ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হোসেন জিল্লুর: গণতন্ত্র উত্তরণের নেপথ্য যোদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার, ০৯:০১ পিএম
হোসেন জিল্লুর: গণতন্ত্র উত্তরণের নেপথ্য যোদ্ধা

 

এখন বাংলাদেশে সুশীল সমাজ মানেই সরকারের কট্টর সমালোচক। সব কিছুতেই গেল, গেল সর্বনাশ হয়ে গেল বলাই যেন তাদের প্রধান কাজ। বিরাজনীতিকরণে তারা আসক্ত প্রায়। টেলিভিশনে আর সংবাদপত্রে বিবৃতি দিয়ে সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণই তাদের একমাত্র আরাধ্য যেন। কিন্তু এর মধ্যে ব্যতিক্রম কিছু মানুষ আছেন। যারা কাজ করেন নীরবে। নিজেকে পাদপ্রদীপে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। যেকোনো বিষয়ে হুলস্থল করাও তাদের ধাতে নেই। কিন্তু জাতির সংকটে ঠিকই তার দায়িত্ব পালন করেন নিষ্ঠার সঙ্গে, দক্ষতার সঙ্গে। তাদের একজন অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান। বর্তমানে ব্র্যাকের চেয়ারপারসন।

হোসেন জিল্লুর রহমান ১৯৯৬ সালে ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) গঠন করেন। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা ও সুশাসন তার গবেষণার প্রিয় বিষয়। নীরবে নিভৃতে কাজ করা এই গবেষক প্রথম আলোচনায় আসেন ২০০৮ সালে ৯ জানুয়ারি। এই সময় বিতর্কিত হওয়া দুই উপদেষ্টা বিদায় নিলে, যাদের নতুন করে উপদেষ্টা করা হয় তাদের একজন হোসেন জিল্লুর রহমান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যখন জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের ক্ষমতা দখলের অভিলাষ ফিকে হয়ে আসে, তখন তিনি গণতন্ত্রের উত্তরণের পথ খুঁজতে থাকেন। এজন্য তিনি এমন কাউকে খুঁজে নিয়েছিলেন যিনি ঠান্ডা মাথায় গণতন্ত্রের উত্তরণে সমঝোতার পথ তৈরি করবেন।

অনেকেই মনে করেন, নানা অভিযোগ সত্বেও ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেষ পর্যন্ত যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছিল- তার বড় কৃতিত্ব হোসেন জিল্লুর রহমান। জানা যায়, হোসেন জিল্লুরকে বেছে নিয়েছিলেন ড. ফখরুদ্দিন আহমেদ। তিনি চেয়েছিলেন, একজন ঠান্ডা মাথার বু্দ্ধিদীপ্ত মানুষ, যিনি দুটো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে সক্ষম।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সেটা না হলে শিগগিরই তত্ত্বাবধায়ক সকারের বিরুদ্ধেই বড় আন্দোলন শুরু হতো। এটা দেশকে আরেক সংকটে নিয়ে যেত। হোসেন জিল্লুর দায়িত্ব গ্রহণের পরপর একটি নির্বাচনী রোড ম্যাপ তৈরি করেন। এটি তিনি উপদেষ্টা পরিষদে উপস্থাপন করেন। এরপর দুই নেত্রীর মুক্তি। রাজনৈতিক সংলাপ এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ড. ফখরুদ্দিন এবং জেনারেল মঈন দুজনই তাকে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের পথ তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিলেন। প্রায় এক বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তাকে নিয়ে বিতর্ক হয়নি কখনো। খুব বেশি কথাও বলেননি তখন। এখনো খুব বেশি সরব নন তিনি। গণতন্ত্রের উত্তরণের তিনি যেমন নীরব যোদ্ধা, তেমনি এখন ‘সুশীল’দের জন্যও তিনি উদাহরণ। সারাক্ষণ ওয়াজ নসিহত না করেও কীভাবে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করা যায় তার ভালো উদাহরণ সম্ভবত ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।