ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দিন বদলের ইশতেহারের পক্ষে গণ রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ রবিবার, ০৫:৫৯ পিএম
দিন বদলের ইশতেহারের পক্ষে গণ রায়

১/১১ ছিলো রাজনীতির জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। বিরাজনীতিকরণের শক্তির সঙ্গে রাজনীতিবিদদের যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয় হবে কি না সেটাই ছিলো পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতিবিদরাই জয়ী হয়েছিলেন। ১/১১ এর যে মূল পরিকল্পনা সেই পরিকল্পনা ছিলো দীর্ঘদিন ধরে অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় রাখা। এ কারণেই ১/১১ সরকারের সময় রাজনীতিতে বিভাজন তত্ত এনেছিলো, নতুন রাজনৈতিক দল করার চেষ্টা করা হয়েছিলো এবং দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের নামের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু এই প্রচেষ্টা সফল হয়নি শুধুমাত্র শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শীতার জন্য। শেখ হাসিনা একদিকে যেমন দলকে আগলে রেখেছিলেন অন্যদিকে তিনি প্রমাণ করতে পেরেছিলেন যে গণতন্ত্রের বিকল্প শুধুমাত্র গণতন্ত্রই। অগণতান্ত্রিক সরকার কখনও গণতন্ত্রের কল্যাণ করতে পারে না।

নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ছিলো অবধারিত। কারণ ১/১১ এর পরে বিএনপি ছিলো ক্ষতবিক্ষত এবং তাদের নেতাদের যে বিভক্তি ছিলো কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাছাড়া তারেক রহমানের অনুপন্থিতি এবং বিএনপির অর্থদাতাদের পলায়নসহ নানা কারণে বিএনপি ব্যাকফুটে গিয়েই নির্বাচন করে। অন্যদিকে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে বিএনপির অনিয়মের জবাব দিতে জনগণও মুখিয়ে ছিলো। 

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছিলো। দিন বদলের ডাক এবং সেই দিন বদলের ডাকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছিলো। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখিয়েছিলো আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় বিষয়টি ছিলো আওয়ামী লীগের সাহসী উচ্চারণ সেটি হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে এদেশের দোসররা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো, আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছিলো, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করেছিলো তাদের বিচার একটি গণদাবিতে পরিণত হয়েছিলো।

শহীদ জননী জাহানারা ইমামেমর নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির যে অভিযাত্রা সেই অভিযাত্রা পূর্ণতা পায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে। আর এই দুটি কারণে তরুণ ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রতি ব্যাপক সমর্থন দেখায়। আওয়ামী লীগ প্রায় তিন চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে বসে এবং নতুন সরকার গঠন করে। সরকার গঠন করলেও শেখ হাসিনা প্রতিহিংসা নীতি গ্রহণ করেননি।  ১/১১ এর অন্যতম কূশীলব সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদকে চাকরিতে বহাল রেখেছিলেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারও বিরুদ্ধে আক্রশমূলক ব্যবস্থা গ্রগণ করেননি বরং একটি জাতীয় ঐক্যমতের আবহের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। আসলে ১/১১ এই যুদ্ধে তিনি দুটো বিজয় অর্জন করেছিলেন। বিরাজনীতিকে পরাভূত করে রাজনীতির ঝান্ডা উড়াতে সক্ষম হয়েছিলেন আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে যুদ্ধপরাধী এবং তাদের দোসরদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকা বিএনপিকে রাজনীতির মাঠ ধেকে বিদায় করে দিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনের ক্ষত এখনও বিএনপি শুকাতে পারেনি।