ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পাপুলকে যারা এমপি বানালো তাদের কি হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৭:৫৯ পিএম
পাপুলকে যারা এমপি বানালো তাদের কি হবে?

অবশেষে বহুল আলোচিত, বিতর্কিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ভালো হতো যদি এই শূন্য ঘোষণাটি অনেক আগেই করা হতো। কারণ কুয়েতের একটি আদলতে দণ্ডিত হবার প্রায় একমাস পর জাতীয় সংসদ এই সিদ্ধান্ত নিলো। অবশ্য জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কুয়েতের আদলতে যে রায় হয়েছে সেই রায়ের কপি সংগ্রহ, যাচাই-বাচাই, পর্যবেক্ষণ শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বিলম্ব করা হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করে যে, কুয়েতে যখন পাপুলকে মানব পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল তখনই সরকারের তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ ছিল। কিন্তু সেই ব্যবস্থা গ্রহণ দেখা যায়নি। তখন যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো তাহলে সরকারের যেমন সুনাম হতো, তেমনি এভাবে দূর্বৃত্তায়ন করে যারা জাতীয় সংসদের মত পবিত্র পাদপীঠে পা রাখে তাদের বিরুদ্ধেও একটা সতর্কবার্তা দেওয়া হতো। কিন্তু সেটি করা হয়নি।

দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত পাপুলের আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই আসন শূন্যের মধ্যদিয়ে একটি মৌলিক প্রশ্ন আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তা হলো, কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলকে এমপি বানালো কারা? কীভাবে একজন মানব পাচারকারী, দুর্বৃত্ত, দুর্নীতিবাজ এমপি হতে পারে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে দেখা যায় যে, পাপুলের এমপি হওয়ার পিছনে কাজ করেছে টাকা, টাকা এবং টাকা। লক্ষ্মীপুর-২ আসন মহাজোট জাতীয় পার্টিকে দিয়েছিল। কিন্তু জাতীয় পার্টির প্রার্থীকে টাকা দিয়ে পাপুল সরিয়ে দেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল দাঁড়ান। জাতীয় পার্টির প্রার্থী শুধু যে টাকা পেয়েছিলেন এমনটি নয়, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও এই টাকার ভাগ-বাটোয়ারার অংশীদার হয়েছিলেন, এটি নিশ্চিত। জাতীয় পার্টির কোন কোন নেতা পাপুলের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তার এমপি হওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছেন, সেটি জানা প্রয়োজন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী সরে যাওয়ার ফলে পাপুলের এমপি হওয়ার পথ সুগম হয়েছিল বটে কিন্তু পূর্ণতা পায়নি। বরং যখন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ তাকে সমর্থন জানায়, তখন পাপুলের এমপি হওয়ার পথটি সুনিশ্চিত হয়ে যায়।

অনুসন্ধানে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগের একজন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, যিনি প্রধানমন্ত্রীরও একজন উপদেষ্টা তিনি পাপুলকে সমর্থন করার জন্য স্থানীয় আওয়ামী লীগকে চিঠি দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের একজন নেতা যিনি এখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্যও বটে, তিনি আওয়ামী লীগের ঐ উপদেষ্টার নির্দেশে পাপুলকে সমর্থন জানানোর জন্য লক্ষ্মীপুর আওয়ামী লীগকে চিঠি দিয়েছিলেন। আর এই চিঠি যদি না দেয়া হতো তাহলে পাপুলের কলঙ্কের ভাগ আওয়ামী লীগের ঘাড়ে এসে পড়তো না। সেই চিঠি দেয়ার কারণেই এখন পাপুলের যেই অপকর্মের দায় কিছুটা হলেও আওয়ামী লীগের ওপর আসতো। শুধু এখানেই ঘটনার শেষ নয়। পাপুল এমপি হয়েই ক্ষান্ত হয়নি। টাকা দিয়ে তার স্ত্রীকেও এমপি করেছেন। তার স্ত্রীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তার স্ত্রীর বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করছে। জাতি খুশী হবে যদি পাপুলের স্ত্রীকেও সংসদ সদস্যের (সংরক্ষিত নারী আসন) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। তাহলে জাতি পাপুলদের মত দুর্নীতিবাজদের কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাবে। আর ভবিষ্যতে যেন পাপুলদের মত কেউ টাকা খরচ করে নিজে এবং তার স্ত্রীকে এমপি বানাতে না পারে সেই ব্যাপারেও সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।