ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভিন্ন কায়দায় সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২১ রবিবার, ০৮:০০ পিএম
ভিন্ন কায়দায় সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত 

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি জামায়াতে ইসলাম নতুনভাবে সংঘটিত হচ্ছে এবং এখন তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে সংঘটিত হচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। হেফাজত কোণঠাসা হওয়ার প্রেক্ষিতে জামায়াত এখন হেফাজতের অনেক নেতাকে তাদের দলে ফেরানোর জন্য চেষ্টা করছে। হেফাজতের মাদ্রাসাভিত্তিক সুদৃঢ় সংগঠন রয়েছে। আর এই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজ করছে হেফাজত। করোনার কারণে দেশের মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রয়েছে।  মাদ্রাসাগুলোতে জামায়াতে ইসলামের কর্মী এবং নেতারা গিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই তালিকার ভিত্তিতে তারা ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদেরকে নানা রকম উপঢৌকন এবং আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।

বিভিন্ন এলাকায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের তারা জরো করছে এবং তাদের সাথে গোপন বৈঠক করছে। সেখানে তারা তথাকথিত ইসলামী দাওয়াতের নামে তাদেরকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণায় উস্কে দিচ্ছে। হেফাজতের নেতাদেরকে গ্রেপ্তার মামুনুল হকসহ বিভিন্ন হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে সরকারের এ্যাকশনের বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে তারা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জানা গেছে যে হেফাজত এখন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং হেফাজতের অধিকাংশ নেতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকার কারণে তাদের কার্যক্রম এখন স্থিমিত হয়ে গেছে।  তাছাড়া হেফাজতের যারা নেতৃত্বে আছে তাদের মধ্যে ওই রকম রাজনৈতিক চাতুর্য না থাকার কারণে এর সুযোগ নিচ্ছে জামায়াত। 

একাধিক সূত্র বলছে, জামায়াতের নেতৃবৃন্দ মনে করছে যে, তাদের সংগঠনের নতুন পাইপলাইন তৈরি করা ক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে তারা ভালোমতো ব্যাবহার করতে পারে। বাংলাদেশে ইসলামপছন্দ রাজনীতির মধ্যে হেফাজত এবং জামায়াতের মধ্যে একটা বিরোধ ছিল। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুটি ভাগ রয়েছে। একটি পক্ষ জামায়াতের বিরুদ্ধ পক্ষ। তারা জামায়াতকে সঠিক ইসলামী দল মনে করে না। আর যেহেতু হেফাজতের নেতৃত্বে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সংগঠিত ছিল কাজেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে জায়গা পাচ্ছিল না জামায়াতে ইসলাম। এখন যখন হেফাজত কোণঠাসা, মাদ্রাসাগুলো বন্ধ এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অসংগঠিত সেই সময় জামায়াত এই সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনা সঞ্চালন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদেরকে জামায়াতের রাজনীতি সম্বন্ধে নানা রকম কোনো কথাবার্তা বলছেন। এছাড়াও জামায়াতে ইসলাম বিভিন্ন আপাত নিরপেক্ষ সংগঠনের আড়ালে জামায়াতপন্থীদের সংগঠিত করার চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-যুব অধিকার পরিষদ বলে সাবেক ডাকসুর ভিপি নুরের নেতৃত্বে যে সংগঠনটি হয়েছে সেই সংগঠনটির নিয়ন্ত্রণও জামায়াত নিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও জামায়াত একটি সুশীল সমাজের একটি অংশকে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। যেহেতু জামায়াতের মূল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বীকৃত নয় এবং প্রায় বন্ধ সেই জন্য জামায়াত এখন ভিন্ন নামে বিভিন্ন সংগঠনের আদলে কাজ করছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছে, তিনটি উপায়ে জামায়াত এখন কাজ করছে। প্রথমত তারা হেফাজতের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদেরকে সংগঠিত করছে। দ্বিতীয়ত, তারা মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন করার জন্য তৎপরতা গ্রহণ করছে। তৃতীয়ত, তারা বিভিন্ন বেনামী সংগঠনের মাধ্যমে জামায়াতের পক্ষে প্রচারণার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। আর এই কর্মকাণ্ডগুলো করার মাধ্যমে জামায়াত নতুনভাবে সংঘটিত হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও জামায়াতপন্থীদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াতপন্থী শিক্ষকরা এখন বিভিন্ন বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করছেন এবং যে অবস্থানটা সামনের দিনগুলোতে কোন ভয়ঙ্কর পরিকল্পনার অংশ বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।