ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

এরশাদের গুপ্তধন: রওশনই আসল খেলোয়াড়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২১ বুধবার, ০৮:৫৯ পিএম
এরশাদের গুপ্তধন: রওশনই আসল খেলোয়াড়?

এরশাদের গুপ্তধন নিয়ে জাতীয় পার্টিতে এবং এরশাদ পরিবারের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই উত্তেজনায় রওশন এরশাদ কার, এই প্রশ্ন এসেছে। রওশন এরশাদ একদিকে যেমন জিএম কাদেরকে ফোন করে বলেছেন যে তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হতে আগ্রহী নন, তেমনি তিনি বিদিশা এরশাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। আর এর ফলে রওশন এরশাদ কোন পক্ষে যাবেন এ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু জাতীয় পার্টির ঘনিষ্ঠরা বলেন যে, রওশন এরশাদই হলেন আসল খেলোয়াড়। তিনি দুই পক্ষকে তার কর্তৃত্বে রেখেছেন। তিনি কারও পক্ষে নয়, তিনি নিজেই একটি পক্ষ। রওশন এরশাদ আসলে দুই পক্ষকে তার অনুগত রেখে এ গুপ্তধনের সন্ধান করতে চান। এ কারণেই রওশন এরশাদ কোনো পক্ষকেই সমর্থন দেয়নি। রওশন এরশাদের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি এরকমই। রওশন এরশাদ এরশাদের নানারকম অনিয়ম, পরকীয়া এবং অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের পরও এরশাদকে আঁকড়ে ছিলেন কৌশলগত কারণে।

রওশন এরশাদই একমাত্র যিনি এরশাদের সব কিছু নীরবে সহ্য করেছেন। তারপরও এরশাদের পাশে থেকেছেন। এরশাদের সুসময়, দুঃসময় সবচেয়ে সব সময় তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছেন। এরশাদ যখন বিদিশাকে বিয়ে করেছেন তখনও রওশন এরশাদ চুপ ছিলেন, কোন প্রতিক্রিয়া দেখাননি। যখন তার যে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার সেই সময় সে সিদ্ধান্ত তিনি ঠিকই নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ২০১৪ সালের নির্বাচনের কথা বলেন জাপা নেতারা। ওই নির্বাচনে এরশাদ যেতে চাননি। বিভিন্ন মহল তাকে টোপ দিয়েছিল এবং সেই টোপ পেয়ে তিনি এক পর্যায়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সকলে যেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে। তার এই কথায় জিএম কাদের সহ জাতীয় পার্টির অনেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন।

রওশন এরশাদ সে সময় সরকারের পক্ষে ছিলেন এবং সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেই জাতীয় পার্টির একটি অংশকে নির্বাচন নিয়ে গিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত এরশাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার বাতিল হয়ে যায়। এরশাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি শপথয় নেন। তখন থেকেই জাতীয় পার্টিতে রওশন এরশাদের একটি বড় অবস্থান ছিল এবং জাতীয় পার্টির অনেক নেতাই মনে করেন রওশন এরশাদের সে সময় রাজনৈতিক দূরদর্শিতা না থাকলে জাতীয় পার্টি এতদিন নিঃশেষিত হয়ে যেত। সেই সময়েই রওশন এরশাদ সংসদে বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হয়েছিলেন। শেষ দিনগুলোতে এরশাদের চেয়ে রওশন এরশাদকেই আস্থাশীল মনে করত সরকার এবং জাতীয় পার্টির বিভিন্ন মহল।

এরশাদ সব সময় পরিবর্তনশীল এবং নানা রকম চিন্তাভাবনা তার মাথায় খেলতে এবং সেই অনুযায়ী তিনি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। রওশন এরশাদ এমন ছিলেন না। রাজনীতিতে ক্যারিশমাটিক নেতা নন। কিন্তু পরিকল্পিত রাজনীতি এবং দলের সুবিধা কোনটাতে বেশি হবে এটা বোঝার ক্ষেত্রে তিনি শেষ দিনগুলোতে এরশাদকে হারিয়ে দিয়েছিলেন। কাজেই এই বাস্তবতায় এখন এরশাদের গুপ্তধন নিয়ে বিদিশা এবং জিএম কাদের মধ্যে যে বিতর্ক চলছে সেই বিতর্কে তিনি কোন পক্ষে যেতে চান না। কারণ রওশন এরশাদ খুব ভালো মত জানেন যে সরকার তার পক্ষে। তিনি যেদিকে যাবেন সেটি হবে আসল জাতীয় পার্টি এবং এরশাদের সম্পত্তির নোঙ্গর সেখানেই ভিড়বে। রওশন এরশাদ সবকিছু দেখছেন, সবকিছু বুঝছেন কিন্তু নীরবতা পালন করছেন। কারণ রওশন এরশাদ এই খেলায় তৃতীয় পক্ষ না, তিনি মূল পক্ষ।