ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এত আওয়ামী লীগ কোথায় গেলো?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ মার্চ ২০২১ বুধবার, ০৯:৫৯ পিএম
এত আওয়ামী লীগ কোথায় গেলো?

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই ১৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একটি উক্তি করেন। তিনি বলেন, যে এতো বড় দল, এত বড় সংগঠন, এত নেতা তারা কোথায় ছিল ? সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যে তাণ্ডব ঘটেছে সেই তাণ্ডবের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই উক্তিটিই যেনো বারবার ঘুরেফিরে এসেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবগুলো আসনেই আওয়ামী লীগের এমপি বিজয়ী। পৌরসভা নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয়জয়কার। সেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৬ এবং ২৭ মার্চ যা ঘটলো তা অবিশ্বাস্য, অবর্ণনীয়। এত আওয়ামী লীগ সেখানে কি করেছে ? সেই প্রশ্নটি নতুন করে এসেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেনো একটি টেষ্ট কেস। একটি প্রতীক মাত্র। সারাদেশেই আওয়ামী লীগের এই অবস্থা। গত এক যুগ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। ক্ষমতায় থাকার ফলে ক্ষমতাকেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগের যে মাঠের রাজনীতি তা সংকুচিত হতে হতে প্রায় নিঃশেষিত হয়ে গেছে। দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে গেছে। সুবিধাবাদী, মতলববাজরা দলে কর্তৃত্ব দখল করেছে। যারা নিঃস্বার্থ আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করে তারা কোণঠাসা হতে হতে নিস্ক্রিয় প্রায়। যার ফলে এই সমস্ত সুবিধাবাদী, মতলববাজ, দুর্বৃত্তরা সংকটের সময় রুখে দাঁড়াতে পারে না। দলের পক্ষে অবস্থান নিতে পারে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা যেনো তারই প্রমাণ। এই ঘটনার পর এখন আওয়ামী লীগের এমপি এবং নেতারা সেই এলাকায় যাচ্ছেন। 

কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেক নেতার প্রশ্ন, যখন বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভাঙা হলো, তখন আওয়ামী লীগ কোথায় ছিল ? যখন বিভিন্ন স্থাপনাতে অগ্নিসংযোগ করা হলো, তখন আওয়ামী লীগ কোথায় ছিল ? আওয়ামী লীগ কি এতই দুর্বল এবং প্রতিরোধহীন একটি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে ? যারা নূন্যতম প্রতিরোধ করতে পারে নি। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই স্বীকার করছেন, শুধু মাত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়া নয় সারাদেশেই আওয়ামী লীগের অবস্থাটা এরকম। গত এক যুগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি পুলিশ এবং প্রশাসন নির্ভর হয়ে গেছে। প্রশাসনই যেনো আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় আওয়ামী লীগ হয়ে গেছে। প্রশাসন ঠিক করছে আওয়ামী লীগের গতি প্রকৃতি। আর এর ফলে প্রশাসন নির্ভর রাজনৈতিক দল যে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে পারবে না এর প্রমাণ পাওয়া গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

আর যে প্রশাসন এত অনুগত, আওয়ামী লীগ ভক্ত, তাদেরকে নিয়েও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনার পর কিছু মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। যে প্রশাসন এতবড় আওয়ামী লীগ, তারা কি করেছে ?  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা সবাই বলছেন। এই অতিভক্ত সরকারি আওয়ামী লীগ এবং অনুপ্রবেশকারী আওয়ামী লীগ দিয়ে এই সংকটে আওয়ামী লীগ কখনো দাঁড়াতে পারবে না, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা তারই প্রমাণ। আর এ কারণেই আওয়ামী লীগের ত্যগী পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এখনই দলে সাংগঠনিত শক্তি এবং সত্যিকারের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের সামনে আনতে হবে। না হলে দুঃসময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মতো সবাই পালিয়ে তামাশা দেখতে থাকবে।

বিষয়: আওয়ামী-লীগ