ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার যে ৫ সিদ্ধান্তে তছনছ বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার, ০৭:০০ পিএম
শেখ হাসিনার যে ৫ সিদ্ধান্তে তছনছ বিএনপি

জিয়াউর রহমানের ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপির জন্য বিনামেঘে বজ্রপাতের মতো। বিএনপি নেতারা ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি যে এরকম একটি ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। শুধু বিএনপি কেন, আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাই এ ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলেন। শেখ হাসিনার নির্দেশেই যে শাজাহান খান এই প্রস্তাব জামুকা’র বৈঠকে এনেছিলেন, তা সহজেই অনুমেয়। এটাই হলো আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চমক। এরকম আচমকা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বিএনপিকে হতভম্ব, হতবিহ্বল এবং তছনছ করেছেন। বিএনপি যেটি স্বপ্নেও ভাবেনি, সেটি শেখ হাসিনা করে বিএনপিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় করেছেন। আসুন এরকম আরো কিছু সিদ্ধান্ত জেনে নেয়া যাক;

১. ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ: বাংলায় একটা কথা হচ্ছে ‘ভিটেয় ঘুঘু চড়ানো।’ সেই উক্তির আক্ষরিক বাস্তবায়ন হলো বেগম জিয়াকে মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ। বিএনপি নেতারা স্বপ্নেও ভাবেনি শেখ হাসিনা এটা করতে পারেন। আর আচমকা আসাতে আদালতে গিয়ে বিএনপির আইনজীবীরাই খালেদাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের শেষ আনুষ্ঠানিকতা টুকু স্থাপন করেন।

২. গণভবনে চায়ের দাওয়াত: ২০১৪ এর নির্বাচনের আগে বেগম জিয়াকে আচমকা চায়ের দাওয়াত ছিলো শেখ হাসিনার আরেক চমক। নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করছে। এরমধ্যে সংলাপে আমন্ত্রণ জানায়ে টেলিফোন করলেন বেগম জিয়াকে। আচমকা এই ফোনে বেগম জিয়া যা বলেছেন, তাতে তার রাজনীতির বারোটা বেজেছে।

৩. কোকোর মৃত্যুর পর খালেদার অফিসে যাওয়া: সরকার বিরোধী লাগাতার অবরোধের মধ্যেই বেগম জিয়ার ছোট ছেলে কোকো মালয়েশিয়ায় মারা যায়। এসময় খালেদা জিয়া দলীয় কার্যালয়ে লাগাতার থাকার ঘোষণা দিয়ে সেখানে অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে কোনও রকম প্রটোকল ছাড়া শেখ হাসিনা গুলশানে ছুটে যান বেগম জিয়াকে সান্তনা দিতে। শেখ হাসিনার আচমকা সিদ্ধান্তে খেই হারায় বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। এটি সম্ভাবত শেখ হাসিনার কাছে খালেদার সবচেয়ে বড় পরাজয়।

৪. খালেদার কারাগার ও জামিন: ২০১৮ এর ৭ ফেব্রুয়ারি যখন বেগম জিয়া দন্ডিত হয়ে কারাগারে যান, বিএনপির কোনও নেতা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি যে, বেগম জিয়া ২৫ মাস জেলে থাকবেন। আবার গত বছর ২৫ মার্চ বেগম জিয়ার জামিনও ছিলো বিএনপির জন্য যেন আচমকা বজ্রপাত। ২৫ মাসে বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপির দৈন্যরাজনীতি আর জামিন দিয়ে শেখ হাসিনার করুনা এবং উদারতা বিএনপিকে বিকলাঙ্গ করে দেয়।

৫. বীর উত্তম খেতাব বাতিল: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার খেতাব বাতিলও ছিলো সর্বশেষ চমক। এটি কি বিএনপির কফিনে শেষ পেরেক?