ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নোয়াখালীতে তদন্তে যাবে শেখ হাসিনার টীম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৬:৫৯ পিএম
নোয়াখালীতে তদন্তে যাবে শেখ হাসিনার টীম

নোয়াখালীর ঘটনার তদন্তের জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতির একটি বিশেষ টীম সরেজমিনে সফরে যাচ্ছে। সেখানে কেন এধরনের ঘটনা ঘটছে, কার দায় কতটুকু এবং অন্তর্কলহ কিভাবে দুর করা যায়, সে বিষয়ে তদন্ত করবে ঐ টীম। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যেহেতু নোয়াখালী বিতর্কে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক একটি পক্ষ। তাই তাকে বাদ দিয়েই এই তদন্ত টীম পাঠানো হচ্ছে। এই টীমে থাকছেন আওয়ামী লীগের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় কমিটির দুজন সদস্য। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি, নোয়াখালীর পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি নিজস্ব উদ্যোগে সেখানকার ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এরপর তিনি একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যকে এ ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে একটি রিপোর্ট দিতে বলেছেন। তদন্তকালীন সময়ে, আওয়ামী লীগ সভাপতির টীমটি সরেজমিনে নোয়াখালীতে যাবে, সেখানে বিবাদমান পক্ষ গুলোর সঙ্গে কথা বলবে। 

তাদের কাছে আওয়ামী লীগ সভাপতির বার্তা তুলে ধরবে। আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন ‘নোয়াখালীতে দুপক্ষেরই দোষ রয়েছে। কার কত দায়, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ তবে ঐ নেতা বলেন ‘আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনই সেখানে কঠোর অবস্থানে যেতে চায় না। বরং আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে একটি সমঝোতায় আসতে চাই।’ তবে অন্য একটি সূত্র বলছে ‘বহিস্কার বা বড় ধরনের কোনও শাস্তি দেয়া না হলেও দুপক্ষকেই সতর্ক করা হবে। ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য নোয়াখালীর নেতৃত্বেও পরিবর্তন আনা হতে পারে।’ আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, কৌশলগত কারণে এখানে আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে না। কারণ নোয়াখালীতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। একপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে, ঐ পক্ষ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে এতে দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সেই ঝুঁকি আওয়ামী লীগ নিতে চায় না। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন ‘নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের এই সমস্যা দীর্ঘদিনের পুরোনো। কিন্তু এই বিরোধ সত্ত্বেও সংগঠন শক্তিশালী। দুই পক্ষই তার পক্ষের শক্তি বৃদ্ধির জন্য জোর দেয়, ফলে সংগঠন শক্তিশালী হয়। আর তাই কাউকে দল থেকে বের করে দেয়া কোনও সমাধান নয়।

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে কাদের মির্জা এবং একরামুল করিম চৌধুরীকে আওয়ামী লীগের নেতারা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের সতর্ক এবং সংযত হবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তদন্তের পর হয়তো তাদের ঢাকায় তলব করা হবে। এই ঘটনায় অতি উৎসাহী অনুপ্রবেশকারীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে বলে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: নিক্সন চৌধুরীর ঐক্যের ডাক