ঢাকা, রোববার, ২০ জুন ২০২১, ৬ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খালেদার বিদেশ যাত্রা যেন রাজনৈতিক না হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ মে ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৯ পিএম
খালেদার বিদেশ যাত্রা যেন রাজনৈতিক না হয়

বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ভাই শামীম ইস্কান্দার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার যে আবেদনটি করেছেন তা এখন আইনমন্ত্রী কাছে রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সারাদিন আইন মন্ত্রণালয় এই আবেদনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে। সেই সুপারিশের উপর আইনমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আইনমন্ত্রী বিকেলে জানিয়েছেন যে, আজ সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে যে, আইনমন্ত্রী আইন মন্ত্রণালয়ের প্রেরিত পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন। তারপর এ সম্পর্কে তার চূড়ান্ত মতামত দেবেন।

জানা গেছে, খালেদা জিয়ার পক্ষে তার ভাই যে আবেদনটি করেছেন সে আবেদনটিতে সুনির্দিষ্ট কোন দেশের নাম উল্লেখ নেই। শুধুমাত্র বিদেশ যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে একরকম ধুম্রজাল সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি আসলে কতটুকু অসুস্থ এবং চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে কি মতামত দিচ্ছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য কারো কাছেই নেই। বিএনপি নেতৃবৃন্দ গতকাল পর্যন্ত বলছিলেন যে তার অবস্থা স্থিতিশীল। কিন্তু শামীম ইস্কান্দারের আবেদনের পরেই দৃশ্যপট পাল্টে যায়। বিএনপি নেতারা বলতে থাকেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর। তাকে এখনই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার রীতি পুরাতন। অনেক রাজনীতিবিদই উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। এমনকি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও কদিন আগে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করে আসলেন। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া কি সত্যি সত্যি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন নাকি তার চিকিৎসার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হচ্ছে এ নিয়ে এক ধরনের সন্দেহ এবং গুঞ্জন রয়েছে।

প্রথম কথা হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার পরবর্তী উপসর্গ দেখা দিয়েছে। তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে গেছে, ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে একজন রোগী ১০ ঘণ্টা এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে লন্ডনে যাবেন এটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত। তাছাড়া বাংলাদেশের যারা গুরুতর অসুস্থ হয় তাদেরকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংকক, থাইল্যান্ড, ভারত বা সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ ধারা অনুযায়ী জামিনপ্রাপ্ত এবং তার জামিনকে শর্তহীন করার জন্য তার আবেদনও সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে যে তিনি কোন দেশে যেতে চান এবং কতদিনের জন্য তার চিকিৎসা প্রয়োজন।

আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে যে, আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে দেশের নাম উল্লেখ ছাড়াও তার চিকিৎসা সারতে কতদিন লাগবে সেটিও উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিলো। তবে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা বলছেন একজন রোগীর চিকিৎসা কতদিন লাগবে এটা আগাম করে বলা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রেও সমাধান আছে। যদি তিনি তিন মাসের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চান, সেটি যদি আরও সময় লাগে সময় বর্ধিত করা আবেদন করা হবে এবং সেই সময় চিকিৎসকের প্রতিবেদন ও চিকিৎসকের সুপারিশ বিবেচনা করে তার বিদেশে থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

কিন্তু অস্পষ্ট একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে যখন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে তখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানারকম জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে। গত কিছুদিন ধরেই বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ নেয়ার পায়তারা করছিল বিএনপি। বিশেষ করে তৃতীয় মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। সেই জাবিনের আবেদনটিতে তার বিদেশ যাওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ে সেই আবেদনটি গ্রহণ না করে পূর্বের ধারায় অর্থাৎ দুইটি শর্তে বেগম খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। শর্ত দুইটি ছিলো তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা করবেন এবং দেশের ভেতর থেকে চিকিৎসা করবেন।

নির্বাহী আদেশবলে এই শর্তগুলো স্থগিত করাই যেতে পারে কিন্তু সেখানে আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্টভাবে বলতে হবে। আর এই সুনির্দিষ্টকরণ না থাকার কারণে কেউ কেউ সন্দেহ করছেন যে, বেগম জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার একটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইরে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশে একটি ভিন্ন রকম রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মদদ দেওয়া, উস্কানি দেওয়া এমনকি প্রবাসী সরকার গঠন করার কথাও বাজারে চাউর আছে। আর এই সবকিছুর প্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট সকলের মনে করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়াটা যেন শুধুমাত্র মানবিক এবং চিকিৎসার জন্যই হয়, কোন রাজনৈতিক কারণে যেন তাকে বিদেশ না যাওয়া হয়। অসুস্থতাকে যেন একটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানো না হয়।