ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঢাকা মহানগর কমিটি বিতর্ক: বিএনপিতে গণপদত্যাগের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২১ বুধবার, ০৯:৫৯ পিএম
ঢাকা মহানগর কমিটি বিতর্ক: বিএনপিতে গণপদত্যাগের শঙ্কা

বিএনপি থেকে বিতর্ক যাচ্ছেই না। দুদিন আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণ এর নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরা ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান এবং দক্ষিণে আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এই কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপিতে এখন তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রথমত, বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দরা মনে করছেন যে, এই কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের কোন পরামর্শ গ্রহণ হয়নি, তাদের কোন মতামত নেয়া হয়নি। বিশেষ করে মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মধ্যে ঢাকাকেন্দ্রিক নেতারা এই কমিটির ব্যাপারে অন্ধকারে ছিলেন। কিছুদিন ধরে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে তারেক জিয়ার মনোমালিন্য চলছিল। মির্জা আব্বাসকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছিল। আবার এখন যখন ঢাকার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয় তখন মির্জা আব্বাস ও তার স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মত নেতাদেরকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। এটা বিএনপির সিনিয়র নেতারা মেনে নিতে পারছেন না। 

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, স্থায়ী কমিটিকে যদি পাশ কাটিয়ে এরকম গায়েবী কমিটি দেওয়া হয় তাহলে দল কাজ করবে কিভাবে। তাহলে দলের কর্মীরা স্থায়ী কমিটির সদস্যদের কর্মীরা মানবেই বা কিভাবে। আর এ কারণে বিএনপি`র সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অভিমান বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, বিএনপির মধ্যে ক্ষোভ বেড়েছে যে যারা দলের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতা-কর্মী আছেন তাদেরকে মূল্যায়ন করা হয়নি। এই মূল্যায়ন করার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিতে আলোচনা হচ্ছিল। বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং পরবর্তীতে যে উপনির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই উপনির্বাচন গুলোতেও যতক্ষণ পর্যন্ত বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল ততক্ষণ পর্যন্ত দলের ত্যাগী পরীক্ষিত নেতাদের অনেকেই মনোনয়ন পাননি।টাকা দিয়ে মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল বেশি। এ নিয়ে বিএনপির নেতারা প্রকাশ্য কথা বলেছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে লন্ডন থেকে যে কমিটিগুলো আসছিল প্রত্যেকটা কমিটি টাকার বিনিময় হচ্ছে এমন গুঞ্জন বিএনপিতে সব সময় ছিল। এখন যখন ঢাকা মহানগরীর কমিটি ঘোষণা করা হল তখন এই গুঞ্জন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে এবং বিএনপিতে এখন সরাসরি আলোচিত হচ্ছে যে কে কত টাকা দিয়ে এই কমিটিতে ঢুকেছেন। তৃতীয়ত, যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে এবং যারা কমিটিতে আছেন তাদের অনেকেই নেতৃবৃন্দ চেনেও না। আবার অনেকেই অভিযোগ করছেন যে, আমান উল্লাহ আমান হলেন কেরানীগঞ্জের, তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা উত্তরের। এভাবে দলকে কেমন করে চলবে সে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। এই ঢাকা মহানগর কমিটির মাধ্যমে বিএনপিতে দীর্ঘদিনের যে হতাশা, ক্ষোভ পুঞ্জীভূত আকার ধারণ করেছে। বিএনপির মধ্যে একটি বড় অংশ মনে করছে যে সম্মান নিয়ে বিএনপি থেকে সরে পড়াই ভাল। এমনকি তালিকায় স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনজন সদস্য রয়েছেন। বিএনপিতে এই লকডাউনের মধ্যেও নেতারা তাদের বাসায় বাসায় বৈঠক করছেন। এসব বৈঠকে ঢাকার কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। আর এই সমস্ত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে যেকোনো সময়। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, বিএনপিতে গণপদত্যাগের ঘটনা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বিষয়: বিএনপি