ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আবার নির্বাচন বর্জনে যাবে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৮:৫৭ পিএম
আবার নির্বাচন বর্জনে যাবে বিএনপি

সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি।  তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচির পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে একটি কঠোর অবস্থানের চিন্তা ভাবনা চলছে বিএনপির মধ্যে। এ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলে দ্বিমত আছে, তবে এখন বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতারাই নির্বাচন বর্জনের পক্ষে।  বিশেষ করে চারধাপে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনগুলোর পর বিএনপির অধিকাংশ নেতাই মনে করছেন আর নির্বাচনে যাওয়ার দরকার নেই। কারণ নির্বাচন তাদের ভাষায় একটি তামাশায় পরিণত হয়েছে। 

আর একারণে এপ্রিল থেকে যে ইউনিয়ন পর্যায়ের নির্বাচন হচ্ছে সেই নির্বাচনগুলোতে তাদের আগ্রহ নেই। তবে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন দুটি কারণে তারা নির্বাচন বর্জনের কথা ভাবছেন।  প্রথমত নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন এই নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন ঘটছে না।  পাশাপাশি এমনভাবে ভোট হচ্ছে যেখানে সরকারি দলের বিজয় সুনিশ্চিত। পাশাপাশি এই নেতা মনে করছেন যে স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ নষ্ট হয়ে গেছে এবং নেতারা টাকা খরচ করে নির্বাচনে দাঁড়াতে আগ্রহী নন।  সেই পরিস্থিতি হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে।  

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাঁড়ানোর মতো আগ্রহী প্রার্থী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।  তবে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে মূল সমস্যা আসলে অন্যত্র। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।  ঢাকা শহরেই বিএনপির সংগঠনের ঠিক ঠিকানা নেই, ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি নেই এবং ঢাকা মহানগরীর যে দুটি কমিটি আছে সেই দুটি কমিটিও এক রকম অকার্যকর।  সাম্প্রতিক সময়ে সাহারা খাতুনের আসনের উপ-নির্বাচনে দেখা গিয়েছে যে, বিএনপির ওয়ার্ড পর্যায় থেকে সংগঠিত হয়ে যে প্রচারণা সেটি করতে পারে নি।  এবং দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সময় দেখা গিয়েছে বিএনপির ওয়ার্ডে প্রার্থী দেয়াটা ছিলো দুস্কর। কারণ কোনও কমিটি না থাকা, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকার কারণে এক রকম সাংগঠনিক স্থবিরতা চলছে বিএনপির মধ্যে।

আর ঢাকার যখন এই অবস্থা তখন সারাদেশের তৃণমূলের অবস্থা আরও নাজুক।  বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়া, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করা, মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটি বাতিল করে তরুণ এবং যারা কাজ করছে তাদেরকে সামনে না নিয়ে আসার কারণে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক কর্যক্রমে এক ধরনের অচল অবস্থা তৈরি করছে।  স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন সময় তৃণমূলকে সংগঠিত করা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ওপরে গুরুত্ব দিলেও কেন্দ্রীয় নেতারা ঢাকায় বসে কিছু কর্মসূচির মাধ্যমেই তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে চান।  আর এ কারণেই স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সংগঠন এখন নেই বললেই চলে। 

ইউনিয়ন পরিষদ হলো এক প্রকারে সব থেকে প্রান্তিক পর্যায়ের সংগঠন।  ইউনিয়ন পর্যায়ে অধিকাংশ এলাকায় বিএনপির কোনও কার্যক্রম নেই এবং কোনও কমিটিও নেই। আর যে কারণেই বিএনপি এখন এক ঢিলে দুই পাখি শিকার করতে চাইছে। তারা একদিকে বলতে চাচ্ছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ নেই, নির্বাচনে ভোটারদের মতামতের প্রতিফল হয় না। কিন্তু আসলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য যে প্রার্থী দরকার বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের মতো তৃণমূলে সেই প্রার্থী সংকটে ভুগতে থাকার কারণেই বিএনপি হয়ত শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যে, তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সব নির্বাচন বর্জন করবে। 

বিএনপির অন্যতম নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন যে, নির্বাচন বর্জনের দাবি আমার দীর্ঘ দিনের পুরোনো। এবং এখন এই নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে সকলের বোধদয় ঘটেছে।  এখন তারা মনে করছেন যে নির্বাচন অংশগ্রহণ করা সমীচীন হবে না।  তিনি মনে করেন বিএনপি খুব শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেবে। তবে এরকম বর্জনের ঘোষণা বিএনপির জন্য এটিই প্রথম নয়।  ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরও বিএনপি বলেছিল এই সরকার এবং এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে আর কোনও নির্বাচনে যাবে না।  তাবে তারা সেই অবস্থা থেকে সরে এসেছে।  এখন এরকম ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত এই ঘোষণা কতদিন বিএনপি রাখবে সেটি হলো দেখার বিষয়।