ঢাকা, বুধবার, ১৯ মে ২০২১, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ব্যাংককে কি করেছিল হেফাজত-বিএনপি নেতারা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল ২০২১ বুধবার, ০৪:৫৯ পিএম
ব্যাংককে কি করেছিল হেফাজত-বিএনপি নেতারা?

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যাংককের একটি বৈঠকের সূত্র অনুসন্ধানের চেষ্টা করছে। গত বছরের শুরুতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যে বৈঠকে বিএনপির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন নেতা এবং হেফাজতের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে যোগ দেয়ার জন্য উড়ে গিয়েছিলেন হেফাজতের প্রয়াত মহাসচিব কাসেমীসহ কয়েকজন নেতা। বিএনপি`র আবদুল আউয়াল মিন্টু সহ কয়েকজন নেতাও ব্যাংককে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে হেফাজতের দুই একজন নেতা বলেছেন যে, তাদের প্রয়াত আমির আল্লামা শফীর নির্দেশে তারা এ বৈঠকে গিয়েছিলেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এই বৈঠকে সরকার উৎখাতের একটা নীল নকশা তৈরি করা হয়েছিল। সেই নীলনকশা অনুযায়ী হেফাজত পরবর্তীতে পুনর্বিন্যাস্ত হয়। আল্লামা শফীকে হত্যা করা হয় এবং হেফাজত সরকারে বিরুদ্ধে এক ধরনের কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। 

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে যে, তারা এ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র বলছে যে, ব্যাংককে বৈঠকের ব্লুপ্রিন্ট পাওয়া গেলে সবকিছু অনেক পরিস্কার হয়ে যাবে এবং কারা কারা কেন নাশকতাগুলো করেছে তার সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। জানা গেছে যে ২০২০ সালের শুরুতেই যখনও সারাবিশ্বে করোনা নিয়ে উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগের তৈরি হয়নি, সেই সময় বিএনপি`র অন্তত পাঁচজন নেতা উড়ে গিয়েছিলেন ব্যাংককে। আর সঙ্গে গিয়েছিলেন হেফাজতের কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে একজন এই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছিলেন। তিনি হলেন কাসেমী। কাসেমী কিছুদিন আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। কাসেমী ছাড়াও এই বৈঠক মামুনুল হক গিয়েছিলেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও এখন যারা গ্রেফতার হয়েছেন তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন ওই বৈঠকে যোগদান করেছিলেন। বিএনপি`র পক্ষ থেকে ওই বৈঠকে গিয়েছিলেন বিএনপি`র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল আউয়াল মিন্টুসহ বেশ কয়েকজন নেতা। 

আবদুল আউয়াল মিন্টুর ব্যাংকক ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে এবং ব্যাংকককে ঘিরেই তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলেও জানা যায়। এই বৈঠকের উদ্যোক্তা ছিল বিএনপি। মূলত বিএনপি অসংগঠিত এবং আন্দোলন করতে অক্ষম। এই বাস্তবতায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক হেফাজতকে সামনে নিয়ে এসে সারাদেশে একটি তাণ্ডব তৈরি করে পরিস্থিতি সৃষ্টি করাই ছিল ওই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। তবে বৈঠকের খুঁটিনাটি ইত্যাদি বিস্তারিত বিষয়গুলো আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। তারা মনে করছেন যে, এই বৈঠকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, অনেক গভীর ষড়যন্ত্রের বীজ পতিত হয়েছিল। এই বৈঠকের প্রেক্ষিতে হেফাজতের নেতারা ঢাকায় ফিরে আসেন এবং বাবুনগরীর নেতৃত্বে সংঘটিত হতে থাকেন। এই পর্যায়ে পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ান আল্লামা শফী। আল্লামা শফী হেফাজতের আমির হলেও তিনি ছিলেন সকলের কাছে অভিভাবকের মতো এবং হেফাজতের সাধারণ কর্মী এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তার ব্যাপারে অন্ধ ছিল। 

আর এ কারণেই হেফাজতের জুনায়েদ বাবুনগরীসহ কয়েকজন পরিকল্পনা করেন যে আল্লামা শফীকে হত্যা না করলে হেফাজতের কর্তৃত্ব নেওয়া যাবে না এবং হেফাজতের কর্তৃত্ব না নেয়া গেলে এই সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টাও সফল হবে না। আর এ কারণেই আল্লামা শফীকে মেরে ফেলা হয় বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছে। এ ব্যাপারে পিবিআই তদন্ত করছে এবং তাদের তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। আর ব্যাংককের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাবুনগরী তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে, যারা স্বাধীনতার রিবোধী, বিএনপিপন্থী এবং উগ্র আওয়ামী বিরোধী তাদেরকে বেছে বেছে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেয়া হয়। যে কোনোভাবে একটি ইস্যু দিয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানো এবং সরকারকে একটা কোণঠাসা অবস্থায় ফেলে সরকার উৎখাত করার একটা নীলনকশা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন জুনায়েদ বাবুনগরী। তারই অংশ হিসেবে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরোধিতা করা এবং চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় ২৬ এবং ২৭ মার্চ তাণ্ডবের মধ্যে দিয়ে। তবে এটি ষড়যন্ত্রের শেষ নয়, আরো কিছু ষড়যন্ত্র অপেক্ষা করছে। তবে সে ষড়যন্ত্রটা কি সেটি তদন্ত করে খুঁজে বের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।