ঢাকা, রোববার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আলোচনায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২১ বুধবার, ০৮:০০ পিএম
আলোচনায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা 

হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগের নেতারা হেভিওয়েট লাইমলাইটে এসেছে। গত কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরকে সরব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৭ জুন ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনায় আওয়ামী লীগের দুই হেভিওয়েট নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়েবিনারে যুক্ত হয়েছিলেন। আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠান করেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি মূল বক্তব্য রেখেছিলেন। ৭ জুনের পর আওয়ামী লীগের সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারাই ডাক পেয়েছিলেন। করোনার কারণে সীমিত পরিসরে এই মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নেতৃত্ব দেন। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ`র মতো আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ হেভিওয়েট নেতারা উপস্থিত হয়েছিলেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেন। 

এই সময় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীও লাইমলাইটে এসেছেন দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে তার এখন নিয়মিত যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে হেভিওয়েট নেতাদেরকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কি। সরকার কি নীতি নির্ধারণী জায়গায় হেভিওয়েট নেতাদেরকে নিয়ে আসতে চাইছে? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচনার বিষয়। আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে। এই তিন মেয়াদের মধ্যে শুধুমাত্র দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদেরকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য প্রথম মেয়াদে বেগম মতিয়া চৌধুরী মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের অন্য দুই হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ শুধু ২০১৪ মেয়াদে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। প্রথম মেয়াদে এবং এবারে তাদেরকে মন্ত্রীত্ব থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

এবার বেগম মতিয়া চৌধুরীও মন্ত্রিসভার বাইরে রয়েছেন। আর অন্যদিকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম গত তিন মেয়াদে একবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। কাজী জাফরউল্লাহ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কারণে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের আরেক প্রভাবশালী নেতা কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত ফারুক খান প্রথম মেয়াদে মন্ত্রী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মেয়াদে তিনি মন্ত্রিত্বের বাইরে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়ে বিভিন্ন রকমের সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রীদের যোগ্যতা দক্ষতা এবং বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই সমালোচনা হচ্ছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নজিরবিহীন সমন্বয়হীনতার মধ্যে পড়েছে এবং বিরোধীদল তো বটেই, আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে বিরূপ সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।

আর এরকম সমালোচনার প্রেক্ষিতেই সরকার মন্ত্রিসভায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন করতে পারে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন কেউ কেউ। সেই ইঙ্গিতের অংশ হিসেবেই হেভিওয়েট নেতারা পাদপ্রদীপে এলেন কিনা সেটি একটি বিষয়। তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে যে, মন্ত্রিসভা নয় বরং আওয়ামী লীগের যে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা, দলের ভেতর চেইন অফ কমান্ড নষ্ট হয়ে যাওয়া, ফ্রিষ্টাইল মন্তব্য এবং এক ধরনের নেতৃত্বের স্থবিরতার কারণে পুরনো এবং জনপ্রিয় নেতাদেরকে পাদপ্রদীপে আনা হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সমন্বয়হীনতা এবং স্থবিরতা সেটা দূর হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।