ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জয়ই কি আওয়ামী লীগের পরবর্তী কাণ্ডারি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২১ সোমবার, ০৯:৫৯ পিএম
জয়ই কি আওয়ামী লীগের পরবর্তী কাণ্ডারি?

সজীব ওয়াজেদ জয় আগামীকাল ৫০ বছর পূর্ণ করবেন। বাংলাদেশের বয়সের সমান বয়স তার। আগামীকাল তার জন্মদিন, শুভ জন্মদিন। সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর ৫০ বছর পূর্ণ করছেন এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশ বিশ্বে অনুকরণীয় একটি রাষ্ট্র হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছে তার মা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। যখন জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, অর্থনৈতিক মুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সোনার বাংলা এখন দৃশ্যমান। আর সেটি সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং নেতৃত্বের কারণে। কিন্তু বাংলাদেশের এই ৫০ বছরের অভিযাত্রায় নানারকম টানাপোড়েন, ঘাত-প্রতিঘাত ছিল। ৭৫ এর ১৫ই আগস্টের পর ২১ বছর বাংলাদেশ ছিল গণতন্ত্রহীন, মানবাধিকার ছিল বুটের তলায় পিষ্ট, মানুষের মৌলিক অধিকার ছিলনা, উন্নয়নের কোন স্বপ্ন ছিল না, মানুষ স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছিল। এরকম একটি অবস্থা থেকে দেশকে ধাপে ধাপে আজকের অবস্থানে এসেছেন শেখ হাসিনা।

কিন্তু এই ৫০ বছরের দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জনগণের সামনে প্রথম প্রশ্ন যেটি সেটি হলো শেখ হাসিনার পর কে? বারবার এই উত্তর এই প্রশ্নের উত্তরে এক ধরনের অনিশ্চয়তা এবং কঠোর বাস্তবতা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন শেখ হাসিনার কোন বিকল্প নেই। এটাই বাস্তব, এটাই সত্যি। পাশাপাশি এটাও সত্যি যে, শেখ হাসিনার পরে যদি যোগ্য নেতৃত্বের হাতে আওয়ামী লীগ এবং যোগ্য নেতৃত্বের হাতে বাংলাদেশ না পড়ে তাহলে এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা আবার মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, আবার বাংলাদেশে ফিরে যেতে পারে সেই অন্ধকার টানেলে। আর সেজন্য সবার কাছেই একটি উদ্বেগের প্রশ্ন, শেখ হাসিনার পর কে? আর এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই অনেকেই সজীব ওয়াজেদ জয়ের নাম উচ্চারণ করেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় হলেন বাংলাদেশের এক অনুচ্চারিত তারুণ্যের জাগরণের নাম। যে ডিজিটাল বাংলাদেশের উপর ভর করে করোনাকালে বাংলাদেশ আজ সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে পারছে, সেই ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রবক্তা হলেন সজীব ওয়াজেদ জয়। সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরেই বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজ নূতন উদ্দীপনায় তথ্যপ্রযুক্তিতে যোদ্ধা হয়ে উঠছে এবং বিশ্বে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের মেধা মননের এক পথিকৃৎ। সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের তারুণ্যের অহংকার। আর এ কারণেই অনেকেই মনে করেন যে, একটা পর্যায়ে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি হবে তখন সজীব ওয়াজেদ জয়ই হয়তো আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হবেন। তার হাতেই হয়তো আওয়ামী লীগ নতুন অভিযাত্রায় এগিয়ে যাবে। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয় কি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নেবেন কিনা তা নির্ধারিত নয়।

আওয়ামী লীগ এমন একটি রাজনৈতিক দল যা পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। বরং আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা এবং অভিপ্রায়ের আলোকেই নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। যেমন- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দীর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নেতৃত্বের আসনে উঠে এসেছিলেন শুধুমাত্র নেতাকর্মী এবং জনগণের ভালোবাসায়। শেখ হাসিনাও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আকাঙ্ক্ষা থেকেই। এক ধরনের গণদাবীর মুখেই ক্ষয়িষ্ণুমান আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব নিয়েছিলেন। সেই রকম ভাবেই সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন কি আসবেন না সেটি নির্ভর করবে নেতাকর্মী এবং জনগণের উপর। কিন্তু জয় যে আওয়ামী লীগের একজন ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হবেন এ নিয়ে কারও কোনো সন্দেহই নেই।