ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইসলামী বিপ্লবে বিএনপি`র সায়: মার্কিনী বিস্ময় 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২১ সোমবার, ০৬:৫৯ পিএম
ইসলামী বিপ্লবে বিএনপি`র সায়: মার্কিনী বিস্ময় 

বাংলাদেশ একটি ইসলামী বিপ্লব সংগঠিত করার পরিকল্পনায় বিএনপি`র সায় ছিলো। এই পরিকল্পনার মূল অংশ ছিলো ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইসলামী প্রজাতন্ত্র হবে এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্র চলবে শরিয়া আইন অনুযায়ী। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল বিএনপি ওই পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছিলো এবং এ ধরনের ইসলামী বিপ্লব যারা করতে চেয়েছিলো তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছিলো। এরকম তথ্য প্রমাণ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে এসেছে। আর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এসব এসব তথ্য প্রমাণ পেয়ে বিস্মিত এবং হতবাক হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির মতো একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল কিভাবে এই ধরনের একটি মৌলবাদী তৎপড়তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয় তা নিয়ে হতবাক হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ ২০১৩ সালের ৫ মে একটি ইসলামী বিপ্লবের নীলনকশা প্রণীত হয়েছিলো। সেই নীলনকশা অনুযায়ী বাংলাদেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে এমন একটি দলিলের সন্ধান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পেয়েছে। জানা যায় যে, রাজনৈতিক সূত্র থেকে তারা এটি সংগ্রহ করেছে। ওই দলিলে বলা হয়েছিলো যে, ইসলামী বিপ্লবের পর রাষ্ট্রপতি হবেন আল্লামা আহমদ শফী এবং প্রধানমন্ত্রী হবেন জুনায়েদ বাবুনগরী। ইসলামী শাসনতন্ত্র রচিত হবে এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র রচনার জন্য আলেমদের সমন্বয় একটি টিম তৈরি করার লিখিত দলিলও পাওয়া গেছে। সেই দলিল অনুযায়ী বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর শরিয়া আইন অনুযায়ী এসব কিছু পরিচালিত হবে। আর এটির মূল উদ্যোক্তা ছিলো হেফাজতে ইসলাম। 

২০১৩ সালে হেফাজতের ওই উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও এখনো হেফাজত ওই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি। ২০১৩ সালে এই পরিকল্পনা যখন বিএনপি জানতে পারে তখন বিএনপি`র অন্তত তিনজন নেতা হেফাজতের নেতাদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের সর্বসম্মত সমর্থন জানান। বেগম খালেদা জিয়াও ইসলামী প্রজাতন্ত্র হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি প্রকাশ করেননি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানাচ্ছে যে, বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দলগুলো উদারনৈতিক গণতন্ত্র চর্চা করে তাদের মধ্যে বিএনপির অন্যতম। এরকম একটি দল যখন বাংলাদেশকে ইরানের মতো ইসলামী রাষ্ট্র বানাতে চায় তখন তাতে বিএনপি`র সম্মতি দেওয়াটা এক ধরনের বিস্ময়কর। 

মার্কিন প্রশাসন সবসময় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা, সম্পর্ক রক্ষা করে চলে। তারা কখনোই কোনো মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ করে না। কাজেই বিএনপি`র সম্পর্কে পাওয়া এ ধরনের তথ্য, বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবে সম্মতি সংক্রান্ত তথ্য বিএনপি`র সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের আরও দূরত্ব তৈরি করবে এবং এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি`র যে পরিচিতি সেই পরিচিতও ক্ষুন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীরাই ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে। আল-কায়েদা, তালেবানের মতো উগ্রবাদীরাই ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম করতে চায়। আর বিএনপি তাদেরকে সমর্থন দেখিয়ে বিএনপিও উগ্র মৌলবাদী দলের তালিকায় নিজেদের নাম লেখালো বলেই মনে করছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্লেষকরা।