ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নিক্সনের খুঁটির জোর কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২০ শনিবার, ০৯:০১ পিএম
নিক্সনের খুঁটির জোর কোথায়?

বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে আলোচিত নাম ফরিদপুর ৪ আসনের এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী। নিক্সন চৌধুরী একটি উপজেলা নির্বাচন নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন।
কিন্তু এই বিতর্ক কেবল ফরিদপুরের বির্তক থাকেনি। শেষ পর্যন্ত এটি এখন প্রশাসন বনাম জনপ্রতিনিধিদের লড়াইয়ে রুপ গ্রহণ করেছে।

এর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। অনেক জায়গায় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের কর্তৃত্ব সম্মান এবং মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রকাশ্য হচ্ছেন। অনেক জায়গায় নিক্সন চৌধুরীর দেখানো পথেই জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়াচ্ছেন অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।

আর এ সমস্ত প্রেক্ষাপটেই মনে করা হচ্ছে যে; নিক্সন চৌধুরী সাহস দেখিয়েছেন। তিনি যেভাবে জেলা প্রশাসকের সাথে কথাবার্তা বলেছেন, সেটি শোভন হয়নি, সেটি শালীন হয়নি। কিন্তু একজন নির্বাচিত এমপি যে জেলা প্রশাসকের চেয়ে পদমর্যাদার  উপরে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হবার কারণে তার গুরুত্ব যে অনেক বেশি এটা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন। এই জায়গায় জনপ্রতিনিধিরা তার পক্ষ নিয়েছেন।

কিন্তু কেউ কেউ বলছেন; এটা নিক্সন চৌধুরীর পক্ষেই সম্ভব। অন্য কোন এমপি যদি এরকম করতো বা এর ধারে কাছেও কাজ করতো তাহলে সেটা বরদাশত করা হতো না।

প্রশ্ন উঠেছে নিক্সন চৌধুরীর খুঁটির জোর কোথায়? অনেকেই মনে করে যে, নিক্সন চৌধুরী যেহেতু প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় সে জন্য তিনি এরকম করার সাহস পাচ্ছেন। কিন্তু যারা প্রধানমন্ত্রীকে চেনেন তারা জানেন যে, এ ধরনের কোনো কিছুতেই তিনি প্রশ্রয় দেন না। আর প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় যদি হবেন তাহলে তো তিনি ফরিদপুর ৪ আসনে স্বতন্ত্র এমপি পদে দাঁড়াবেন না। তাহলে তো তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েই নির্বাচন করতেন।

কাজেই প্রধানমন্ত্রীর সহানুভুতি বা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষপাত নিক্সন চৌধুরীর পক্ষে আছে এমন ভাবাটা অযৌক্তিক এবং কল্পনা প্রসূত ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আত্মীয়-অনাত্মীয় বিবেচনা করেন না। বরং দলের আদর্শ এবং নীতির প্রতি সম্মান দেখান। আর এ কারণেই নিক্সন চৌধুরী আত্নীয় হওয়া সত্বেও গত  দুটি নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি।

দ্বিতীয় যে বিষয়টি মনে করা হয় নিক্সন চৌধুরীর খুঁটির জোর হলো তার সাহস। তিনি সবসময় সাহসের সঙ্গে স্পষ্ট করে তার মনের কথা ব্যক্ত করেন এবং  তিনি সাহসের সঙ্গে কথা বলার জন্যই আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা কাজী জাফর উল্লাহ সঙ্গে লড়াই করে এখনো টিকে আছেন। আর এই সাহসটাই তার খুঁটির জোড়।

তবে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, শুধু সাহসের জোরে রাজনীতিতে টিকে থাকা যায় না। কারণ অনেকেরই সাহস আছে এবং সাহস দেখিয়ে অনেকে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন।

এরকম বাংলাদেশে শুধু সাহস দেখিয়ে রাজনীতিতে টিকে থাকা এবং প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ করা যায় না ।
কেউ কেউ মনে করেন যে বিপুল জনপ্রিয়তাই নিক্সন চৌধুরীর মূল খুঁটি। কারণ নিক্সন চৌধুরী তার ফরিদপুর ৪ আসনে বিপুল ভাবে জনপ্রিয় এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই।

কারণ ২০১৪ এবং ২০১৮ দুটো নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। ওই দুটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রায় ৯০ শতাংশ আসন দখল করেছে। সে নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া তাও আবার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতাকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয়ী হওয়াটা জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে বটে।

এলাকায় তিনি যে বিপুল জনপ্রিয় তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার কর্মী এবং সাধারন জনগন সব সময় তার পক্ষে। এলাকার জনগণ বলেন যে; নিক্সন চৌধুরী এলাকার জন্য যে কাজ করেন সেটি অনন্য অসাধারণ এবং তাদের জন্য অত্যন্ত আশা জাগানিয়া।

আর এ কারণেই মাদারীপুরের লোক হওয়ার পরও তিনি ফরিদপুরের এমপি হয়েছেন। এবং পরপর দু`বার এমপি হয়েছেন। আর এ জনপ্রিয়তাই নিক্সনের খুঁটির জোর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কারণ নিক্সন চৌধুরী যেভাবে জেলা প্রশাসককে চ্যালেঞ্জ করেছেন জনপ্রিয়তা না থাকলে ওই চ্যালেঞ্জের ফলাফল অন্যরকম হতে পারতো। জনপ্রিয়তা আছে বলেই নিক্সন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের আগে দশবার চিন্তা করতে হয়। কারণ জনগণের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি এটি ফরিদপুরে নিক্সন চৌধুরী প্রমাণ করেছে।