ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোনো হেফাজতকেই চায় না আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল ২০২১ শুক্রবার, ০৪:৫৯ পিএম
কোনো হেফাজতকেই চায় না আওয়ামী লীগ

হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার অভিযান চলছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় দেড় ডজন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ের ৫ শতাধিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে হেফাজত দাবি করেছে। এর মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন হচ্ছে যে হেফাজতের একটি অংশের সঙ্গে সরকার হয়তো গোপনে আতাত করছে এবং সেই অংশটি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে বর্তমান মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদীর নাম আলোচনায় এসেছে। এ ছাড়াও আহমেদ শফীর পুত্র আনাস মাদানীর নামও এসেছে। তবে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে সরকার কোনো হেফাজতকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে, কোনো হেফাজতকেই লালন-পালন করবে না এবং কোনো হেফাজতের সঙ্গেই নতুন করে সম্পর্ক করবে না। ২০১৩ সাল থেকে গত আট বছরে সরকারের একটি অভিজ্ঞতা হয়েছে যে হেফাজতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যে রাজনৈতিক দূরত্ব সেই দূরত্ব কখনও একাকার হওয়ার নয়। হেফাজত না রেখে বরং একটি সুশৃঙ্খল নিয়ম নীতির মধ্যে কওমি মাদ্রাসাকে আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য। 

সরকারের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দুই হেফাজতই বিপজ্জনক। যখনই একটি হেফাজতকে সরকার পৃষ্ঠপোষকতা দেবে তখন এরা সংগঠিত হবে এবং সংগঠিত হয়ে আওয়ামী লীগের ওপরেই ছড়ি ঘোড়ানোর চেষ্টা করবে, আওয়ামী লীগকেই চাপে ফেলার চেষ্টা করবে। ওই নেতা বলেন যে গত আট বছরে হেফাজত আওয়ামী লীগের কাছ থেকে বা সরকারের কাছ থেকে কম পায়নি। বিভিন্ন রকমের সুযোগ সুবিধা নেওয়ার পরেও তারা যে আচরণ করেছে তা দুর্ভাগ্যজন এবং দুঃখ্যজনক। 

আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলেছেন, হেফাজতের সাম্প্রতিক তৎপরতায় কয়েকটি বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে তা হলো ধর্মান্ধ মৌলবাদী গোষ্ঠী কখনও আওয়ামী লীগের বন্ধু হতে পারে না। আওয়ামী লীগ যদি তাদেরকে বন্ধু ভাবে সেটি আওয়ামী লীগের জন্য ভুল। আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এসব ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের দমন করতে হবে। এসব ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের যদি দমন করা যায় তাহলে তারা তেমন কোনো প্রতিরোধ করতে পারবে না। 

ওই নেতা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় অনেকে বলেছিলো যে যুদ্ধারাধীদের বিচার হলে দেশে তাণ্ডব হবে এবং তদের খুঁটি অনেক শক্ত ও শেকড় অনেক গভীরে। তাদের বিশাল ক্যাডার বাহিনী রয়েছে তাদের বিচার করলে আওয়ামী লীগ সরকার প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে কিন্তু বাস্তবতা দেখা গেলো ভিন্ন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পর জামায়াত টু শব্দ করতে পারেনি। এখন যখন হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি হবে না এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিলো সেই সময় অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলো যে হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হয়তো হেফাজত পাল্টা আঘাত হানবে এবং মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনটি। হয়তো নতুন করে তাণ্ডব সৃষ্টি করবে যেমন তাণ্ডব তারা ২৬  ও ২৭ মার্চ এবং ২০১৩ এর মে তে করেছিলো। কিন্তু বাস্তবতা হলো হেফাজতের নেতাদের গ্রেফতারের পরে তেমন কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি সংগঠনটি। তবে হেফাজত বলছে যে দুটি কারণে তারা প্রতিবাদ করতে পারছে না। প্রথমত রমজানের কারণে কওমি মাদ্রাসাগুলো এখন বন্ধ এবং দ্বিতীয়ত এখন সারাদেশে লকডাউন থাকায় তারা চাইলেই প্রতিবাদ করতে পারছে না। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি প্রতিবাদ করতে চাইতো তাহলে লকডাউন বা কওমি মাদ্রাসা বন্ধ থাকা কোনো বিষয় না। মূল বিষয় হলো তাদের মধ্যেই নানারকম সমস্যা ও কোন্দল-বিভক্তি রয়েছে। এই কোন্দল-বিভক্তি দিয়ে আরেকটি হেফাজত তৈরি করা হবে এমন গুঞ্জনে আসলেও সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্কারভাবে জানানো হয়েছে যে হেফাজতকে ‘হেফাজত‘ নয় বরং যারা দুর্বিত্ত ও দুষ্কৃতিকারী কোনো হেফাজতকেই দানব হয়ে উঠতে দেয়া হবে না। হেফাজতের মতো এরকম কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে বলেই সরকার এখন মনে করছে না। সরকার এখন কওমি মাদ্রাসাগুলোকে একটি বিধিবদ্ধ নিয়ম নীতির মধ্যে আনাটাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে সরকারি দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।