ইনসাইড পলিটিক্স

আলোচনায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা 

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ১৬ জুন, ২০২১


Thumbnail

হঠাৎ করেই আওয়ামী লীগের নেতারা হেভিওয়েট লাইমলাইটে এসেছে। গত কিছুদিন ধরে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরকে সরব দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ৭ জুন ৬ দফা দিবস উপলক্ষে আলোচনায় আওয়ামী লীগের দুই হেভিওয়েট নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওয়েবিনারে যুক্ত হয়েছিলেন। আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা অনুষ্ঠান করেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি মূল বক্তব্য রেখেছিলেন। ৭ জুনের পর আওয়ামী লীগের সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারাই ডাক পেয়েছিলেন। করোনার কারণে সীমিত পরিসরে এই মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় নেতৃত্ব দেন। এই মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফরউল্লাহ`র মতো আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ হেভিওয়েট নেতারা উপস্থিত হয়েছিলেন এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথাবার্তা বলেন। 

এই সময় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা বেগম মতিয়া চৌধুরীও লাইমলাইটে এসেছেন দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগ সভাপতির সঙ্গে তার এখন নিয়মিত যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে হেভিওয়েট নেতাদেরকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ কি। সরকার কি নীতি নির্ধারণী জায়গায় হেভিওয়েট নেতাদেরকে নিয়ে আসতে চাইছে? এই প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম আলোচনার বিষয়। আওয়ামী লীগ টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে। এই তিন মেয়াদের মধ্যে শুধুমাত্র দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদেরকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছিল। অবশ্য প্রথম মেয়াদে বেগম মতিয়া চৌধুরী মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের অন্য দুই হেভিওয়েট নেতা আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ শুধু ২০১৪ মেয়াদে মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন। প্রথম মেয়াদে এবং এবারে তাদেরকে মন্ত্রীত্ব থেকে বাইরে রাখা হয়েছে।

এবার বেগম মতিয়া চৌধুরীও মন্ত্রিসভার বাইরে রয়েছেন। আর অন্যদিকে শেখ ফজলুল করিম সেলিম গত তিন মেয়াদে একবারও মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। কাজী জাফরউল্লাহ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার কারণে মন্ত্রিসভায় জায়গা পাননি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের আরেক প্রভাবশালী নেতা কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত ফারুক খান প্রথম মেয়াদে মন্ত্রী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় মেয়াদে তিনি মন্ত্রিত্বের বাইরে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের বর্তমান মন্ত্রিসভা নিয়ে বিভিন্ন রকমের সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে মন্ত্রীদের যোগ্যতা দক্ষতা এবং বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যেই সমালোচনা হচ্ছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে স্থবিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে নজিরবিহীন সমন্বয়হীনতার মধ্যে পড়েছে এবং বিরোধীদল তো বটেই, আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে বিরূপ সমালোচনা শোনা যাচ্ছে।

আর এরকম সমালোচনার প্রেক্ষিতেই সরকার মন্ত্রিসভায় একটি বড় ধরনের পরিবর্তন করতে পারে এমন ইঙ্গিত দিচ্ছেন কেউ কেউ। সেই ইঙ্গিতের অংশ হিসেবেই হেভিওয়েট নেতারা পাদপ্রদীপে এলেন কিনা সেটি একটি বিষয়। তবে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে যে, মন্ত্রিসভা নয় বরং আওয়ামী লীগের যে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা, দলের ভেতর চেইন অফ কমান্ড নষ্ট হয়ে যাওয়া, ফ্রিষ্টাইল মন্তব্য এবং এক ধরনের নেতৃত্বের স্থবিরতার কারণে পুরনো এবং জনপ্রিয় নেতাদেরকে পাদপ্রদীপে আনা হচ্ছে। এর ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সমন্বয়হীনতা এবং স্থবিরতা সেটা দূর হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

তালতলীতে কৃষকলীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন

প্রকাশ: ০১:৪৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail তালতলীতে কৃষকলীগের ত্রি বার্ষিক সম্মেলন

বরগুনার তালতলীতে বাংলাদেশ কৃষকলীগ তালতলী উপজেলা শাখার ত্রি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে তালতলী উপজেলা শাখার সভাপতি হাজী আলম কবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাড. গাজী জসিম উদ্দিন সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। সম্মেলনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিজুল হক স্বপন সভাপতি বরগুনা জেলা কৃষকলীগ।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন রেজবি উল কবির জোমাদ্দার সভাপতি তালতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও উপজেলা চেয়ারম্যান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউ নিউ খেইন সহ সম্পাদক (ধর্ম বিষয়ক) কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

এছাড়াও আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মনসুর আলী জোমাদার সাধারণ সম্পাদক কৃষক লীগ তালতলী উপজেলা শাখা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আজ থেকে ফের সংলাপে যাচ্ছে বিএনপি

প্রকাশ: ০১:৩৪ পিএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail আজ থেকে ফের সংলাপে যাচ্ছে বিএনপি

সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় ধাপ ফের সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। দুপুর ২টা গুলশান চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছে দলটি। 

রোববার (২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিএনপি দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বিএনপি পক্ষ থেকে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত থাকবেন। আর কল্যাণ পার্টির পক্ষ থেকে দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন।

এর আগে চলতি বছরের ২৪ মে সরকার-বিরোধী বৃহত্তর যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যকে সামনে রেখে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে বিএনপি। প্রথম দফার ওই সংলাপে ২৩টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল জেএসডি, গণফোরামের একাংশ, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, কল্যাণ পার্টি, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় দল, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক দল (ডিএল), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ইসলামিক পার্টি, পিপলস লীগ, ন্যাপ-ভাসানী ও বাংলাদেশ ন্যাপ।

বিএনপি   সমমনা দল   আন্দোলন   সংলাপ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

আন্দোলন নিয়ে বিভক্ত বিএনপি

প্রকাশ: ১১:২০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিভক্ত বিএনপি

সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে গিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। আন্দোলন সফল করতে দলটি জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছে। এই মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়। চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। এতে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের জেলা, মহানগর ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।

বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে যুক্ত হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

কিন্তু আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় উঠে আসে এক ভয়ংকর চিত্র। সভায় আবারও উঠে আসে দলের অভ্যন্তরীণ মত ভেদের কথা।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড থেকে আগামী দিনে সরকার পতনে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় নেতারা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন-সংগ্রাম বেগবান করার কথা বলেন। বহিষ্কারসহ বিভিন্ন কারণে যারা এতদিন দল থেকে দূরে ছিলেন, তাদেরকেও দলে ফিরিয়ে এনে আন্দোলনে যুক্ত করার নির্দেশনা দেন।

তবে বহিষ্কৃত ও দল ছেড়ে যারা চলে গেছেন, তাদের ফেরানোর ব্যাপারে আপত্তি জানান তৃণমূলের নেতারা। তারা বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য বৃহত্তর ঐক্য দরকার। কিন্তু যারা দলের ক্ষতি করে গেছেন, তারা ফিরলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা অস্বস্তিতে পড়বেন। তাদের জন্য ত্যাগীরা দলে জায়গা না পেলে বিশৃঙ্খলার ‍সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, সরকার পতনের আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি না করার ব্যাপারেও বিএনপির হাইকমান্ডকে পরামর্শ দেন তৃণমূলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। তারা বলেছেন, বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষ করে এক থেকে দেড়মাস মেয়াদি সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতে হবে। তাহলে আন্দোলনে গতি আসবে। নেতাকর্মীরাও সক্রিয়ভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠে থাকবেন।

বৈঠক শেষে যশোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, সরকার পতনের লক্ষ্যে চলমান আন্দোলন যৌক্তিকপর্যায়ে নিয়ে যেতে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। যেভাবে অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতিতে দেশ চলছে, তা চলতে দেওয়া যায় না। এজন্য আন্দোলন বেগবান করে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

অন্যদিকে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, দলের ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতেই বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করা হয়েছে। এ বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

জ্বালানি তেল ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকাসহ ১০ বিভাগীয় শহরে গণসমাবেশের ঘোষণা করেছে বিএনপি। গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী- আগামী ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বিভাগে, ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহে, ২২ অক্টোবর খুলনা, ২৯ অক্টোবর রংপুর, ৫ নভেম্বর বরিশাল, ১২ নভেম্বর ফরিদপুর, ১৯ নভেম্বর সিলেট, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লা, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহী ও ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ করবে বিএনপি।

বিভক্ত   বিএনপি   আন্দোলন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ম্লান হয়ে যাচ্ছে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ম্লান হয়ে যাচ্ছে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন ম্লান হয়ে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। শুরুতে বিএনপির এই দাবির সাথে অন্যান্য দলগুলো এ নিয়ে কথা বললেও এখন আর সেভাবে কোনো দলই সক্রিয় নয়। বরং সব দলগুলোই এখন নির্বাচনমুখী হয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে দলটির দাবি এখন পর্দার আড়ালে চলে যাচ্ছে। বিএনপির এই দাবি ম্লান হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো এই দাবি সপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে দলটি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন ম্লান হতে কসেছে। আর এর প্রমাণ পাওয়া যায় সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে। 

বিএনপি এখন আন্দোলন করছে জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভোলায় নুরে আলম ও আব্দুর রহিম, নারায়ণগঞ্জে শাওন প্রধান, মুন্সিগঞ্জে শহিদুল ইসলাম শাওন ও যশোরে আব্দুল আলিম হত্যাসহ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে। অথচ দলটির নেতারা নিজেরাই এতোদিন বলে আসছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিই হলো  বিএনপির একমাত্র এবং এক দফা দাবি। কিন্তু দলটি এখন সে দাবি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। 

বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সপক্ষে দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও তেমন সক্রিয় নয় বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি বিশেষ করে দলটির চেয়ারম্যান সরকারের নানা সমালোচনা করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি নিয়ে তেমন কোনো কথা বলছেন না। বরং দলটি আগামী নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়া কথা বলেছে। যেকারণে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে, বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি এখন অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। আর বিএনপির নেতাকর্মীরাও এই নিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছেন।

শুধু জাতীয় পার্টি নয়, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচিত জোট সাতদলীয় ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বিভাগে প্রতিনিধি সভা ও অক্টোবর-নভেম্বরে জেলায় জেলায় সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি বাড়ছে। এছাড়া ইসলামী দলগুলোর এখন নির্বাচনমুখী হচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে নিজেদের রোডম্যাপ তৈরি করছে। এর অংশ হিসেবে গতকাল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবেই ৩০০ আসনে অংশ নেয়ার কথা জানিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আসলে ম্লান হয়ে যাচ্ছে কিনা সেটা এখনই সুস্পষ্টভাবে বলা মুসকিল। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর এই দাবি নিয়ে তেমন সক্রিয় আছে বলে পরিলক্ষিত হয় না। বরং তারা নির্বাচনমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করছে।

বিএনপি   তত্ত্বাবধায়ক সরকার   আন্দোলন   জাতীয় পার্টি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড পলিটিক্স

ফরিদপুর-২ আসনে নৌকার মাঝি হতে আগ্রহী ১৪ জন

প্রকাশ: ০৮:৪৩ এএম, ০২ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ফরিদপুর-২ আসনে নৌকার মাঝি হতে আগ্রহী ১৪ জন

জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ফরিদপুর-২ (সালথা-নগরকান্দা ও কৃষ্ণপুর) আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তার দুই ছেলেসহ ১৪ জন। গেল ১১ সেপ্টেম্বর সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী মারা যাওয়ার পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা নেওয়া শুরু হয়। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নগরকান্দা, সালথা উপজেলা ও সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনের উপনির্বাচন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ৫ নভেম্বর।

গত ১১ সেপ্টেম্বর ওই আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের উপনেতা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ওই আসনে আসনে কে হবেন নৌকার মাঝি, তা নিয়ে নগরকান্দা, সালথা ও কৃষ্ণপুরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর মধ্যে অনেক নেতাকে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে।

দলীয় মনোনয়ন চেয়ে যারা আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখিত ও আলোচিত জায়গায় রয়েছেন প্রয়াত সাজেদা চৌধুরী দুই ছেলে নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আয়মন আকবর ওরফে বাবলু চৌধুরী ও শাহদাব আকবর চৌধুরী ওরফে লাবু।

ওই আসনে অন্য যারা দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন- আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, ফরিদপুর জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান জুয়েল, নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মেজর (অব.) আতমা হালিম, সাব্বির হোসেন, নগরকান্দার চর যশোহরদী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ মিয়া, জেলা মৎসজীবী লীগের আহ্বায়ক আব্দুস সোবহান, নগরকান্দার শশা গ্রামের বাসিন্দা বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা এয়ার কমোডোর (অব.) কাজী দেলোয়ার হোসেন, ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাংবাদিক লায়েকুজ্জামান ও নগরকান্দা সদরের চৌমুখা মহল্লার বাসিন্দা কালাচাঁদ চক্রবর্তী।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চেয়ে ১৪ জন নেতার আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।
 
গত ২৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন। ইভিএম পদ্ধতিতে এ উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। তফসিল অনুযায়ী মানোনয়নপত্র জমা আগামী ১০ অক্টোবর, বাছাই ১২ অক্টোবর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ১৯ অক্টোবর আর ভোটগ্রহণ হবে ৫ নভেম্বর।

ফরিদপুর-২   উপনির্বাচন   আওয়ামী লীগ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন