ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জোবায়দাকে নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৯ পিএম
জোবায়দাকে নিয়ে বিএনপিতে নতুন করে আলোচনা

আর একটি দুর্নীতির মামলা যদি বাতিল হয়ে যায় তাহলে জোবায়দার বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে আর কোনো বাধা থাকবে না। দেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জোবায়দার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলবে কি না এ সম্পর্কে একটি আদেশ জারি করবেন খুব শীঘ্রই। বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতাকর্মীরা এই আদেশের দিকে তাকিয়ে আছেন। বিএনপির আইনজীবীরা মনে করছেন হাইকোর্টের আদেশ জোবায়দার পক্ষে আসবে। কারণ তিনি এ ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে কখনই যুক্ত ছিলেন না এবং সরাসরি তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী বলছেন জোবায়দার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলবে কি চলবে না সেটা আদালতের এখতিয়ারাধীন বিষয়। এ নিয়ে আমরা মন্তব্য করতে চাই না। 

এই রায়ের ওপর বিএনপির রাজনীতি এবং নেতৃত্ব অনেকখানি নির্ভর করছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র মনে করছেন। এই মূহুর্তে তারেকের থেকে বেশি গ্রহণযোগ্য হলো তারেকের স্ত্রী জোবায়দা রহমান। বিএনপির একটি বড় অংশ চায় যে তারেক নয় আপাতত জোবায়দা বিএনপির হাল ধরুক এবং কিছুদিন বিএনপিকে একটি সম্মানজন অবস্থায় নিয়ে আসুক। নানা কারণে বিএনপিতে তারেক বিরোধী একটি মনোভাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে তারেকের বিরোধীতার মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে।অনেকেই বলেন যে তারেক জিয়া মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন। কোটি কোটি টাকা নিয়ে তিনি অযোগ্য এবং দলের স্বার্থবিরোধী লেকজনকে মনোনয়ন দিয়েছেন। 

২০১৮ এর নির্বাচনে বিপর্যয়ের জন্য বিএনপি নেতারা তারেকের ভুল নীতি এবং কৌশলকে দায়ি করেন। এছাড়াও তারেক জিয়া লন্ডনে থেকে যেসব নির্দেশনা দেন সেগুলো আত্মঘাতী এবং মতলবী বলেও মনে করছেন বিএনপির অধিকাংশ নেতারা। এখন তারেকের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে কমিটি বাণিজ্য নিয়ে। এখন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন জেলায় যে কমিটিগুলো হচ্ছে সেই কমিটিগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে না বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। সেখানে অর্থকড়ির বড় ভূমিকা রয়েছে বলে তারা জানাচ্ছেন। আর এই বাস্তবতায় তারেকের নেতৃত্ব বিএনপির মধ্যে প্রশ্নবৃদ্ধ। আর সাধারণ মানুষের কাছে তারেকের ইমেজ আগে থেকেই খারাপ ছিলো। সাধারণ মানুষ আগে থেকেই তারেককে একজন দুর্নীতিবাজ, দুর্বৃত্ত মনে করতেন। 

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তারেকের ইমেজ গ্রহণযোগ্য নয়। ভারত সরাসরিভাবে তারেকের নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার প্রেসক্রিপশন দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তারেককে জঙ্গিবাদের সাথে সম্পৃক্ত এবং দুর্নীতিবাজ নেতা হিসেবে মনে করেন। এরকম বাস্তবতায়, দলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেকের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে। আর এ কারণেই বিএনপি নেতারা মনে করছেন যে, এই অবস্থায় একজন গ্রহণযোগ্য এবং আস্থাভাজন ব্যক্তি বিএনপির নেতৃত্বে আসা উচিৎ। বিএনপির নেতারা আবার এটাও মনে করেন জিয়া পরিবারের বাইরে কেউ বিএনপির নেতৃত্বে আসলে সেটি সাধারণ কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। তখন বিএনপির অখণ্ডতা রক্ষা করাই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়বে। এজন্য জিয়া পরিবারের মধ্যে থেকেই একজনকে বিএনপির আপদকালীন নেতৃত্ব দেয়ার আলোচনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে বিএনপিতে। আর সেই আলোচনায় সবচেয়ে আলোচিত নামটি ছিলো জোবায়দা রহমান। 

কিন্তু জোবায়দা রহমান তার স্বামীর সঙ্গে ২০০৮ সালে লন্ডনে পাড়ি দেন এবং সেখানেই তিনি এখনও অবস্থান করছেন। বিভিন্ন সময়ে তাকে দলের নেতৃত্ব দেয়া হবে এমন গুঞ্জন শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তবতার ভিত্তি পায়নি। তবে এখন জোবায়দার দুর্নীতির মামলা চলবে কি চলবে না সেটি সিদ্ধান্তের সন্নিকটে দাঁড়িয়ে আছে। বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, এই মামলা থাকার জন্যই জোবায়দা দেশের আসতে পারেননি। তবে এই মামলাটা যদি না চলে তাহলে জোবায়দা দেশে আসবেন এবং বিএনপির নেতৃত্ব তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিক আর না নিক বিএনপিতে যে তার প্রভাব দৃশ্যমান হবে এটি নিশ্চিত। এ ছাড়া বিএনপির মধ্যে একটি বড় অংশ জোবায়দা রহমানকেই পছন্দ করছেন।