ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হেফাজতকে আবার উস্কে দিচ্ছে বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২১ সোমবার, ০৭:৫৯ পিএম
হেফাজতকে আবার উস্কে দিচ্ছে বিএনপি

হেফাজতের বিভিন্ন নেতাকে গ্রেপ্তার করার পর তাদেরকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এটা প্রমাণিত হয়েছে যে ২০১৩ এবং এ বছরের মার্চে হেফাজত যে সমস্ত তাণ্ডব এবং সহিংসতা করেছে তার পিছনে বিএনপির উস্কানি এবং মদদ ছিল। ‘২০১৩ সালে হেফাজত যে শাপলা চত্বরে কর্মসূচি পালন করেছিল সেই কর্মসূচি সফল করার জন্য বিএনপির শুধু মদদই দেয়নি টাকা দিয়েছিল। বিএনপির চেয়েছিল যে হেফাজতকে সামনে রেখে সরকার উৎখাত করার জন্য।’ হেফাজতের অন্তত ৫ জন নেতা রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এই তথ্য স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি এ বছরের মার্চে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে হেফাজত চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং ঢাকায় তাণ্ডব করেছে তার পেছনেও বিএনপি`র মদদ ছিল এবং উস্কানি ছিল। আর এই তথ্য-প্রমাণ নিয়েই যখন মামলাগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তখন আরো নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। আগামী আগস্ট মাসকে ঘিরে বিএনপি নতুন করে হেফাজতকে উস্কে দিতে চাইছে।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে, বিএনপি এখন হেফাজতকে সামনে রেখে আবার নতুন করে একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। আগস্ট মাস এলেই বিএনপি-জামায়াত নানারকম অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার একটা প্রক্রিয়া করে। প্রথম দিকে বিএনপি কেক কেটে বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে শোকের মাসের আবহ নষ্ট করতে চাইতো। এখন জঙ্গি, সন্ত্রাসী এবং উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীকে দিয়ে একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে এবং সেই চেষ্টার অংশ হিসেবেই হেফাজতকে নতুন করে উস্কে দিচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, হেফাজতের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন মহল যোগাযোগ করেছে এবং তারা হেফাজতকে বলার চেষ্টা করছে যে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করে হেফাজতের কোন লাভ হবে না। বরং হেফাজত নিঃশেষিত হয়ে যাবে। বরং মাদ্রাসা খুলে দেওয়া, আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি প্রদান সহ বিভিন্ন ইস্যুতে যদি হেফাজত আন্দোলন করে তাহলে সরকার চাপে পড়বে। আর এই আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। হেফাজতের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দকে এরকম আন্দোলনের জন্য যে অর্থ তা দেওয়ারও ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, বিএনপি এখন নিজে সরকার বিরোধী আন্দোলনে যেতে আগ্রহী নয় নানা বাস্তবতায়। প্রথমত, তাদের নেতৃত্ব শূন্যতা। দ্বিতীয়ত, তাদের নেতাকর্মীদের মধ্যে আড়ষ্টতা এবং আতঙ্ক। আর তৃতীয়ত, এতে তারা নতুন করে আক্রান্ত হতে পারে এরকম শঙ্কা। আর এরকম বাস্তবতায় বিএনপি-জামায়াত জোট চাইছে হেফাজতকে সামনে রেখে নতুন করে তাণ্ডব সৃষ্টি। এজন্য হেফাজতের বিভিন্ন নেতার সঙ্গে তারা দেনদরবার করছেন বলে জানা গেছে। তবে হেফাজতের অধিকাংশ নেতাই এখন আন্দোলনে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তারা মনে করছেন যে, মার্চের ঘটনার পর হেফাজতের বিপুল পরিমাণ নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং এই সমস্ত আটকের ঘটনা হেফাজতকে দুর্বল করে দিয়েছে। হেফাজতের অধিকাংশ নেতাই মনে করেন যে, এই সরকারের সঙ্গে সহবস্থান করে থাকলেই শেষ পর্যন্ত হেফাজতের লাভ হবে। বরং আন্দোলন-সংগ্রাম করলে হেফাজত নিঃশেষিত হবে। তারপরও হেফাজতের মধ্যে একটি উগ্রবাদী অংশ আছে যাদেরকে উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি।