ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ২০ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নানক-আযমের সন্ধানে যৌথ বাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৫:৫৯ পিএম
নানক-আযমের সন্ধানে যৌথ বাহিনী

ওয়ান-ইলেভেনের পর থেকেই শেখ হাসিনা সব খবর পাচ্ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে দীর্ঘমেয়াদী কালক্ষেপণের পথে যেতে চাচ্ছে-এটা প্রথম উপলব্ধি করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। দলের নেতাদের তিনি এব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলেন। ১৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভাপতি তার দুজন ব্যক্তিগত স্টাফ ড: হাছান মাহমুদ এবং ড: আওলাদ হোসেনকে, নিয়ে বৈঠক করেন। ওখানেই তিনি সারাদেশে বার্তা পাঠানোর নির্দেশ দেন। তত্বাবধায়ক সরকার যদি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রলম্বিত করতে চায় এবং আওয়ামী লীগকে অহেতুক হয়রানি করে তাহলে আওয়ামী লীগও বসে থাকবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে এসময় বার্তা আসে, আওয়ামী লীগের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতা, গোপনে ডিজিএফ আইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এসময় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক সচিব সাবের হোসেন চৌধুরী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। সাবের জানান, তত্বাধায়ক সরকার দ্রুত নির্বাচন দিতে আগ্রহী নন। শেখ হাসিনা এব্যাপারে সাবেরের মনোভাব জানতে চান। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন,তত্বাবধায়ক সরকারকে কিছুটা সময় দেয়া উচিত। শেখ হাসিনা বুঝতে পারেন, দলের ভেতরই দ্রুত নির্বাচন নিয়ে তাকে বাধার মুখে পরতে হবে। তবে, ড: হাছান মাহমুদকে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে জীবন দেবো।’ এদিকে, বিগ্রেডিয়ার বারী এবং বিগ্রেডিয়ার আমিন আওয়ামী লীগের দুজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরা হলেন মাহমুদুর রহমান মান্না এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। মান্না বারীকে পরামর্শ দেন, যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করার। এদের কাছ থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। গাড়ী পোড়ানো, ২৮ অক্টোবরের ঘটনা সব কিছুর হোতা এরা। মান্না এটাও বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে এরা সরাসরি যোগাযোগ করে। ঐ দিন রাতেই, জাহাঙ্গীর কবির নানকের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী তাকে বাতা পাঠান। ঐ বার্তায় বলা হয়, তাকে এবং মির্জা আযমকে গ্রেপ্তার করে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জবানবন্দী নেয়া হবে। জাহাঙ্গীর কবির, নানক তখন আত্মগোপনে। মির্জা আযমও তাই। তারা সিদ্ধান্ত নেন, দেশে থাকলে, তাদের গ্রেপ্তার হতেই হবে। তাই তারা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একটি প্রাইভেট কারে ছদ্মবেশে তারা দেশ ছেড়ে চলে যান। নানক-আযমকে ধরতে না পারায়, ক্ষুব্ধ হন বারী এবং আমিন। এরপর শেখ হাসিনাকে ফাঁসাতে এরা বিকল্পের খোঁজ করেন। বিকল্পের তালিকায় ছিলো, শেখ সেলিম,আবদুল জলিল, ওবায়দুল কাদের এবং ড: আওলাদ হোসেন।

আগামীকাল, পর্ব: ১৩: তারেককে নিয়ে সেনা সদরে ক্ষোভ।