ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মঙ্গলবার, ০৫:৫৯ পিএম
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী

শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার পর তার চোখ এবং কানের সমস্যার বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং সেই প্রেক্ষাপটেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী প্রথম কারাগারে সাক্ষাৎ করেন। উল্লেখ্য যে, দীর্ঘদিন ধরেই আওয়ামী লীগের সভাপতি নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করাতেন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা করাতেন এবং বাংলাদেশে তার চিকিৎসা করতেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। এ ছাড়াও কারাগারে অভ্যন্তরে থাকাকালীন তার নানা রকম স্বাস্থ্যগত জটিলতা দেখা দেয়।

মোদাচ্ছের আলীর সাক্ষাতের পর একাধিক চিকিৎসকদের দিয়ে একটি টিম গঠিত হয়। এই টিমে সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ছাড়াও ছিলেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা: এবি এম আব্দুল্লাহ, গাইনী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডাঃ শাহলা খাতুন, নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলমসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসক। মোদাচ্ছের আলী তার সাক্ষাতের পর সরকারের কাছে বলেন শেখ হাসিনার অন্যান্য চিকিৎসার জন্য আরও চিকিৎসক প্রয়োজন এবং সেই অনুযায়ী কারাগারে অন্যান্য চিকিৎসকরাও শেখ হাসিনাকে পরীক্ষা করার জন্য যান। রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে একদিকে যেমন জিল্লুর রহমান ও সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগকে রক্ষা করেন অন্যদিকে তৃণমূল শেখ হাসিনার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিলো। তেমনি  চিকিৎসকদের মধ্যে একটি টিম শেখ হাসিনার স্বাস্থ্য সুরক্ষা করার দিকে গুরুত্বারোপ করেন। এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা দাবি করেন যে শেখ হাসিনার স্বাস্থ্যগত জটিলতা ক্রমশ বাড়ছে এবং তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে। বিদেশে নেয়ার ব্যাপারে সরকারের আপত্তি থাকলেও স্বাস্থ্যগত কারণে শেখ হাসিনার মুক্তির বিষয়ে সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী একটি চিঠি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় (বর্তমানে প্রধান বিচারপতির কার্যালয়) এ যান। সেখানে তিনি একাই দাঁড়িয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এটি সারাদেশের মানুষের মধ্যে আবেগের সৃষ্টি করে।

এরপর সরকারের টনক নড়ে। শেখ হাসিনার চিকিৎসকরা যৌথভাবে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের কাছে আবদেন করেন এবং শেখ হাসিনাকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একটি নিরপেক্ষ চিকিৎসক প্যানেল শেখ হাসিনাকে পরীক্ষা করে দেখবেন তার বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, এরকম একটি সমঝোতায় পৌঁছায় সরকার। মূলত জানুয়ারি মাসের পর থেকেই সরকার সমঝোতার পথ খুঁজছিলো এবং সেখানে চিকিৎসকরা শেখ হাসিনার মুক্তির ব্যাপারে একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। স্কয়ার হাসপাতালে অবস্থানের পর শেখ হাসিনাকে যারা চিকিৎসা করছিলেন তারা সরকারকে বলেন যে তার কানের চিকিৎসা ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়া প্রয়োজন। এই সময়ে উচ্চ আদালতেও শেখ হাসিনার পক্ষে একটি অবস্থান তৈরি হয় এবং প্রত্যেকটি মামলা থেকে তিনি জামিন পেতে শুরু করেন। অন্যদিকে মেডিকেল বোর্ডের মতামতের পর শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসরা একরকম স্বোচ্চার হন এবং চিকিৎসকদের এই আন্দোলন রানৈতিক আবরণ পায়। এই সূত্র ধরে আওয়ামী লীগও শেখ হাসিনার মুক্তি এবং বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার দাবি উত্থাপন করে। এই রকম একটি প্রেক্ষাপটে ১১ জুন সরকার শেখ হাসিনাকে ৮ সপ্তাহের বিশেষ প্যারোলে মুক্তির সুযোগ দেন তবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই শেখ হাসিনা সবগুলো মামলা থেকেও জামিন পান ফলে তার প্যারোল আপনাআপনি অকার্যকর হয়ে যায় এবং শেখ হাসিনার মুক্তির পথ সুগম হয়ে যায়। দীর্ঘ ১০ মাস ২৫ দিন কারাভোগের পর ১১ জুন ২০০৮ এর বিকেলে তিনি মুক্তি পান এবং পরদিনই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য চলে যান। 

আগামীকাল পর্ব-৩৯: শেখ হাসিনার মুক্তির পর টালমাটাল বিএনপি