ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রেজাউল: কেন জিতবেন, কেন হারবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০২১ রবিবার, ০৭:৫৯ পিএম
রেজাউল: কেন জিতবেন, কেন হারবেন?

আগামী ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। এই নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা দেশ। অন্যান্য নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও কি একতরফা ভাবে জিতবে আওয়ামী লীগ? নাকি এই নির্বাচনের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি? এরকম প্রশ্ন এখন চট্টলাবাসীর মুখে মুখে। এই নির্বাচনে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকে নিয়ে এই প্রতিবেদন।

যে কারণে জিততে পারেন রেজাউল:

১. রাজনীতিতে কোন কলঙ্ক নেই: ত্যাগী নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা। এজন্য এলাকাবাসীদের ভোট তার পক্ষে যেতে পারে।

২. মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী: প্রয়াত মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর আলাদা সম্মানের জায়গা আছে মহানগরীর ভোটারদের মধ্যে। সেই সম্মান ও আবেগ যেতে পারে রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে।

৩. আওয়ামী লীগের উন্নয়নের রাজনীতি: গত এক যুগে আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রামে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছে। জনগণ জানে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হলে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে।

৪. শক্তিশালী সংগঠন: চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সংগঠন অত্যন্ত শক্তিশালী। দলের নেতাকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগ আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে জোয়ার আনতে পারে।

৫. কেন্দ্রীয় নেতাদের চট্টগ্রাম সফর: নির্বাচন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম সফর করেছেন। এটা দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং পূণ:শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে উৎসাহিত করেছে। এটি নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

যে কারণে হারতে পারেন রেজাউল:

১. আ.জ.ম নাছিরের ভূমিকা: আওয়ামী লীগের নেতা এবং সাবেক মেয়র আ.জ.ম নাছির চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বড় ফ্যাক্টর। তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীর বিপক্ষ গ্রুপের নেতা হিসেবে পরিচিত। এই নির্বাচনে তার আসল ভূমিকার উপর নির্বাচনের ফলাফল অনেকখানি নির্ভরশীল। গোপনে তিনি যদি অন্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তাহলে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপর্যয় হতে পারে।

২. ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী: চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ বিভক্ত। ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩১টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি ওয়ার্ডে বিদ্রোহীরা অনঢ়। এদের ভূমিকা এই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রভাব ফেলবে।

৩. গোপন অন্তঃকলহ: কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য কোন্দল বন্ধ হয়েছে। কিন্তু এই অন্ত:কলহ যদি গোপনে হয় তাহলে নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

৪. জামাত ফ্যাক্টর: চট্টগ্রামের রাজনীতিতে জামাত সব সময় একটা ফ্যাক্টর। জামাত যদি একট্টা হয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে অবস্থান নেয় তাহলে এই নির্বাচনে জয় রেজাউল করিম চৌধুরীর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

৫. বাবু নগরী এবং হেফাজত ফ্যাক্টর: চট্টগ্রামে হাটহাজারী মাদ্রাসা ঘিরে হেফাজত এখন মহানগর রাজনীতিতেও একটা ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুনায়েদ বাবু নগরী হেফাজতের আমীর হবার পর চট্টগ্রামে হেফাজতে ইসলামের আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থান লক্ষণীয়। নির্বাচনে এর প্রভাব কি হয় তার উপর ফলাফল কিছুটা হলেও নির্ভরশীল।