ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাওয়া ভবনের অন্দরমহল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৫:৫৯ পিএম
হাওয়া ভবনের অন্দরমহল

২০০১-০৬ সময়কাল। সরকারের বাইরে ছিলো আরেক সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আর সচিবালয় ছিলো পুতুল মাত্র। সব ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলো হাওয়া ভবন। হাওয়া ভবনই ছিলো বিকল্প সরকার। ২০০০ সালে গুলশানে বিএনপি নেতা আলী আসগর লবীর বাড়ি হাওয়া ভবন দখল করেন তারেক জিয়া। নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে তদারকি এবং পরিচালনার জন্যই এই অফিস করা হয়েছিল। নির্বাচনের পর এই ভবনই হয়ে ওঠে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং কমিশন বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। সব সিদ্ধান্ত নেয়া হতো এখান থেকেই। এই হাওয়া ভবনকে ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনা। সেই সব ঘটনা নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের ধারাবাহিক আয়োজন ‘হাওয়া ভবনের অন্দর মহল’-

২০০১ সালের ১ অক্টোবর। নির্বাচনের ফলাফল তখনও ঘোষণা শুরু হয়নি। কিন্তু হাওয়া ভবনে বিজয় পার্টির আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে সকাল থেকেই। হোটেল পূর্বানী থেকে শেফ এসেছে। থরে থরে সাজানো হয়েছে নানারকম মদ। সন্ধ্যার পর থেকেই বিএনপির নেতারা আসতে শুরু কররেন হাওয়া ভবনে। হারিস চৌধুরী, ফিরোজ এবং আশিক সবাইকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন। রাত ১০টার কিছু আগে হাওয়া ভবনে এলেন তারেক জিয়া। গেটের কাছে দাঁড়ানো বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মী। তারা শ্লোগান দিচ্ছে ধানের শীষ, ধানের শীষ। তারেক জিয়ার গাড়ির বহর হাওয়া ভবনের গেটে এসে দাঁড়ালো। ছাদ খুলে তারেক জিয়া জিপে দাঁড়ালেন। ভি চিহ্ন দেখিয়ে ভেতরে চলে গেছেন। রাত বারোটা নাগাদ বোঝা গেল বিপুল বিজয়ের পথে যাচ্ছে চারদলীয় জোট। তারেকের ভ্রুক্ষেপ নেই টেলিভিশনে ভোটের রেজাল্টের দিকে। সে আর মামুন ব্যস্ত মন্ত্রীসভার তালিকা নিয়ে।

রাত দেড়টায় হাওয়া ভবন জম-জমাট। সেখানে আছেন ব্যরিস্টার নাজমুল হুদা, আমান উল্লাহ আমান, ফজলুর রহমান পটল, লুৎফুজ্জামান বাবর, ব্যরিস্টার আমিনুল হক সহ আরো অনেকে। বড় বড় সিনিয়র নেতা, যারা জিয়ার সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তারা তারেককে সালাম দিতে দিতে কুজো হয়ে গেলেন। রাত তিনটায় তারেক এবং মামুন বেরিয়ে এলেন, তাদের কক্ষ থেকে। তখনও মদের উৎসব চলছে। বড় পর্দায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা চলছে। এর মধ্যে তারেক বললেন ‘এবার নির্বাচনে আমাদের অনেক খরচ করতে হয়েছে। আপনারা জানেন, কিভাবে এই নির্বাচনে আমরা জয়ী হয়েছি। তাই আমাদের দায় দেনা মেটাতে হবে। এবার মন্ত্রীসভায় ‘মা’ এর পছন্দের নেতারা থাকবেন। দীর্ঘদিন ধরে যারা বিএনপির সঙ্গে ছিলেন তাদের রাখা হবে। কিন্তু অর্ধেক মন্ত্রীসভার মাধ্যমে আমরা ফান্ড কালেক্ট করবো।’ এরপর মামুন (গিয়াস উদ্দিন আল মামুন) জানিয়ে দিলেন, যোগাযোগ, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, পররাষ্ট্র এই কয়েকটি মন্ত্রনালয় নিলাম হবে। তারিখও ঘোষণা করা হলো। ৬ অক্টোবর রাত ১০টায় নিলামে যারা অংশ গ্রহণ করতে চান তারা আসবেন।

দ্বিতীয় পর্ব : মন্ত্রী হবার নিলামে হুদা-বাবরের চমক