ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভুল চিকিৎসার বলি হচ্ছেন খালেদা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২১ সোমবার, ০৫:৫৯ পিএম
ভুল চিকিৎসার বলি হচ্ছেন খালেদা?

বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা প্রতিদিন যখন বলা হচ্ছে স্থিতিশীল তখনই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার সত্য তথ্য জানাটা এখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের সদস্যরা এখন তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, ভুল চিকিৎসার বলি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপিতেও অনেক সুনামখ্যাত চিকিৎসক আছেন যারা বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে চান, তারা বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়াতে চান। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে এক ধরনের বলয় তৈরি করা হয়েছে। সেই বলয়ের ভেতর কাউকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি দলের নেতাকর্মীরা ও বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে।

তবে বিএনপি এবং ড্যাবের একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়া ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন। একজন বিএনপি পন্থী চিকিৎসক যিনি খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন, একসময় ইউনাইটেড হাসপাতালে ছিলেন, এখন সেখান থেকে অন্য একটি হাসপাতালে কাজ করছেন। তিনি বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার যখনই কোভিড ধরা পড়েছিল তখনই তার করোনার চিকিৎসা করা উচিত ছিলো। তার অবস্থা স্থিতিশীল, উপসর্গ নেই এই সমস্ত ফালতু কথা বলে বেগম খালেদা জিয়ার শরীরের বিপদ বাড়ানোর কোন দরকার ছিল না। তিনি বলেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া বয়স্ক এবং একাধিক সমস্যায় আক্রান্ত। কাজেই এরকম অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই তার বেশকিছু ঔষধপত্র এবং চিকিৎসা করানো উচিত ছিল, সে ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটিও ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন কিছু কিছু চিকিৎসক।

বিএনপির অন্য একজন চিকিৎসক বলেছেন, বাংলাদেশে এখন কার্ডিয়াক হাসপাতালের জন্য সবচেয়ে ভালো হাসপাতাল হলো ইউনাইটেড হাসপাতাল। ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগটি বাংলাদেশেই শুধু সেরা নয়, উপমহাদেশে অন্যতম সেরা। অথচ বেগম খালেদা জিয়াকে না হলে এভারকেয়ার হাসপাতাল যেখানে কার্ডিওলজি বিভাগটি যথেষ্ট দুর্বল। তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে অভ্যস্ত ছিলেন। কেন তাকে এভারকেয়ারে নিয়ে যাওয়া হলো, সেটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির কোন কোন চিকিৎসক।

তাছাড়া বেগম খালেদা জিয়া করোনামুক্ত। তাকে নন করোনা ইউনিটে রাখাটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির অনেক নেতা। তার বলছেন যে, করোনা আক্রান্ত একজন ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত তার কোভিড ইউনিটে থাকা উচিত ছিল এবং কোভিড ইউনিটে রেখেই তার চিকিৎসা করা উচিত ছিলো। তার অক্সিজেন স্যাচুরেশন নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত ছিল কিন্তু সেসব কোন কিছুই হয়নি। চিকিৎসকরা খালেদা জিয়াকে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং খালেদা জিয়াকে ব্যবহার করে তারা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছে বলে বিএনপির অনেকে মনে করেন। আর এই ভুল চিকিৎসার কারণে তারা বেগম খালেদা জিয়ার পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। বিএনপির নেতারা বলছেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে এমন অবস্থায় নিয়ে যেয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে যে মৃত্যুর জন্য আর যাই হোক সরকারকে কখনো দায়ী করা যাবে না।