে বাংলাদেশকে পরিচিত করেছেন এক মানবতাবাদী দেশ হিসেবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি গোটা বিশ্বকে জাগিয়ে তুলেছেন। বর্তমানে বিশ্বনেতাদের আলোচনার অন্যতম বিষয় হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু। গার্ডিয়ান পত্রিকায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যে বিশাল মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বিরল। তিনি যে একজন হৃদয়বান রাষ্ট্রনায়ক, তা তিনি আগেও প্রমাণ করেছেন, এবারও প্রমাণ করলেন।’বিশ্ব কূটনীতিতে, এটি একটি বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকটে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমার দেশের ১৬ কোটি মানুষ খেতে পারলে ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসনমানও খেতে পারবে’। এই বলে রোহিঙ্গাদের তিনি মায়ের মত নিচের আঁচলে আশ্রয় দিয়েছিলেন। এই কারনেই  ব্রিটিশ মিডিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা খালিজ টাইমস বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘প্রাচ্যের নতুন তারকা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
 
শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই মানবতা বিরোধীদের বিচার হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচার হয়েছে, বিচারের রায় কার্যকর হয়ে দেশ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে।
তাঁর শাসনামলেই সমুদ্রসীমা জয় করেছে বাংলাদেশ, যা বাংলাদেশের ভৌগোলিক ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আদায়ে সক্ষম হয়েছেন।
বাংলাদেশে নারীদের ক্ষমতায়নে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন শেখ হাসিনা। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডাব্লিউইএফ) বৈশ্বিক লিঙ্গবৈষম্য বিষয়ক ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে চারটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের সবার ওপরে স্থান পেয়েছে। এই চারটি ক্ষেত্র হলো—ছেলে ও মেয়েশিশুদের বিদ্যালয়ে ভর্তি, মাধ্যমিকে ছেলে ও মেয়েদের সমতা, নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং জন্মের সময় ছেলে ও মেয়েশিশুর সংখ্যাগত সমতা। আর নারী-পুরুষের সমতার দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় সব দেশের ওপরে স্থান দিয়েছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়। লেবার পার্টির সিনিয়র এমপি জিম ফিটজপ্যাট্রিকস বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য উন্নয়নের রোল মডেল।’
 
শুধুমাত্র নারী নেতা এই জন্য নয় বরং প্রান্তিক, দরিদ্র ও বিপর্যস্ত মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে তিনি যেন আবির্ভূত হয়েছেন।
জার্মানির আঙ্গেলা মের্কেল বা নিউজিল্যান্ডের জাসিন্ডা আরডার্ন বিশ্বে প্রশংসিত নেতা। কিন্তু ধনী ওই দেশগুলোর জনসংখ্যা এতো কম যে, ওই দেশগুলোকে সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য এতো বেগ পেতে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশকে একটি ছোট ও জনবহুল দেশ হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা যেভাবে তাকে এগিয়ে নিচ্ছেন, যেভাবে সংকট মোকাবেলা করছেন তাতে তিনি বিশ্বে  নেতৃত্বে রোল মডেল  হয়ে গেছেন।
 
সারাবিশ্বে চলমান করোনা সংকটকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫ তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে, করোনা ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আশা করা হচ্ছে বিশ্ব শিগগিরই কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন পাবে। সব দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একই সঙ্গে পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতিসংঘের অধিবেশনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত, তিনি কয়েকটি মৌলিক বিষয় সামনে এনেছেন।
প্রথমত, ভ্যাকসিন বৈষম্য যেন না হয়, সে ব্যাপারে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভ্যাকসিন যেন আসে এবং সেই ভ্যাকসিন যেন প্রান্তিক এবং দরিদ্র জন গোষ্ঠী যেন পায়- তা নিশ্চিত করার কথা তিনি বলেছেন। যেটি বিশ্বে প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে তিনি উচ্চারণ করেছেন।
দ্বিতীয়ত, শেখ হাসিনা জলবায়ু মোকাবিলার জন্য আরও গুরুত্ব দেয়ার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আহবান জানিয়েছেন। অনেক বিশেষজ্ঞরাই  বলছেন ‘করোনা হলো প্রকৃতির প্রতিশোধ’। আমরা যে প্রকৃতির উপর অত্যাচার-অবিচার করেছি তার প্রতিশোধ। এই বাস্তবতায় শেখ হাসিনা যখন জলবায়ু প্রসঙ্গটি সামনে এনেছেন, তখন তিনি যেন বিশ্ব বিবেকের কন্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন।এভাবেই বাংলাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়ে যান মমতাময়ী এবং মানবকল্যাণে ব্রতী দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফোর্বস ম্যাগাজিন করোনা মোকাবেলায় বিশ্বের দুইশতাধিক দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ৭টি দেশের গৃহিত পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রশংসা করে লেখা হয়েছে, প্রায় ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস বাংলাদেশে। সেখানে দুর্যোগ কোন নতুন ঘটনা নয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বশান্তির অগ্রদূত শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলায়ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া  দক্ষতার সঙ্গে সংকট মোকাবেলা তাঁর জন্য নতুন কিছু নয়। তার এই তড়িৎ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে ‘ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরাম’ বিষয়টিকে `প্রশংসনীয়` বলে উল্লেখ করেছে। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দুরদর্শিতা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক বিশ্বে সুউচ্চ মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছে। সারা বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতারা তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। নেতৃত্ব গুণে ও সততায়  তিনি আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত। দুর্দমনীয় অসীম সাহস, বাস্তব কৌশল ও পরিকল্পনা দ্বারা করোনা মোকাবেলা করে পেয়েছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ডব্লিউএফপি অনুমান করে বলেছে, করোনা প্রতিরোধে লকডাউনের কারণে শুধু শিল্প নয়, কৃষিতেও উৎপাদন কম হবে, ফলে বিশ্বে ৩ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যেতে পারে। কৃষির ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ায় ডব্লিউএফপিএর ভবিষ্যত বানী ভুল প্রমাণিত করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেছেন, ‘করোনা ও বন্যা যাই হোক না কেন, বাংলাদেশে খাদ্য সংকট হবে না’। তাঁর কথাই এ পর্যন্ত সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। 
 
অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকার ১৯৯৭ সালে যুগান্তকারী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীকে সহায়তা ও নারীকল্যাণ, গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।’ অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, মেধা, বিচক্ষণতা, আত্মপ্রত্যয় ও দূরদর্শিতার কারণে তিনি এখন বিশ্ব নেত্রী। 
প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আব্দুল গফফার চৌধুরী এক প্রকাশনায় লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, হাসিনার শাসনামল একদিন অতীতের হোসেনশাহী শাসনামলের মতো বাংলার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে সংযুক্ত হবে।’। সমাজবিজ্ঞানী অনুপম সেনের মতে, ‘শেখ হাসিনা একই সঙ্গে বজ্রের মতো কঠিন-কঠোর ও ফুলের মতো কোমল নেত্রী। তিনি পিতৃ-মাতৃহীন শিশু, বঞ্চিত শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে যেমন কেঁদে আকুল হন, তেমনি মানবতাবিরোধী গণহত্যাকারীরা, তার চেনা মানুষ হলেও, তারা যখন তাদের কৃত-অপরাধের জন্য যোগ্য শাস্তি পায়, তখন তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ে তা অনুমোদন করেন ‘। 
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটেছে। কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন মন্ত্রী মেরী ক্লদ বিবেউ বলেছেন, শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে দক্ষিণ এশিয়ার স্তম্ভ।
২০১৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল সান্তোস শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার বিবেক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আরেক নোবেলজয়ী কৈলাস সত্যার্থী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বমানবতার আলোকবর্তিকা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান শেখ হাসিনাকে অভিহিত করেন ‘বিরল মানবতাবাদী নেতা’ হিসাবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেন, ‘বাবার মতোই বিশাল হৃদয় তাঁর।’ ইন্ডিয়া টুডে তাদের দীর্ঘ এক প্রতিবেদনে লেখে, ‘শেখ হাসিনার হৃদয় বঙ্গোপসাগরের চেয়েও বিশাল, যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে কার্পণ্য নেই।’
ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী সরকারপ্রধান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নভেম্বর ২০১৭ সালে বিশ্ববিখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিন জরিপে বিশ্বের ক্ষমতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৩০তম অবস্থানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পিপলস অ্যান্ড পলিটিক্স এর সর্বশেষ গবেষণায় বিশ্বসেরা পাঁচজন কর্মঠ এবং পরিশ্রমী সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে বাংলাদেশকে যেখানে এনে দাঁড় করিয়েছেন তা এক অসম্ভব সাফল্য, যা অনেক শাসকের কাছেই অকল্পনীয় ও ঈর্ষণীয়। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এখন চমক। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বকে এগিয়ে নেয়ার আন্তর্জাতিক মঞ্চে শেখ হাসিনার পরামর্শও এখন গ্রহণযোগ্য এবং প্রশংসনীয়। তিনি আজ জাতিসংঘ তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তি ও ন্যায়ের এক মূর্তপ্রতীক। তিনি শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিশ্বের অন্যতম প্রধাননেতা হিসেবে নিজের দেশ ও জনগণকে তুলে ধরেছেন সবার ওপরে। ত্যাগে, দয়ায়, ক্ষমায় ও সাহসের মহিমায় শেখ হাসিনা আজ বিশ্বের বিস্ময়। শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগেরই নেতা নন, তিনি আজ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে  রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়েছেন।
 
৭৪ তম জন্মদিন উপলক্ষে পাঠানো বিশেষ বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে।
৭৪ বছরে পদার্পণের এই শুভ জন্মদিনে পরমকরুনাময় আল্লাহতাআলার নিকট আমাদের প্রার্থনা, সংগ্রাম সাফল্য আর বর্ণাঢ্য জীবনের জীবন্ত কিংবদন্তি জননেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘজীবী হোন।
বাঙালি জাতিকে আরও দীর্ঘদিন উন্নত, সমৃদ্ধ জীবন গড়ার কর্মযজ্ঞে নেতৃত্ব দিন, সুস্থ থাকুন।