ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোথায় যেনো ঘটছে কোনো সর্বনাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শুক্রবার, ০৭:৫৯ পিএম
কোথায় যেনো ঘটছে কোনো সর্বনাশ

টানা ১২ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ সরকার। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে একটি সফল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কিছু ছোটখাটো ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দৃশ্যমান হচ্ছে। যে ঘটনাগুলো ছোট হলেও সরকারে জন্য অস্বস্তিকর হচ্ছে এবং এই ঘটনাগুলিকে আপাতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করা হলেও এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই মনে করছেন কেউ কেউ।

সরকারকে বিপদগ্রস্ত করতে এবং সরকারের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে এবং সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিত ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন। এর ফলে গত ১২ বছরে জনগণের মধ্যে সরকারের ব্যাপারে যে আস্থা সেই আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলে কেউ কেউ মনে করছে। ছোট ছোট ঘটনাগুলো সরকারের জনপ্রিয়তা এবং জনগণের আস্থায় টান ধরাচ্ছে এমন অভিযোগও করছেন কেউ কেউ। এই ছোটখাটো ঘটনার দিকেও দৃষ্টি দেয়া দরকার বলেও মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। না হলে সর্বনাশ হতে সময় লাগবে না।  সাম্প্রতিক সময়ে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এই ঘটনাগুলোর যে জনমনে প্রভাব ফেলছে তার প্রমাণও দেখা যাচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  রাজশাহী এবং মানিকগঞ্জে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিপুলভাবে বিজয়ী হয়েছে। এটি আওয়ামী লীগের আইনজীবীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শুধু এই দুই জায়গায় নয়, সারাদেশে আওয়ামী লীগের যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের সর্বনাশ করছে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের একপক্ষ আরেক পক্ষকে বিভিন্ন রকম দুর্নীতির অভিযোগ তৃতীয় পক্ষের হাতে দিচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ে আওয়ামী বিরোধী এবং সরকারবিরোধীরা সুযোগ পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ নিয়ে ব্যাপকভাবে কথা হচ্ছে। বিশেষ করে লেখক, সাংবাদিক মোস্তাকের মৃত্যু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এছাড়াও নোয়াখালীর ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা, সবমিলিয়ে সরকারকে একটি নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা তীব্র হচ্ছে সেই সময়ে দেশিয় গণমাধ্যমকে কেউ কেউ উস্কে দিচ্ছে এমন অভিযোগও উঠেছে।  সরকারের ভেতরে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। এক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেক মন্ত্রণালয়ের যোগাযােগ নেই এবং একের পর এক স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন দিন বিভিন্ন রকম অবস্থান নিচ্ছেন। মাসের শুরু থেকে বলা হলো সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য। এরপর আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খোলার তারিখ নির্ধারণ করে দেয়া হলো ঈদের পর। আবার বিসিএস পরীক্ষা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলনের একটি প্রস্তুতি দৃশ্যমান হচ্ছে এবং যেকোনো সময় একটি ছাত্র আন্দোলনের শঙ্কা করছেন অনেকেই। সরকারের ভেতর থেকেই কেউ কেউ সরকারের সর্বনাশ করার চেষ্টা করছেন। কিছু কিছু মন্ত্রণালয় এমন সব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বা এমন সব বিষয় নিয়ে সামনে আসছেন যেগুলো সরকারের জন্য এখন অগ্রাধিকার নয় এবং যে বিষয়গুলো নিয়ে এখন সরকার বিতর্ক তৈরি করতেও আগ্রহী নয়।

দ্রব্যমূল্যের উধ্বগতি নিয়ে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চালের দাম বৃদ্ধিসহ নানা নৃত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের উধ্বগতি মানুষকে এক ধরনের অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতির বিষয়টি আবার নতুন করে সামনে এসেছে। এই সময় এই বিষয়টি সামনে আনার পেছনেও কোনো কোনো মহলের উষ্কানী বা ইন্ধন আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন অনেকে। সার্বিকভাবে বিভিন্ন জায়গায় সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি নীরব প্রচেষ্টা চলছে। আর এর ফলেই মনে হচ্ছে কেউ কি পরিকল্পিতভাবে সর্বনাশের কাঁটা বিছিয়ে দিচ্ছে ? যে কারণে ১২ বছর পর সরকারকে একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আর যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেই ঘটনাগুলোর কোনোটাই রাষ্ট্রের বৃহত্তর পরিসরে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নয়। পচা শামুকে পা কাটার মতো ছোট ছোট ঘটনা সরকারের সর্বনাশ ঘটানোর জন্য কেউ কি সক্রিয় ?