ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শিক্ষকরা এখন রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছেন: মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২১ শনিবার, ০৭:০৪ পিএম
শিক্ষকরা এখন রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছেন: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষকরা চাকরি হারিয়ে এখন রিকশা-ভ্যান চালাচ্ছেন। পত্রিকায় পড়েছি সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিন্ডার গার্টেনও বন্ধ। এর একজন প্রিন্সিপাল নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ার-টেবিল বিক্রি করে ভাড়া পরিশোধ করে গ্রামের বাজারে গিয়ে চা বিক্রি করছেন। শিক্ষার চূড়ান্ত অপমান এ রকম করেই হচ্ছে। লজ্জা করে না-এই শিক্ষামন্ত্রীর? লজ্জা করে না এই সরকারের? 

শনিবার (১৯ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের এক মানববন্ধনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, শিক্ষকরা চাকরি হারিয়ে না খেয়ে মরেন, আর সরকার বসে বসে ডুগডুগি বাজায়! সরকারের মন্ত্রীরা বলে বেড়ায়-তারা নাকি উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে গেছেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, উন্নয়ন মানেই কি শুধু মগবাজার ফ্লাইওভার?

ডাকসু’র এই সাবেক ভিপি বলেন, শিক্ষকরা এখন ভ্যান গাড়ি চালায়, রিকশা চালায়, চা বিক্রি করেন-এর চেয়ে অপমানজনক ঘটনা দেশে আর কি হতে পারে! শিক্ষিত মানুষ যারা চাকরি হারিয়েছেন, যাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ। গ্রাম-গ্রামান্তরে অনেক মানুষ রয়েছেন এমন। বাংলাদেশে শিক্ষার চূড়ান্ত অপমান এখন এ রকমভাবে হচ্ছে। পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা অনেকেই ফেসবুকে লিখছেন-কচিকাঁচা, কিশোর-কিশোরিরা কেবল যৌবনে পা দিয়েছে, তারা অনলাইন ক্লাসের নামে, অনলাইন কাজের নামে ইন্টারনেটে ঢুকে আজ সমস্ত অশ্লীলতার মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে আমরা কি প্রজন্ম তৈরি করছি!

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক বলেন, যারা এতদিন ধরে বললেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল করেছি এগুলো সবই ফোর-টুয়েন্টি কথাবার্তা ছিল। তার প্রমাণ-অনলাইন পরীক্ষায় কোনো গার্ড নেই। কোনো পরিদর্শক নেই। যিনি পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি বই খুলে দেখে দেখে লিখছেন, তাকে চেক দেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা বহুবার বলেছি-এই সরকার দেশের ভোট নষ্ট করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের একেক জনের নামে দেড়শ থেকে দুইশ পর্যন্ত মামলা দিয়েছে এই সরকার। এসব মামলা দিতে তাদের (সংশ্লিষ্ট পুলিশের) অনেক বুদ্ধি খাটাতে হয়। কারণ গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে এ থেকে পাওয়া পয়েন্টের ভিত্তিতেই মামলা সাজাতে হয় পুলিশকে। আমি পুলিশের দোষ দেই না। কারণ পুলিশের সরদার তাকে যদি বলে মিথ্যা কথা না লিখলে চাকরি থাকবে না, তো সে কি করবে?

মানববন্ধনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সুশাসনের জন্য নাগরিক’র (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।