ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কদর কমছে জনপ্রতিনিধিদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৫:৫৯ পিএম
কদর কমছে জনপ্রতিনিধিদের

নির্বাচনী প্রচারণার বাইরে দুটি ঈদ জনপ্রতিনিধিদের জন্য প্রচারণার সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। এই দুইটি ঈদকে ঘিরেই জনপ্রতিনিধিরা জনসংযোগ বাড়ান, বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মেলামেশা করেন এবং নানা রকম উপহার বিতরণ করে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেন। ঈদুল ফিতরে চলে ইফতার পার্টি। ইফতার পার্টির মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা জনসংযোগ করতেন। আর কোরবানি ঈদে পশু কোরবানি করা এবং গরীব মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করে তারা এলাকায় তাদের জনপ্রিয়তা জানান দিতে চাইতেন। কিন্তু গত চারটি ঈদে এরকম জনসংযোগ থেকে দূরে সরে গেছেন জনপ্রতিনিধিরা। করোনার কারণে অনেক জনপ্রতিনিধি এলাকায় ঈদ করছেন না। তারা ঈদ করছেন ঢাকায়। খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেছে যে, গত প্রায় দেড় বছরে ১০০ এর কম জনপ্রতিনিধি এলাকায় সক্রিয় ছিলেন, এলাকায় নিয়মিত গেছেন। বাকি জনপ্রতিনিধিরা ঢাকায় থেকেই এলাকার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন, এলাকার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। কিন্তু চারটি ঈদে জনপ্রতিনিধিদের অনেককেই পাওয়া যায়নি এলাকায়। কারণ সংগত করোনার প্রকোপ। কিন্তু এটির ফলে স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের কদর কমে যাচ্ছে।

এর আরেকটি কারণ রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সেই কারণটি হলো মাঠ প্রশাসনের প্রভাব বিস্তার। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় মাঠ প্রশাসনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অনুদান বা প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারও দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের মাধ্যমে। সেখানে জনপ্রতিনিধিরা শুধু অবহিত হচ্ছেন। মাঠ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, ঈদের অনুদান দেয়া হচ্ছে সেটাও করা হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে। যার ফলে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব এখন কমে গেছে। সরেজমিন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত এলাকায় রাজনীতিবিদরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তাদের এলাকায় এখনো কিছু কিছু প্রভাব আছে এবং তাদের নিজস্ব উদ্যোগে তারা ত্রাণ তৎপরতা, মানুষের মধ্যে উপহার সামগ্রী বিতরণ এবং জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে কিছু কিছু এলাকায় যেখানে রাজনীতিবিদরা এমপি সেখানে ব্যাপক ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে গত দেড় বছরে।

প্রশাসন যে ত্রাণ সাহায্য বা উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে তার চেয়ে রাজনীতিবিদ এমপিরা অনেক বেশি উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে। কিন্তু সেই সংখ্যা খুবই কম। যে সমস্ত নির্বাচনী এলাকায় এমপি ব্যবসায়ী থেকে হয়েছেন কিংবা আমলা থেকে হয়েছেন সে সমস্ত এলাকায় তাদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অনেক এলাকায় জনপ্রতিনিধির কথা ভুলতেই বসেছে স্থানীয় জনগণ। ফরিদপুরে একটি নির্বাচনী এলাকায় একজন আমলা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। ওই নির্বাচনী এলাকায় তার কোনো প্রভাব নেই বললেই চলে। তিনি করোনাকালীন সময়ে কোনো বিশেষ তৎপরতা চালিয়েছেন এমন কোনো খবরও পাওয়া যায় না। আবার পাশাপাশি ভোলায় একজন বিতর্কিত এমপি করোনাকালীন সময় অভাবনীয় ত্রাণ সাহায্য করেছেন। সম্প্রতি ওই এমপি`র বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

দেখা যায় যে, ব্যবসায়ীরা যে সমস্ত এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন সে সমস্ত এলাকায় তারা তাদের নিজস্ব লোকজনের মাধ্যমে কিছু ত্রাণ তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছেন কিন্তু তা প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষ পর্যন্ত পৌঁছছে না। অন্যদিকে এই সমস্ত এলাকাগুলোতে প্রশাসনই যেন সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে সামগ্রিক অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ৩০০ নির্বাচনী এলাকার ১০০ টির মতো নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব এখনো অক্ষুন্ন রয়েছে। বাকি নির্বাচনী ২০০ নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রভাব নেই বললেই চলে। জনপ্রতিনিধিরা যেন সাইডলাইনে বসে আছেন আর সব কাজ করছে প্রশাসন। এটির প্রভাব নির্বাচনের মাঠে পারতে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।