ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তাপস-খোকন দ্বন্দ্ব : মধ্যস্থতায় কাদের?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ জানুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার, ০৪:৫৮ পিএম
তাপস-খোকন দ্বন্দ্ব : মধ্যস্থতায় কাদের?

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের দ্বন্দ্বে বিব্রত এবং বিরক্ত আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এই ঘটনাকে আর বাড়তে দিতে চান না। এজন্য দুপক্ষকে সহিষ্ণু এবং সংযত আচরন করার বার্তা দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খুব শিগগীরই এই দুই নেতাকে নিয়ে বসতে পারে বলেও জানা গেছে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তাপস এবং সাঈদ খোকনের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। শুধু প্রকাশ্য নয়, দুই নেতার বিরোধ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সাঈদ খোকন, তাপসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করে, তার মেয়র পদে থাকার অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন। তাপস খোকনের বক্তব্যকে মানহানিকর বলে, তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। খোকন ‘রাজপথে’ এই মামলা মোকাবেলার ঘোষণা দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন ‘আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। দুজনের প্রকাশ্য কাঁদা ছোড়াছুড়ি কোন সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা নয়। এটা দলের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি নীতিনির্ধারকদের গোচরে এসেছে।’ আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেছেন ‘এটা শিষ্টাচার বর্হিভূত এবং বাজে দৃষ্টান্ত। এটা দলের মধ্যে অস্বস্তি তৈরী করবে।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, আওয়ামী লীগ সভাপতিও বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত। তিনি দলের সাধারণ সম্পদক ওবায়দুল কাদেরকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র গুলো বলছে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বিষয়টি নিয়ে দুই নেতার সংগে কথা বলতে পারেন। তবে, কখন, কোথায় এই দুই নেতাকে নিয়ে কাদের বসবেন, তা নিশ্চিত নয়। আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, কাদের ইতিমধ্যেই টেলিফোনে দুজনের সংগেই কথা বলেছেন। দুজনের অভিযোগ এবং অনুযোগ গুলো শুনেছেন। এনিয়ে প্রকাশ্যে বিতর্কে না জড়াতে দুই নেতাকেই পরামর্শ দিয়েছেন। এখন দুজনের মধ্যে সমস্যা সমাধানের একটি ফর্মূলা নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানা গেছে। সূত্র মতে, সাঈদ খোকন তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং তাপস খোকনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন। দুজন দুজনকে আক্রমন করে কোন বক্তৃতা বিবৃতি দেবেন না। তবে, এই সমঝোতার ক্ষেত্রে বড় বাধা ফুলবাড়িয়ার দোকান উচ্ছেদ। সমঝোতার শর্ত হিসেবে খোকন ঐ দোকান উচ্ছেদ বন্ধ চান। তার দাবী অনুযায়ী, বৈধ ভাবে ঐ দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে, এব্যাপারে অনঢ় তাপস। তিনি মনে করেন, বেআইনী কাজকে প্রশ্রয় দেয়াটা হবে আরেক অন্যায়।