ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কাউন্সিলের দিকেই এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২১ শুক্রবার, ০৭:০০ পিএম
কাউন্সিলের দিকেই এগোচ্ছে আওয়ামী লীগ 

আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা নেই। তবে আওয়ামী লীগ যে এখন রাজনৈতিক কর্মসূচি সীমিত আকারে করছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে, চলতি মাসের শেষ দিকে করোনার সংক্রমণ কিছুটা কমলে আওয়ামী লীগ আকস্মিকভাবে তাদের জাতীয় কাউন্সিল করবে এবং কাউন্সিলের দিকে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ধাবিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি`র কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র বক্তৃতা-বিবৃতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করোনার কারণে স্থগিত। বড় ধরনের কোনো সভা-সমাবেশও করা যাচ্ছে না। আর আওয়ামী লীগের ভেতর অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নানা সমস্যা ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছে।  

ক`দিন আগে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ঢাকা দক্ষিণের এক বৈঠকে দলের কমিটি এবং পদ বাণিজ্য নিয়ে খোলামেলা কথাবার্তা বলেছেন। টাকার বিনিময়ের পদ পাওয়াদের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য তৃণমূলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিভিন্ন মহল, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ মির্জা আজমের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত। এছাড়াও আওয়ামী লীগ কক্সবাজার, ময়মনসিংহ, মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং তারা ঐ সমস্ত এলাকাগুলোতে তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছেন এবং সংগঠন গোছানোর কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়েও এখন কাজ চলছে। যে সমস্ত কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে বা যে সমস্ত কমিটিগুলো অকার্যকর সেগুলোকে সরিয়ে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করছে। আর এই সব কিছুকেই দেখা হচ্ছে আগামী সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সাধারণত একটি সম্মেলন হলে তার থেকে তিন বছরের আগে নতুন সম্মেলন হয় না। কিন্তু আওয়ামী লীগ ২০২৩-২৪ এর নির্বাচন এবং সংগঠনের নাজুক অবস্থাকে মাথায় রেখে আগাম সম্মেলন করছে।

আওয়ামী লীগের আগাম কাউন্সিলের কারণ হিসেবে আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন যে, সংগঠনে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। দলের ভেতর কোন্দল বেড়েছে। অনুপ্রবেশকারীরা দাপট দেখাচ্ছে। সর্বোপরি চেইন অফ কমান্ড নষ্ট হয়ে গেছে। আর এ কারণেই তারা মনে করছেন যে কাউন্সিল যত তাড়াতাড়ি করা যায় তত দল গোছানো সহজ হবে। আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দ্বিতীয়বারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু একাধিক কারণে আওয়ামী লীগে তার যে নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব এবং জনপ্রিয়তা তা খুন হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো অসুস্থতা। অসুস্থতার কারণে তিনি কোথাও যেতে পারছেন না। শুধুমাত্র ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য বিবৃতি দিয়েই তিনি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। 

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন যে, দলের সাধারণ সম্পাদক হলো আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা। তাকে ঘিরেই সংগঠন পরিচালিত হয়। তিনি যদি শুধু ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তৃণমূলের সমস্যাগুলো নিয়ে কথাবার্তা না বলেন তাহলে সংগঠন দুর্বল হতে বাধ্য। তবে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলছেন যে, দলের সাধারণ সম্পাদকের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বসুরহাটে তার ভাই কাদের মির্জা ইস্যু। সাম্প্রতিক সময়ে কাদের মির্জা ইস্যু সমাধানের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের। তাকে বাড়িতে ডেকেছিলেন। তাদের মধ্যে ফুল বিনিময় হয়েছিল। কিন্তু কদিন পরেই আবার কাদের মির্জা উল্টো সুরে কথা বলতে শুরু করেন। 

কাদের মির্জা একাই ওবায়দুল কাদেরের যে বিতর্কহীন ভাবমূর্তি তা নষ্ট করেছেন বলে আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতারা মনে করেন। আর এরকম একটি পরিস্থিতিতে ওবায়দুল কাদের যে সারাদেশে আওয়ামী লীগের বিভক্ত, অনুপ্রবেশকারী এবং চেইন অফ কমান্ড ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন সেটিও সম্ভব হচ্ছে না। আর যে কারণেই মনে করা হচ্ছে যে, একজন নতুন সাধারণ সম্পাদক যিনি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করতে পারবেন, তার নেতৃত্বের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে হবে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছেন যে, আগামী কাউন্সিল নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০২৩-২৪ এর নির্বাচন অন্যরকম একটি নির্বাচন হবে। আর এই নির্বাচনের আগে সংগঠনকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।