ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৭ পিএম
ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে

এপ্রিলে সারাদেশে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে এবং এখন এই মনোনয়ন ফরম উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছিল যে, তৃণমূলের কাছে একটি প্রাথমিক তালিকা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই প্রাথমিক তালিকা প্রণয়ন করতে গিয়ে তৃণমূলের একাধিক এলাকায় ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরকম কিছু গুরুতর অভিযোগ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এসেছে। এর প্রেক্ষিতে তিনি মনোনয়ন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এতদিন নিয়ম ছিল যে তৃণমূল থেকে যাদের নাম সুপারিশ করা হবে তাদেরকেই শুধু মনোনয়ন ফরম দেয়া হবে। জানা গেছে যে, তৃণমূলের যাদেরকে এই মনোনয়নের প্রাথমিক বাছাইয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তারা নিজেদের লোক, এমপির লোকদেরকেই শুধু বাছাই করেনি, অনেক ক্ষেত্রে বিপুল আর্থিক লেনদেনের ঘটনাও ঘটেছে। এই সমস্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রমাণ আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে এসে পৌঁছে গেছে। যদিও এই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করছে না তারপরও এ ধরনের আর্থিক লেনদেনের ঘটনাটিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বলে জানা গেছে। ফলে তিনি মনোনয়ন উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। শুধু মনোনয়ন উন্মুক্ত নয়, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সভাপতি একটি সুনির্দিষ্ট মাপকাঠি নির্ধারণ করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

আগামী ১৩ মার্চ আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই সভায় এই সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাবেন। একাধিক সূত্র বলছে যে, এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যারা শুধু ত্যাগী, পরীক্ষিত তাদেরকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। ২০০৮ এর পরে যারা আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে তাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হবে না। পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগ আছে তাদেরকেও মনোনয়ন দেয়া হবে না। মাঠ পর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাইও এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রগুলো বলছে, যেহেতু বিএনপি এবার নির্বাচনে দলগতভাবে অংশগ্রহণে করবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। একারণে আওয়ামী লীগ এই নির্বাচন উন্মুক্ত করে দিতে চেয়েছিল যে দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হবে। কিন্তু এতে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়বে। তাছাড়া বিএনপি আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেও ব্যক্তিগতভাবে বিএনপির প্রার্থীরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। যে কারণে শেষ পর্যন্ত যদি আওয়ামী লীগ তার দলীয় প্রতীক না দেয় তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি হবে এবং সেই নির্বাচনের ফলাফল আওয়ামী লীগের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। তবে এবার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে বলে আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন। কারণ এতদিন ধরে যে অনুপ্রবেশকারী, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং নিজেদের লোককে মনোনয়ন দেয়ার অভিযোগ আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে উঠে আসছিলো সেটি এখন আওয়ামী লীগ সভাপতির নজরে এসেছে। এর ফলে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে যারা বিভিন্ন সময় দলের দীর্ঘদিন কাজ করেছিল তারাই প্রাধান্য পাবেন বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।