ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খোলস পাল্টাচ্ছে জামায়াত-হেফাজত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২১ সোমবার, ০৪:৫৯ পিএম
খোলস পাল্টাচ্ছে জামায়াত-হেফাজত

গত রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতের আহমদ শফী পন্থী নেতারা সাক্ষাৎ করেছেন। ওই সাক্ষাতে বাবুনগরীর বিরাগভাজন হিসবে পরিচিত এবং আহমদ শফীর ঘনিষ্ঠ মুফতি ফয়জুল্লাহ, মওলানা হাসনাত আলতাফ এবং মওলানা মঈনুদ্দীন রুহীসহ বেশ কয়েকজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কেন এই সাক্ষাৎ সে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানারকম জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে হেফাজতকে ভেঙে আহমদ শফী পন্থীরা আরেকটি হেফাজত করতে চাইছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে। সেই গুঞ্জনের প্রেক্ষিতে আহমদ শফী পন্থীদের যে কয়েকজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যে সাক্ষাৎ করলেন এটি এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হেফাজতের আহমদ শফী পন্থীরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন করে জায়গা করে নিতে চাইছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। জুনায়েদ বাবুনগরীরা এখন নানা কারণে কোণঠাসা এবং এই অবস্থায় আহমদ শফী পন্থীরা হেফাজতের নতুন একটি শাখা করতে চাইছেন। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হেফাজতের আহমদ শফী পন্থীরা এবং বাবুনগরী পন্থীরা একই মুদ্রার এপিট-ওপিট। এরা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে এবং এরা যখনই শক্তিশালী হবে তখনই এরা ছোবল মারবে। এজন্য কোনো হেফাজতকে আশ্রয় প্রশ্রয় না দেয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন যে, হেফাজত এখন কোণঠাসা। তাই আহমদ শফীরা সামনে চলে আসছেন, এটি তাদের কৌশল। খোলস পাল্টে তারা সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে এবং তারা আবার শক্তি সঞ্চয় করে সরকারকেই ছোবল দেবে। একই কথা বলা যায় জামায়াত সম্পর্কে, ২০১৯ সালে জামায়াত থেকে কিছু নেতা বেরিয়ে আমার বাংলাদেশ গঠন করেছেন এবং এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে গতকাল যোগ দিয়েছেন সাবেক জামায়াত নেতা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে পলাতক ব্যরিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। 

স্বাধীনতার পর থেকে জামায়াত বিভিন্নভাবে নিজেদের খোলস পাল্টে তাদের অস্তিত্ব জানান দেয়ার চেষ্টা করেছে এবং এটি তাদের নতুন খোলস পাল্টানো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যেহেতু জামায়াতের বিরুদ্ধে সরকার ‍জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং কোনোভাবেই জামায়াতকে রাজনীতির মাঠে জায়গা দিচ্ছে না সেজন্য জামায়াত কখনও হেফাজতের মধ্যে থেকে বা কখনও অন্য দল করে সামনে আসতে চাইছে। আমার বাংলাদেশ জামায়াতেরই একটা নতুন মিশন বলে মনে করা হচ্ছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন,  মূলত একাত্তরের ক্ষমা চাওয়া এবং জামায়াতের যে একাত্তরের ভূমিকা সেখান থেকে সরে এসে মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে আমার বাংলাদেশ গঠন করা হয়েছে। যদিও রাজনীতিতে গত দুই বছরের বেশি সময় এই সংগঠনটি তেমন কোনো রেখাপাত করতে পারেনি। কিন্তু এখন জামায়াতই একে নতুন জীবন দিতে চাইছে। একটা সময় বাংলাদেশে যখন কমিউনিস্ট আন্দোলন নিষিদ্ধ ছিলো তখন ন্যাপিস্ট দিয়ে কমিউনিস্ট আন্দোলনকে পরিচালনা করা হতো ঠিক তেমনি আমার বাংলাদেশকে সামনে রেখে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সংগঠিত হতে চাইছে বলে অনেকে মনে করছেন। আর এ কারণেই নতুন হেফাজত, বা আহমদ শফী পন্থী হেফাজত বা আমার বাংলাদেশ দুটিকেই বলা যায় যে তারা খোলস পাল্টানো কিন্তু তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য এক।  তারা আসলে সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে চায় এবং নিজেদের শক্তি দিয়ে সরকারকে ছোবল মারতে চায়।  এজন্য এই দুটি সংগঠনের ব্যাপারে শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থায় থাকা উচিৎ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।