ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বঙ্গোপসাগর যুদ্ধে ভারত-চীন-মার্কিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ অক্টোবর ২০২০ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
বঙ্গোপসাগর যুদ্ধে ভারত-চীন-মার্কিন

 

বাংলাদেশকে চটাতে চায় না এখন প্রভাবশালী কোন দেশই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ভারত তিনটি দেশই বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রগাঢ় করতে চান। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই তিন বড় দেশের বাংলাদেশ প্রীতির সবচেয়ে বড় কারণ হলো বঙ্গেপসাগর। বৈশ্বিক রাজনীতি এবং আধিপত্য বিস্তারের কৌশলগত কারণে এই তিন দেশের কাছেই বঙ্গোপসাগর গুরুত্বপূর্ণ।

বঙ্গোপসাগর নিয়ে মার্কিন আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ভু রাজনীতিক খবরদারি টিকিয়ে রাখতে বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এক সময় সেন্টমার্টিনে সামরিক ঘাটি করার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়েছিল দেশটি। এখন আবার নতুন করে বঙ্গোপসাগরে আগ্রহ দেখাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমার, চীনকে চাপে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বঙ্গোপসাগরে স্থায়ি অবস্থান কৌশলগত কারণে জরুরি।

গত কয়েক বছর ধরেই উপমহাদেশে আগ্রহ বাড়ছে চীনের। ভারতকে চাপে ফেলতে ইতোমধ্যে লাদাখে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে চীন। চীনের এখন নজর বঙ্গোপসাগরের দিকে। চীনের হিসেব খুব পরিষ্কার। বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব পেলে চারদিক থেকে ভারতকে চেপে ধরা সহজ হবে চীনের। অনেক কূটনীতিক মনে করেন, চীন বাংলাদেশে এতো বিনিয়োগ করছে, ঋণ দিচ্ছে, তার লক্ষ্য একটাই বঙ্গোপসাগরের কর্তৃত্ব। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সাবমেরিন দিয়ে ইতোমধ্যে একধাপ এগিয়ে গেছে চীন এমনটাই মনে করেন অনেক বিশ্লেষকরা।

বঙ্গোপসাগরের দিকে চীনের এতো আগ্রহের কারণেই এখন ভারতও বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব চায়। কূটনীতিকরা মনে করেন, চীনের সঙ্গে এখন বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব চায়। কূটনীতিকরা মনে করেন, চীনের সঙ্গে এখন বঙ্গোপসাগর লড়াই সবচেয়ে জমজমাট। ভারত কোন ভাবেই চাইবে না, বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে থাক।
তবে মজার ব্যাপার হলো এই তিন দেশের লড়াইয়ে বাংলাদেশ নির্বিকার। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত কারো পক্ষেই নয়। বরং

বাংলাদেশের কূটনীতির একটি বড় বিষয় হলো, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের স্বাধীন এবং সার্বভৌম অবস্থান। বঙ্গোপসাগরে কারো আধিপত্য নয়, বরং এর সার্বজনীন এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারেই বাংলাদেশ আগ্রহী।

২০০১ সালের নির্বাচনের আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখানে সামরিক ঘাঁটি করতে চেয়েছিল। সেই প্রস্তাবে রাজি হলে, হয়তো ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হতো। কিন্তু ঐ প্রস্তাবে সম্মতি দেননি শেখ হাসিনা। এখনও বঙ্গোপসাগর প্রশ্নে ভারসাম্যের নীতিই তার কূটনৈতিক কৌশল।