ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

খালেদার আবেদন নাকচ: ফখরুলের বিশ্বাসঘাতকতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২১ রবিবার, ০৫:৩৪ পিএম
খালেদার আবেদন নাকচ: ফখরুলের বিশ্বাসঘাতকতা

বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়া সংক্রান্ত আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা মনে করেন যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দ্বৈত নীতি গ্রহণ করেছেন। একদিকে সরকারের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছেন, অন্যদিকে বেগম জিয়ার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। সরকার যেন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ না পাঠায় সেজন্য ষড়যন্ত্র করছেন।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগের তথ্য প্রমাণ দিতে পারেনি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা। তারা বলছেন যে, বুধবার রাত সাড়ে ৮ টায় বেগম খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসায় গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন সংক্রান্ত আবেদনপত্রটি জমা দেন। কিন্তু এই আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন কথা বলেছেন, কি নিয়ে কথা বলেছেন, সেটি বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের একটি বড় প্রশ্ন। তারা মনে করছেন, বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে এরকম একটি আবেদন আসতে পারে সেটি আগে থেকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এটিকে একটি মানবিক বিষয় থেকে রাজনৈতিক বিষয়ে নিয়ে গেছেন। এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়া যখন এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন, তখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একদিন গিয়ে খালেদা জিয়ার অবস্থা স্থিতিশীল বলে বর্ণনা করেন, এরকম একাধিকবার তিনি বলেছেন।

আজকে সরকার যখন সিদ্ধান্ত দিবে, তার আগেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থা উন্নতি হয়েছে, তিনি এখন ভালো আছেন ইত্যাদি কথা বলেছেন। তার কথার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার যে শেষ সুযোগ, সেই সুযোগটি বন্ধ করে দিয়েছেন। আর বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা মনে করেন, হয়তো সরকারের ইঙ্গিতে আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলন করেছেন এবং দুই দিন আগে এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা সম্পর্কে সার্টিফিকেট দিয়েছেন। তার এই আচরণের কারণে শেষ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ করতে সরকার একটা অজুহাত পেয়েছে বলে বেগম জিয়া পরিবারের সদস্যরা মনে করেন।