ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ৩ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যাবে বিএনপি-হেফাজত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২১ রবিবার, ০৬:৫৯ পিএম
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে যাবে বিএনপি-হেফাজত?

আজ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে তাৎপর্যপূর্ণ কিছু কথাবার্তা বলেছেন। সেই কথায় তিনি হেফাজতের নেতৃবৃন্দকে, হেফাজতের ধর্ষকদেরকে এবং লাম্পট্যের অভিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকেও আলেম-ওলামা বলে সম্বোধন করেছেন এবং তাদের মুক্তি দাবি করেছেন। একই সাথে তিনি বিএনপি`র নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা গ্রেফতার আছেন তাদেরও মুক্তি দাবি করেছেন। এই দাবী করতে গিয়ে তিনি বিএনপি নেতা নিপুন রায় চৌধুরী`র কথা উল্লেখ করেছেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্যটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যের অনুরণন। সে সময় যখন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলো, যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মত দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করলো তখন বেগম খালেদা জিয়াও তাদেরকে আলেম-ওলামা হিসেবে সম্বোধন করে তাদের মুক্তি দাবি করেছিলেন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারকে একটি রাজনৈতিক হয়রানি বলে উল্লেখ করেছিলেন। আর এখন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হেফাজতের মামুনুলের মত ধর্ষক, লম্পট এবং অর্থ আত্মসাৎকারীদের পক্ষ অবলম্বন করে তাদের মুক্তি দাবি করছেন এবং সরকারের সমালোচনা করছেন। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য থেকেই সুস্পষ্টভাবে বোঝা গেলো যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি নীলনকশা তৈরি করছেন এবং এই নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য তিনি হেফাজতকে ব্যবহার করবেন। অন্যভাবে বলা যেতে পারে যে হেফাজত এবং বিএনপি একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে এবং ঈদের পর হয়তো সেটি দৃশ্যমান হবে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছে, নানা কারণেই ঈদের পরে একটি অস্থিরতা তৈরি হতে পারে দেশে। প্রথমত, করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে মানুষের মধ্যে জীবন-জীবিকার টানাপোড়েনে একটা অসহ্য তৈরি হবে। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে গণপরিবহন আবার সরকারকে বন্ধ করে দিতে হবে তখন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা নুতন করে অশান্তি তৈরি করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে নানারকম টানাপোড়েন চলছে। সেখানেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। আর এই সমস্ত মানুষের অস্বস্তি এবং টানাপড়েনকে জিম্মি করেই বিএনপি নতুন করে ছক কসছে। তাদের চিন্তা-ভাবনা ছিলো বেগম খালেদা জিয়াকে যদি কোনোভাবে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে পরে সরকারকে একটি চরম আঘাত দেওয়া যাবে। 

সেক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে হেফাজতের নেতাকর্মীদের যে গ্রেফতার করা হয়েছে এটিকে তারা ইস্যু হিসেবে সামনে আনতে চাইছেন এবং এই হেফাজত ইস্যুতেই তারা সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ধরনের আন্দোলন করতে চাইছেন। হেফাজতের মধ্যে একটি অংশ যারা উগ্রবাদী, মৌলবাদী তারা সরকারের সাথে কোনো রকম সমঝোতায় না যেয়ে ঈদের পর কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলনের পরিকল্পনা নিচ্ছে। এই আন্দোলনে হেফাজতকে উস্কানি দিচ্ছে বিএনপি। আর বিএনপি এবং হেফাজতের এই যৌথ প্রয়াসে আবার ২৬-২৭ মার্চের মতো একটি আন্দোলনের চেষ্টা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার আন্দোলনে বাইরে হেফাজতের ইস্যুটা থাকলেও অন্যান্য জনস্বার্থমূলক ইস্যুগুলো যেমন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব, অভাব-অনটন ইত্যাদি ইস্যুকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বিএনপি-হেফাজত। আগে বিএনপির সহযোগী ছিলো জামায়াত। এখন সেই সহযোগী পাল্টে হেফাজতকে নিয়েই আন্দোলন করতে চাচ্ছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে অস্বস্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের ব্যাপারে মানুষের ইতিবাচক মনোভাব এখনো নেই এবং সেটি চটজলদি হবে এমনটি মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।