ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হেফাজতের ৫ ভুল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৫:৫৭ পিএম
হেফাজতের ৫ ভুল

সরকার এখনও হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেননি। কিন্তু তার পরেও হেফাজত যেন লন্ডভন্ড, বিপর্যস্ত এবং বিভক্ত। হেফাজতের নেতারাই এখন আত্মসমালোচনায় মত্ত হয়েছেন। একে অন্যকে সমালোনা করছেন, নিজেদের ভুলগুলোর ব্যাপারে খোলামেলা কথা বলছেন। বাইরে হেফাজতকে যতোই হুংকার দিতে দেখা যাক না কেন ভেতরে ভেতরে হেফাজতের ভেতরেই চলছে তীব্র টানাপোড়েন। হেফাজতের নেতারা মনে করছেন জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের আমীর হওয়ার পর অন্তত ৫টি ভুল করেছেন যে ভুলের কারণে হেফাজত এখন একটা সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্যে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ সহসা সম্ভব নয় বলে অনেকে মনে করছেন। 

হেফাজতের একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতের দায়িত্ব নেয়ার পর একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সরকারের কোনো আক্রমণের আগেই হেফাজত বিপর্যস্ত হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন তারা। হেফাজতের ভুলগুলোর ব্যাপারে হেফাজতের মধ্যেই নেতারা বিভিন্ন রকম মতামত দিচ্ছেন। তারা হেফাজতের পঁচটি ভুলকে চিহ্নিত করেছেন।

১. রাজনৈতিক চরিত্র দেয়া: হেফাজতের নেতারা মনে করছেন হেফাজত ছিলো কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আল্লামা শফী এই সংগঠনটির একটি অরাজনৈতিক চরিত্র রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান সময়ে এটিকে যখন রাজনৈতিক অবয়ব দেয়া হচ্ছে তখন হেফাজত বিতর্কিত হচ্ছে এবং হেফাজতকে রাজনীতিকরনের মাসুল দিতে হচ্ছে এখন। 

২. সরকারের সাথে চ্যালেঞ্জ করা: হেফাজতের সিংহভাগ নেতাই মনে করেন যে সরকার একটা বড় শক্তি সরকারের সাথে চ্যালেঞ্জ করে কখনও জয়ী হওয়া যায় না। আর এ কারণেই জুনায়েদ বাবুনগরী দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকারের সাথে বাহাস করে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির ফলে একমাত্র হেফাজতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

৩. ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকার কাণ্ড: হেফাজতের বড় ভুল ছিলো নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে তাণ্ডব সৃষ্টি করা। হেফাজতের বৈঠকে আলোচনা হয়েছিলো তারা শুধু নামমাত্র প্রতিবাদ করবেন এর বেশি কিছু নয়। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং চট্টগ্রামে যে ঘটনা ঘটেছে তা রীতিমতো তাণ্ডব। এটি দেশের সাধারণ মানুষ পছন্দ করেনি আর এ জন্য হেফাজতকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে মনে করছেন হেফাজতের নেতারা। 

৪. মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দূরত্ব: জুনায়েদ বাবুনগরী দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বিশেষ করে ২০১৩ এর পর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হেফাজতের নেতাদের দূরত্ব তৈরি হয়। তারা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একরকম ক্রিতদাসের মতো ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যখন কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতি হয়েছে তখন শিক্ষার্থীদের উচ্চাকাঙ্খা তৈরি হয়েছে। তারা নিজেদের ক্যারিয়ার ভাবনা তৈরি করেছেন আর এর ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্নমত ও নতুন চিন্তা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া উন্মুক্ত সামাজিক মাধ্যমের যুগে শিক্ষার্থীরা ভালো মন্দ সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করতে পারছেন, তাদেরকে আগের মতো যা বলা যাবে সেটিই মেনে নেবেন সেই পরিস্থিতি নাই। যার ফলে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দ্রুত হেফাজতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন। যদিও নতুন নেতৃত্বের উচিৎ ছিলো দায়িত্ব গ্রহণ করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাসের মধ্যে নেয়া কিন্তু সেটি নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। 

৫. অতিরিক্ত লোভ: হেফাজতের অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে তারা একের পর এক সরকারের কাছে দাবি করেছেন আবার ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাঁদাবাজি করেছেন, সরকারের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেছেন। যখন হেফাজতের ১৭ জন কর্মী মারা গেছেন বলে হেফাজতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে সেই সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের প্রমোদবিহার হেফাজতের কর্মী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের স্তম্ভিত করেছে। আর এখান থেকে হেফাজতের লোভের বিষয়টি বেড়িয়ে এসেছে। এই লোভ হেফাজতের সর্বনাশ করছে বলে হেফাজতের নেতারা এখন প্রকাশ্যে বলছেন।